fbpx
আন্তর্জাতিকহেডলাইন

মুসলিমদের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে ফ্রান্সকে পূর্ণ সমর্থন UAE, মিশরের

দুবাই ও কায়রো, সংবাদ সংস্থা: ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের উৎস ইসলাম’, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরনের এমন মন্তব্য বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। কিন্তু তা উপেক্ষা করে ফরাসি প্রেসিডেন্টের পাশে দাড়িয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও মিশর। এক সাক্ষাতকারে আমিরশাহির বিদেশ প্রতিমন্ত্রী আনোয়ার গারগাস জানিয়েছেন, ‘মুসলিমদের উচিত ম্যাক্রোঁর বক্তব্য ভালোভাবে শোনা।’ অন্যদিকে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের ইসলাম অবমাননাকর বক্তব্যের সমালোচনা করার কারণে মিশরের একটি মসজিদের ইমামকে আটক করেছে সেদেশে পুলিশ।

জার্মান সংবাদমাধ্যমকে দেয়া এক বক্তব্যে আমিরশাহির বিদেশ প্রতিমন্ত্রী আনোয়ার গারগাস বলেন, ‘ম্যাক্রোঁর বক্তব্য ভালোভাবে শোনা উচিত। তিনি পশ্চিমা বিশ্ব থেকে মুসলমানদের তাড়িয়ে দিতে চাননি এবং তিনি ঠিকই বলেছেন। তাছাড়া রাষ্ট্র হিসেবে ফ্রান্সের চরমপন্থা এবং সামাজিক প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অধিকার রয়েছে।’ অন্যদিকে, গত শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবায় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরনের ইসলাম অবমাননাকর বক্তব্যের সমালোচনা সোমবার মিশরের পুলিশ নিজ দেশের মসজিদের ইমামকে আটক করেছে। সূত্রের খবর, মিশরের উত্তরাঞ্চলীয় আলেক্সান্দ্রিয়া প্রদেশের একটি মসজিদের ইমামতি করেন আহমাদ হাম্মাম। তাঁর বিরুদ্ধে জনগণকে হিংসা এবং সন্ত্রাসবাদে উসকানি দেয়ার অভিযোগ আনা এনেছে মিশরের ওয়াকফ মন্ত্রক। এমনকি, হাম্মামকে বরখাস্ত করার পাশাপাশি তিনি যাতে আর কোনো মসজিদের ইমামতি করতে না পারেন সে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মিশরের ওয়াকফ মন্ত্রী মোহাম্মাদ মোখতার জুমা।

উল্লেখ্য, ফ্রান্সে সম্প্রতি ক্লাসে শিক্ষার্থীদের বাক-স্বাধীনতা বোঝানোর নামে হজরত মুহাম্মদের এর ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন প্রদর্শন করেন একজন স্কুল শিক্ষক। পরে ওই শিক্ষককে আবদুল্লাখ আনজোরভ নামে এক ব্যক্তি হত্যা করে। ওই স্কুল শিক্ষক নিহত হওয়ার পরপরই পুলিশ আনজোরভকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ওই কার্টুন প্রকাশকে বাক-স্বাধীনতা বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ফ্রান্সে এ ধরনের কার্টুন প্রকাশ অব্যাহত থাকবে। পরে ফ্রান্সের দু’টি সরকারি ভবনে প্রজেক্টরের মাধ্যমে বড় করে সেই বিতর্কিত ছবি দেখানো হয়। এরপরই ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা মুসলিম বিশ্বে। হজরত মুহাম্মদকে অপমানের জবাবে শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ। দেশে দেশ ছড়িয়ে পড়ে ফ্রান্স বয়কটের ডাক। এমনকি, ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের দাবিও ওঠে অনেক জায়গায়। বিক্ষোভের আঁচ পেয়ে আসরে নামেন রাষ্ট্রপুঞ্জের ধর্মীয় স্থাপনার সুরক্ষা ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতা বিষয়ক সংস্থার প্রধান মিগুয়েল এঞ্জেল মোরাটিনস। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ‘ওইসব ব্যঙ্গচিত্রের পুনঃপ্রকাশ বিশ্বের বহু মুসলমানের জন্য অপমানজনক ও ভয়াবহ আক্রমণাত্বক। কেননা, ধর্ম ও পবিত্র ধর্মীয় প্রতীকগুলোর অবমাননা ঘৃণা উসকে দেয় এবং সহিংস উগ্রবাদ সমাজকে মেরুকরণ ও খণ্ডিত হওয়ার দিকে ঠেলে দেয়।’

Related Articles

Back to top button
Close