fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মেদিনীপুর সংশোধনাগার থেকে পালিয়ে গেল বিচারাধীন দুই বন্দি, জেলাজুড়ে পুলিশের নাকা চেকিং

তারক হরি, পশ্চিম মেদিনীপুর: একেবারে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে গেল মেদিনীপুর জেল বা কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার থেকে পালিয়ে গেল বিচারাধীন দুই আসামি। সোমবার বিকেলের এই ঘটনায় রীতিমত তোলপাড় শহর। গোটা মেদিনীপুর শহর ও তার আশেপাশের থানা গুলিকেও সতর্ক করা হয়েছে। পুলিশ নাকা চেকিং চালিয়েছে অনেক রাত অব্দি কিন্তু এখনোও পলাতক বন্দির কোনো খোঁজ মেলেনি।

জেল সূত্রে জানা গিয়েছে একজনের নাম মিঠুন দাস, বয়স ৩৫,  বাড়ি বারাসতের নিবেদিতা পল্লী এলাকায়। অন্যজন মনোজিৎ বিশ্বাস ওরফে রাজু বয়স ৩১, বাড়ি কলকাতার উল্টোডাঙ্গা বাসন্তী কলোনির বাসিন্দা। দুজনেই একটি খুনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। দুইজন প্রথমে বারাসত ও পরে দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে সাজা খাটছিল।দুজনকে নিয়ে আসা হয় মেদিনীপুর সংশোধনাগারে।

 

সোমবার নিয়ম মত অন্য বন্দীদের মধ্যে বিকেল বেলায় জেল চত্বরের মধ্যেই ছাড়া ছিল ওই দুই বন্দি। সন্ধ্যা ছটা নাগাদ নাম ডেকে সংখ্যা মিলিয়ে তাদের নিজ নিজ সেলে পাঠানো হয়। এই দুই বন্দির নাম ডেকে সংখ্যা গোনার সময় দুজন মিসিং বলে জানতে পারে জেল কর্তৃপক্ষ।

দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে গোলমালের পরেই জেল কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু বন্দিকে স্থানান্তরিত করেছিল। তার মধ্যে ছিল এরা দুজন। মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার সূত্রে জানা গেছে এই দুজন এসেছিল ব্যারাকপুর আদালতের নির্দেশে। পিছনের দেওয়াল টপকে এরা পালাতে সক্ষম হয়েছে।

ভেতরের অংশে একটি লোহার বাঁকানো রড মিলেছে, সেই রড ব্যবহার করা হয়েছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকার প্রাচীর লাগোয়া বেশ কয়েকটি গাছ রয়েছে, সেই গাছগুলি ব্যবহার করা হয়েছিল কি? তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অথচ প্রাচীরের সমস্ত প্রান্তেই রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার, সেখান থেকে সবসময়ই নজরদারি চালান সিভিক ভলেন্টিয়াররা,তাদের নজর এড়িয়ে কিভাবে এই ঘটনা ঘটলো তারও প্রশ্ন উঠছে।

ইতিমধ্যেই তাদের পালানোর খবর চাউর হতেই কোতোয়ালি থানা ও জেলা পুলিশের বিশাল বাহিনী ঘটনার তদন্তে নেমেছে। জেল কর্তৃপক্ষের সাথে এই বিষয়ে কথাবার্তা বলছেন তারা। পালিয়ে যাওয়া দুই বন্দির ছবি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে জেলা পুলিশ। কীভাবে তারা পালিয়ে গেল বা তাদের পালিয়ে যাওয়াতে কেউ সাহায্য করেছে কিনা সে ব্যাপারেও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মেদিনীপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড  ও স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় পুলিশের নজরদারি শুরু হয়েছে। যদিও এই বিষয় নিয়ে মুখ খুলতে চাননি জেল কর্তৃপক্ষ।

Related Articles

Back to top button
Close