fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ভাইরাস আতঙ্কে মাস্ক পড়ছেন উমা, নেই উদ্যোক্তা মাথায় হাত নদীয়ার প্রতিমা শিল্পীদের

অভিষেক আচার্য, কল্যাণী: ভাইরাস আতঙ্ক এবার কৈলাসে। কোভিড-19 থেকে বাঁচতে মাস্ক পরে বাপের বাড়ি আসছেন উমা। করোনা ভয় যে মহিষাসুরমর্দিনীও পেয়েছেন তা কুমোরটুলিতে গেলে স্পষ্ট বোঝা যায়। দশভুজাকে মাস্ক পড়িয়েই নদীয়ার মৃৎশিল্পীরা করছেন প্রতিমা তৈরির কাজ। রথ এলেই কুমোরটুলিতে দেখা মেলে পুজো উদ্যোক্তাদের ভিড়। কিন্তু সেখানেও থাবা বসিয়েছে ভাইরাস। কুমোরটুলিতে মৃৎশিল্পী রয়েছেন, প্রতিমা রয়েছে কিন্তু দেখা নেই উদ্যোক্তাদের। সময়ে-অসময়ে শিল্পীরা কাঠামোতে প্রলেপ দিচ্ছেন বটে কিন্তু তাঁদের দেখা নেই। এদিকে পুজো উদ্যোক্তাদের আশায় মৃৎশিল্পীরা তাড়াচ্ছেন মাছি, মারছেন মশা। এই চিত্র নদীয়ার কল্যাণী, শান্তিপুর সহ বিভিন্ন কুমোরটুলির।

কয়েক মাস পরেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ পুজো দুর্গোৎসব। কিন্তু সেই উৎসব কিভাবে হবে সেই নিয়েই  চলছে পুজো কমিটি সদস্যদের ময়নাতদন্ত। বিগ বাজেটের পুজো এবছর দেখা যাবে না তা একপ্রকার ধরেই নিয়েছেন আপামর বাঙালি। উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না ঘট পুজোর প্রসঙ্গও। তা সত্ত্বেও আশায় ঋণ নিয়ে, ধার করে দুর্গা প্রতিমা তৈরির কাজ করেই চলেছেন মৃৎশিল্পীরা। কিন্তু এখনো পর্যন্ত প্রতিমা বায়না না হওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে শিল্পীদের। এই বিষয়ে শান্তিপুরের প্রতিমা কারিগর সুদীপ পাল বলেন, “রথ চলে গেল। কিন্তু উদ্যোক্তা কৈ? এতদিনে তো পুজো কমিটির সদস্যদের ভিড় সামলাতেই হিমশিম খেতে হত। কল্যাণী, চাকদা, রানাঘাট থেকে আসতেন উদ্যোক্তারা। সময় চলে যাচ্ছে তবু দেখা নেই তাঁদের। ঋণ নিয়ে প্রতিমা তৈরি করেছি। এখনো পর্যন্ত বায়না হয়নি একটিও। মাথায় হাত। কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতিমা বিক্রি না হলে ঋণ শোধ করবো কিভাবে?” প্রশ্ন সুদীপবাবুর।

আরও পড়ুন: পুরভোট নয়, বিজেপির নিশানায় একুশ

এদিকে আগ্নেয়গিরির মত গরম বাজার। জিনিসের দাম উর্ধমুখী। ফলে প্রতিমা তৈরিতেও বেড়েছে খরচ। স্বাভাবিকভাবেই প্রতিমার চড়া দাম হাঁকছেন মৃৎশিল্পীরাও। এই বিষয়ে আর এক শিল্পী সুমন্ত পাল বলেন, “লকডাউনের জেরে দাম বেড়েছে মাটি থেকে দড়ির। অন্যদিকে, ভাইরাসের আতঙ্কে কারিগর নেই বললেই চলে। ফলে বাড়ছে চাপ। রথ যাওয়া মানেই চওড়া হত আমাদের মুখের হাসি। আজ সেই খুশি উধাও। তবু আশায় রয়েছি, কয়েকটি প্রতিমা বিক্রি হলেও লাভ তো হবেই না উপরন্তু ক্ষতিই হবে।”

ভাইরাসের কারণে ঢাকের সুর, রাত জেগে প্রতিমা দর্শন, লম্বা লাইন, পুজোর প্রেম, জমিয়ে আড্ডা সবটাই এবার ভ্যানিশ। কোথাও কোথাও প্রতিমা থাকলেও প্যান্ডেল থাকবে ফাঁকা। কোথাও আবার প্রতিমার বদলে পুজো হবে ঘটের। ভাইরাসের চোখ রাঙানিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে আপামর বাঙালি উৎসবের জোয়ারে গা ভাসায় কিনা সেটাই এখন দেখার।

Related Articles

Back to top button
Close