fbpx
খেলাহেডলাইন

অপ্রতিরোধ্য! ষষ্ঠবারের জন্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতল বায়ার্ন

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: অপ্রতিরোধ্য! পিএসজি-কে হারিয়ে ইউরোপ সেরা বায়ার্ন মিউনিখ। একেবারে জমজমাট, হাড্ডাহাড্ডি এবং উপভোগ্য। আর এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসল বায়ার্ন মিউনিখ। কিংসলে কোম্যানের একমাত্র গোলে প্যারিস সাঁ জাঁ-কে হারিয়ে ষষ্টবারের জন্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগ  জিতল বায়ার্ন মিউনিখ।

রবিবার লিসবনে ফাইনালে নামার আগে চেলসি, বার্সেলোনা এবং লিয়ঁকে একপ্রকার দুরমুশ করে এসেছিল বায়ার্ন । চেলসি, বার্সার মতো ক্লাবকে ৭-১ বা ৮-২ গোলের ব্যবধানে হারানোটা চাট্টিখানি কথা নয়। সেমিফাইনালেও তাঁরা জিতেছিল ৩-০ গোলে। অন্যদিকে, পিএসজির ফাইনালে ওঠার পথ এতটা মসৃণ ছিল না। তাছাড়া ফাইনালে ওঠার আগে পর্যন্ত তেমন বড় দলের বিরুদ্ধে খেলতেও হয়নি নেইমারদের। আর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেও প্যারিসের দলটির থেকে অনেকটাই এগিয়ে ছিল মিউনিখের দলটি। কারণ, এই প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল খেলল পিএসজি। আর বায়ার্ন ইতিমধ্যেই ৫ বার এই টুর্নামেন্ট জিতে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই রবিবারের ফাইনালের আগে বায়ার্নকে নিয়েই বাজি ধরছিলেন অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ। তবু, নেইমার, এমবাপে, ডি মারিয়াদের নিয়ে স্বপ্ন দেখছিল প্যারিস।

নতুন ইতিহাস লেখা হল না পিএসজি-র। অন্যদিকে ১৯৭৪, ১৯৭৫, ১৯৭৬, ২০০১ ও ২০১৩ সালের পর আবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে নিল বায়ার্ন মিউনিখ। বুন্দেশলিগা, জার্মান কাপের পর এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চ্যাম্পিয়ন-ত্রিমুকুট জয় বায়ার্ন মিউনিখের। খেতাব জয়ের নিরিখে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে যৌথভাবে লিভারপুলের সঙ্গে তৃতীয় স্থানে উঠে এল বায়ার্ন। সবচেয়ে বেশিবার খেতাব জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ(১৩)। আর সাতবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে দু নম্বরে আছে এসি মিলান।

আরও পড়ুন: প্রয়াত অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র চিত্তে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন প্রধানমন্ত্রী মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহের

সেই নেইমার, এমবাপেরাই শেষপর্যন্ত ডুবিয়ে দিল বায়ার্নকে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে যে পরিমাণ সুযোগ তাঁরা নষ্ট করলেন, তাতে আর যাই হোক বায়ার্নের মতো দলের বিরুদ্ধে জেতা সম্ভব নয়। প্যারিস সা জাঁ যতগুলি সুযোগ তৈরি করেছিল, তার সিকিভাগ কাজে লাগাতে পারলেও হয়তো অন্যরকম হত খেলার ফল। কিন্তু নেইমার প্রথমার্ধের মিনিট সতেরোর মাথায় একেবারে সহজ সুযোগ মিস করলেন। এমবাপে আবার প্রায় পেনাল্টি স্পট থেকে একটি গোল মিস করেছেন। দ্বিতীয়ার্ধে ডি মারিয়াও কোনাকুনি শটে বল জালে জড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। সেটাও কাজে লাগাতে পারলেন না। এছাড়া ছোটখাট চান্স, হাফচান্স তো ছিলই। কিন্তু কোনও কিছুই বায়ার্নের জালে জড়াতে পারেনি পিএসজি। এর জন্য শুধু নেইমারদের দোষারোপ করাটা অবশ্য অন্যায় হবে। কারণ, এর কৃতিত্ব অনেকটাই এক জার্মানের। তিনি ম্যানুয়েল নয়্যার।

বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারের দুরন্ত কয়েকটি সেভ কিন্তু বাঁচিয়ে দেয় জার্মান ক্লাবটিকে। সুযোগ পেয়েও গোলের সামনে কিন্তু এদিন খেই হারিয়ে ফেলেন লেওয়ানডস্কি, মুলারদের মতোই নেইমার,এমবাপ্পেরা। বায়ার্ন কোচ কোয়ার্টার ফাইনাল কিংবা সেমি ফাইনালের দলের থেকে এদিন মেগা ফাইনালে প্রথম একাদশে একটাই বদল করেছিলেন। ইভান পেরিসিচের পরিবর্তে খেলান কিংসলে কোম্যানকে। আর সেটাই বোধ হয় হান্স ফ্লিকের মাস্টার স্ট্রোক ছিল। ৫৯ মিনিটে জশুয়া কিমিচের ক্রসে হেডে সেই কাঙ্খিত গোলটি করেন কোম্যান। আর সমতা ফেরাতে পারেনি প্যারি সাঁ জাঁ। ব্যবধান বাড়াতে পারেনি বায়ার্নও।

Related Articles

Back to top button
Close