fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মালদায় সাপের বিষ সহ গ্ৰেফতার আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের ২ পান্ডা

মিল্টন পাল, মালদা: পাচারের পথে কোটি টাকার সাপের বিষ সহ আর্ন্তজাতিক পাচার চক্রের দুই পান্ডা গ্রেফতার। গ্রেফতার করেছে সিআইডি ও বামনগোলা থানার পুলিশ। ফ্রান্সের তৈরি বুলেটপ্রুফ কাঁচের জারবন্দী অবস্থায় ছিল সাপের বিষ। শুক্রবার দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ বামনগোলা থানার পাকুয়াহাট পেট্রোল পাম্প এলাকার রাস্তায় অভিযান চালিয়ে একটি চার চাকার গাড়ি সহ ওই দুই পাচারকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ ও সিআইডি কর্তারা। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বুলেটপ্রুফ জারবন্দী ৬০০ গ্রাম সাপের বিষ। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত দুই পাচারকারী নাম মোহাম্মদ কালাম ওরফে আলম মিঞা (৩২) এবং মসফিক আলম (২৯)। ধৃত দুই জনের বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর থানার চাঁদডারা এলাকায়। গঙ্গারামপুর থেকেই গোপনে ওই চার চাকার গাড়ি নিয়েই সাপের বিষ পাচার করার লক্ষ্যে ধৃত দুইজন মালদায় আসছিল। কিন্তু তার আগেই গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বামনগোলা থানার পুলিশ এবং সিআইডি কর্তারা সাদা পাকুয়াহাট পেট্রোল পাম্পের কাছে ওই গাড়িটি দাঁড় করায়। এবং গাড়িটি তল্লাশি চালিয়ে কাঁচের জারবন্দি ৬০০ গ্রাম সাপের বিষ উদ্ধার করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যে পাত্রে সাপের বিষ মজুত করা ছিল, সেটি বুলেটপ্রুফ কাঁচের জার। সেই জারে কাঁচের একটি স্টিকারে “মেড ইন ফ্রান্স” উল্লেখ করা রয়েছে এবং একটি কোড নম্বর দেওয়া রয়েছে। তার থেকেই পুলিশ এবং সিআইডি কর্তাদের প্রাথমিক অনুমান, ওই জারটি সম্ভবত ফ্রান্সের তৈরি। কিন্তু এত উন্নত মানের জার কিভাবে পাচারকারীদের কাছে এলো এবং এরা কোথা থেকে এত বিপুল পরিমাণ সাপের বিষ জোগাড় করলো তানিয়েও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও সিআইডি কর্তারা।

পুলিশ ও সিআইডি কর্তাদের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, রীতিমত সাপের বিষগুলি প্রাথমিক স্তরে গুঁড়ো পাউডারের মতোন তৈরি করা হয়েছে। এটি হয়তো সীমান্তের ওপারে পাচার করার পরিকল্পনা ছিল ধৃতদের। যেহেতু বামনগোলা থানা এলাকাটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী । কাজেই পাচারকারীদের দল এই সীমান্ত এলাকা থেকেই হয়তো পাচার করার জন্য বেছে থাকতে পারে। কিন্তু ধৃতদের পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছে পুলিশ এবং সিআইডি কর্তারা।

পুলিশের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, গত দেড় বছর আগেও একই ভাবে মালদার কালিয়াচক থেকে বিপুল পরিমাণ সাপের বিষ উদ্ধার হয়েছিল। ঠিক একই কায়দায় এরকমই বুলেটপ্রুফ জারে করে কোথাও পাচার করার পরিকল্পনা নিয়েছিল সেই সময় ধৃতেরা। বারবার কেন সাপের বিষ পাচারের ক্ষেত্রে মালদা সীমান্তকে বেছে নেওয়া হচ্ছে, সে ব্যাপারেও চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছে তদন্তকারী পুলিশ ও সিআইডি কর্তারা।

পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানান, জার বন্দী ৬০০ গ্রাম সাপের বিষ সহ দুই পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের মাধ্যমে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। ঘটনার নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close