fbpx
কলকাতাশিক্ষা-কর্মজীবনহেডলাইন

কলেজ চাকরিতে ইউজিসির নিয়মকে বুড়ো আঙুল, রাজ্যের গবেষকদের পাশে জাগােস

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলেজ বিশ্ব বিদ্যালয়ে অধ্যপক নিয়োগে ইউজিসি-র নিয়মকে মান্যতা দিচ্ছে না রাজ্য সরকার। বিশ্ব বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নিয়মাবলিকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলছে নিয়োগ প্রক্রিয়া। আভিযোগ করল জাতীয়তাবাদী অধ্যাপক ও গবেষক সঙ্ঘ বা জাগােস। সোমবার এক বিবৃতি প্রকাশ করে রাজ্যের কলেজ বিশ্ব বিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে দেয়।

প্রায় ১৪০০০ এসএসিটি দিয়ে কলেজের পঠন -পাঠনের কাজ যদি চলে যায় , এসএসিটি- রা ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত সপ্তাহে ১৫ ঘণ্টা করে ক্লাস নেয় তাহলে পরবর্তী বছরগুলিতে নতুনরা কলেজের চাকরি পাবে কী করে ? ইত্যাদি প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যজুড়ে গবেষক ও ছাত্র – ছাত্রী , শিক্ষিত মানুষেরা কলেজে এসএসিটি নিয়ােগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছিলেন। তাই রাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ অনুমােদিত পশ্চিমবঙ্গের জাতীয়তাবাদী অধ্যাপক ও গবেষক সঙ্ঘ বা জাগােস পশ্চিমবঙ্গের অবহেলিত গবেষক ও ছাত্র – ছাত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান , কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী রমেশ নিশাংক এবং মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সচিব অমিত খারেকে লিখিতভাবে অভিযােগ পত্র দিয়ে ইউজিসির নিয়ম – বিধিকে সম্পূর্ণরূপে অগ্রাহ্য করে রাজ্য সরকারের অনৈতিক , অসাংবিধানিকভাবে কলেজে এসএসিটি  নিয়ােগের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরােধ জানিয়েছে ।

জাগোস-এর মতে, শিক্ষার মতাে পবিত্র ক্ষেত্রে ঘৃণ্য রাজনীতির প্রবেশ ঘটেছিল বাম আমলেই দলের লােকদের বিভিন্ন উচ্চ পদে বসানাে থেকে শুরু করে , সহজে চাকরি পাই – এ দেওয়ার অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। ২০১০ সালে কলেজে অস্থায়ী অধ্যাপকদের অধিকাংশের যােগ্যতা না থাকলেও ৬০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী করে দিয়েও ২০১১ এর নির্বাচনে শেষ রক্ষা হয়নি বামফ্রন্টের। তৃণমূল সরকারের আমলেও তর খুব একটা পরিবর্তন দেখা যায়নি। দলের লােক ও অযােগ্যদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার বিষয়টি মাত্রা ছাড়িয়েছে। বর্তমান সরকার সেটিকে প্রায় প্রত্যহিকতায় পরিণত করেছে। চারপাশে চোখ রাখলেই সেটি সহজেই বােঝা যায় সাম্প্রতিক সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজগুলােতে স্টেট এডেড কলেজ টিচার নিয়ােগের যে প্রক্রিয়া বর্তমান রাজ্য সরকার প্রায় সেরে ফেলেছে। তাতে আর একবার প্রমাণিত হল শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকারের মনােভাবটি। ১৯ আগস্ট , ২০১৯ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাওড়ার এক প্রশাসনিক সভায় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজগুলিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ অস্বচ্ছভাবে যেসকল অস্থায়ী অধ্যাপক (জিএল/ পিটিটি/ সিডব্লুটিটি) নিয়ােগ করেছিল তাদের এক ছাতার তলায় এনে। স্টেট এডেড কলেজ টিচার নাম দিয়ে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত তাদের চাকরি সুনিশ্চিত করার কথা ঘােষণা করেন। অথচ মুখ্যমন্ত্রীর ঘােষণার মাত্র এক মাস আগে ১৩/০৭/১৯ উচ্চ শিক্ষা দপ্তর ওইসকল অস্থায়ী অধ্যাপকদের নিয়ােগ যে ইউজিসি এবং রাজ্যের সিএসসি-র নিয়ম, নীতিকে সঠিকভাবে মেনে করা হয়নি। এই মর্মে একটি বিজ্ঞপ্তি (অর্ডার নম্বর: ১০৮১/ইএইচ/ও/সিএস/৪এ-৪৪/২০১৯ ) প্রকাশ করা হয়েছিল। যাদের নিয়ােগ নিয়ে খােদ সরকার উষ্মা প্রকাশ করেছিল। তবে কেন তাদের কলেজের চাকরি ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত সুনিশ্চিত করে মর্যাদা বৃদ্ধি করল সরকার? তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সিবিসিএস পদ্ধতিতে যে অধিক সংখ্যক স্থায়ী অধ্যাপক সিএসসির মাধ্যমে নিয়ােগ করতে হত, যে অর্থ ব্যয় করতে হত তা থেকে অব্যাহতি নিতে সস্তায় যাকে খুশি কলেজে ঢুকিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক ক্যাডার বানানাের চক্রান্ত করছে রাজ্যের শাসক দল। এমনটাই মনে করছেন বহু শিক্ষাবিদ মুখ্যমন্ত্রীর ঘােষণার পরিপ্রেক্ষিতে ২৩/১২/২০১৯ তারিখে পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ শিক্ষা দপ্তর এসএসিটি- দের জন্য যে বিজ্ঞপ্তি (অর্ডার নম্বর: ২০১৮ -ইডিএন(সিএস) /১০এম – ৮৩/২০১৯) প্রকাশ করেছে সেখানেই চোখ রাখলেই বােঝা যাবে সরকার কীভাবে যােগ্যদের কলেজের চাকরি থেকে বঞ্চিত করে , অযােগ্যদের চাকরি পাই – এ দিয়ে উচ্চ শিক্ষাকে ধ্বংস করার চক্রান্ত করছে।

