fbpx
আন্তর্জাতিকহেডলাইন

রাজনৈতিক সঙ্কট, সরকার বিরোধী বিক্ষোভের মুখে লেবাননে পদত্যাগ দুই মন্ত্রীর

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: সরকার বিরোধী উত্তাল বিক্ষোভের মুখে লেবাননের মন্ত্রীরা পদত্যাগ করেছেন। বেইরুটে ভয়াবহ বিস্ফোরণে সরকারের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে তথ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটির পরিবেশমন্ত্রীও পদত্যাগের ঘোষণা দেন।বেইরুটে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনার জেরে লেবাননে রাজনৈতিক সঙ্কট ক্রমশই ঘণীভূত হচ্ছে। রবিবার কয়েক ঘন্টার ব্যবধানেই বিস্ফোরণ রুখতে সরকারি ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করেছেন দেশের তথ্যমন্ত্রী মানাল আবদেল সামাদ ও পরিবেশ মন্ত্রী দামিয়ানোস কাত্তার। দুই মন্ত্রীর পদত্যাগের ফলে যথেষ্টই চাপে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন লেবাননের কয়েক হাজার নাগরিক।

সংবাদ সম্মেলনে মানাল আবদেল সামাদ জানান, জনগণের পরিবর্তনের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, বৈরুতে বিশাল বিপর্যয়ের পর আমি সরকার থেকে পদত্যাগ করেছি। আমি লেবাননের জনগণের কাছে ক্ষমা চাই। আমরা তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। তথ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের কয়েক ঘন্টার মধ্যে ইস্তফা দেন পরিবেশ মন্ত্রী দামিয়ানোস কাত্তার। প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কাত্তারের পদত্যসাগে কিছুটা হলেও হতচকিত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। সূত্রের খবর, ঘনিষ্ঠ পরিবেশমন্ত্রী যাতে পদত্যাগ না করেন, সেই চেষ্টা চালিয়েছিলেন হাসান দিয়াব। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হঠানো যায়নি কাত্তারকে।

৪ আগস্টের ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে লেবানন। রাজপথে নেমে সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থার জানান দিচ্ছে জনগণ। ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণের জন্য সরকারের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছে তারা। এরইমধ্যে সংকট উত্তরণে আগামী ১০ বছরের জন্য লেবাননের কর্তৃত্ব ফ্রান্সের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে একটি পিটিশন খোলা হয়েছে। ইতিমধ্যে এতে স্বাক্ষর করেছেন প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে গত শনিবার আগাম নির্বাচনের ডাক দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব। এর একদিনের মাথায় রবিবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন সরকারের প্রভাবশালী দুই মন্ত্রী।

আরও পড়ুন: একের পর এক দুর্যোগে বন্দি গোটা বিশ্ব, পাকিস্তানে বন্যায় মৃত ৫০

গত ৪ অগস্ট বেইরুট বন্দর এলাকার গুদামে রাখা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় রবিবার পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ১৫৮ জন। আহত হয়েছেন ছয় হাজারের বেশি মানুষ। আর গৃহহীন হয়েছেন তিন লক্ষেরও বেশি বাসিন্দা। কার্যত বেইরুটের অধিকাংশ এলাকাই বিস্ফোরণে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। বিস্ফোরণের পর থেকেই দেশের প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াবের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। শনিবার বিদেশ মন্ত্রণালয় সহ বেশ কয়েকটি সরকারি অফিসে হামলা চালায় সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীরা। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে ৬৫ জনের মতো বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। পুলিশের এক আধিকারিকেরও মৃত্যু হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস চালাতে হয় পুলিশকে।

Related Articles

Back to top button
Close