fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

প্রতিমা গড়া দেখতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ২ জনের, শোকস্তব্ধ গোটা গ্রাম

তারক হরি, পশ্চিম মেদিনীপুর: মাটির প্রলেপর কাজ সবে শেষ হয়েছে।পূজোর শেষ ফিনিসিং টাচের তোড় জোড় চলছে জোর কদমে। এ সপ্তাহেই কাপড় পরিয়ে রঙের কাজ শেষ। আর তার আগেই কেমন হচ্ছে ঠাকুর গড়া তাই দেখতেই ছুটে গিয়েছিল এক কিশোর, কিশোরী। যা এক অমোঘ নেশা। কিন্তু.. আর ফিরল না তারা, ঠাকুর দেখাও নিভে গেল চির জীবনের মতো, বিদ্যুতের ছোবলে প্রান হারাল তারা। এমনই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকস্তব্ধ লালগড়ের বামাল গ্রামের বাসিন্দারা। ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়গ্রাম জেলার লালাগড় ব্লকের ধরমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বামাল গ্রামে। পুজোর আনন্দের আগেই বিষাদের সুরে অন্ধকার নেমে এসেছে গ্রামে, এখন শুধুই হাহাকার। জানা গিয়েছে যে,  বামাল গ্রামের পুজো বামালশিনী সর্বজনীন দুর্গোৎসব নামে পরিচিত। এবার করোনা আবহে নম নম করেই পুজার আয়োজন করা হচ্ছিল। নিয়ম মেনেই মন্ডপে ঠাকুর তৈরির কাজ চলছিল, সপ্তাহের চারটি দিন কোনও মতে পুজো করা হবে এমনটাই ঠিক হয়েছে। বামাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংলগ্ন মাঠেই স্থায়ী বেদী রয়েছে। সেই বেদীতেই কাঠামো করে দেবীর নির্মাণ কাজ চলছিল। মাত্র ক’দিন বাদেই পুজো তাই কাজ চলছিল দিন রাত। রাতে কাজ করার জন্য মন্ডপের কাছাকাছি একটি বাড়ি থেকে অস্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছিল। আলো জ্বালানোর জন্য মন্ডপের লোহার গ্রিলের মধ্যে দিয়েই তার নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেই সংযোগ।

[আরও পড়ুন- স্পেশ্যাল ট্রেনে সাধারণ যাত্রীর সফরে বাধা দেওয়ায় রণক্ষেত্রের চেহারা নিল লিলুয়া]

অনুমান করা হচ্ছে যে,  রাহুল আর সুমিত্রা নামে দুই কিশোর ও কিশোরী ঠাকুর গড়া দেখতে গিয়েই সেই গ্রিলে হাত রাখতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে। ঘটনার সময় বেদীর কাছাকাছি কেউ ছিলনা। কিছুক্ষন পরে অন্য একটি ছেলে ঠাকুর গড়া দেখতে গিয়ে লোহার গ্রিলের সঙ্গে লেপ্টে থাকতে দেখে এবং দৌড়ে গিয়ে স্কুল মাঠের মোড়ে বসে থাকা গ্রামবাসীদের বিষয়টি জানান। গ্রামবাসীরা ছুটে এসে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং তাদের দুজনকে উদ্ধার করে লালগড় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। চিকিৎসকেরা তাদের মৃত বলে ঘোষণা করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে মৃত কিশোরের নাম রাহুল পাত্র। বয়স ১১, রাহুল লালাগড় রামকৃষ্ণ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র। মৃত কিশোরীর নাম সুমিত্রা সিং। বয়স ১২।  সুমিত্রা বামাল এমএসকে বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। দুটি হতভাগ্য নিষ্পাপ কিশোর কিশোরীর অকাল মৃত্যুতে শোকের আবহ পুরো গ্রামেই। হাহাকারে ফেটে পড়েছে দুটি পরিবার।

 

Related Articles

Back to top button
Close