এসএসিটি-দের দুটি ক্যাটাগরি। ক্যাটাগরি ১ হল যাদের ইউজিসি ও সিএসসি-র নিয়ম মতে কলেজে পড়ানাের যােগ্যতা রয়েছে। ক্যাটাগরি -২ , যাদের ইউজিসি ও সিএসসি-র নিয়ম অনুযায়ী কলেজে পড়ানাের কোনােই যােগ্যতা নেই। এদের সংখ্যাই অধিক উচ্চ শিক্ষা দপ্তর প্রকাশিত মুর্শিদাবাদের পাঁচথুপি হরিপদ গৌরীবালা কলেজের এসএসিটি-দের ২ টি তালিকা থেকে দেখা যাচ্ছে। সেখানে ১৭ জনের মধ্যে মাত্র ৩ জনের কলেজে পড়ানাের ন্যূনতম যােগ্যতা রয়েছে। এমনকি ১৭ জনের মধ্যে ৬ জনের এম.এ. তে ৫৫ % নম্বর নেই এই কলেজের জগন্ময় ঘােষ এম.এ. তে ৪০.৩ % নম্বর পাওয়া। মেদিনীপুর কলেজের ১১১ জন এসএসিটি- এর ৭৬ জন এসএসিটি -২। এ ছাড়াও কলকাতার দি ইন্ডিয়ান কলেজ অব আর্টস এন্ড ড্রাফটসম্যানশিপের ২ টি তালিকায় থাকা ১৮ জন এসএসিটি-দের একজনেরও এনইটি, এসইটি, পিএইচডি নেই । এমনকি কোন যােগ্যতার ভিত্তিতে এসএসিটি-দের ক্যাটাগরি -২ তে নেওয়া হচ্ছে। সেটাও সরকার স্পষ্ট করেনি। ফলে এ নিয়ে রয়েছে বিরাট প্রশ্ন চিহ্ন পশ্চিমবঙ্গে এই মুহূর্তে প্রায় ৩০,০০০ প্রার্থী রয়েছে যাদের ইউজিসি-র নিয়ম মোতাবেক কলেজে পড়ানাের যাবতীয় যােগ্যতা এনইটি,এসইটি,পিএইচডি দের রয়েছে অথচ তাদেরকেও এসএসিটি পদে যােগ্যতা পরীক্ষার সুযােগটুকুও দেয়নি রাজ্য সরকার। এর থেকেই সরকারের অভিসন্ধি আঁচ করা যাচ্ছে। ইউজিসি , সিএসসি-র নিয়মা মেনে কোনােরকম যােগ্যতার পরীক্ষা দিয়েও চাকরি পাচ্ছেন না। গবেষণা কিংবা উচ্চশিক্ষায় ছাত্র – ছাত্রী পরবর্তীতে আসতে উৎসাহ পাবে কিনা তা নিয়ে বিশেষভাবে আশঙ্কিত শিক্ষা মহলও।

Related Articles

Back to top button
Close