fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সংসারের ভার টানতে না পেরে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন!

মিল্টন পাল, মালদা: সংসারের ভার টানতে না পেরে স্বপরিবারে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জেলা প্রশাসন, মুখ্যমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কাছে। ঘটনাটি মালদার ইংরেজবাজার থানার ২৫নম্বর ওয়ার্ডের নেতাজি পার্ক এলাকায়। আর এই ঘটনা জানাজানি হতেই নড়েচড়ে বসেছে রাজনৈতিক দলগুলি। রাজনৈতিক দোষারোপের পালা না করে সবাই এই ঘটনার জন্য বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিকেই দায়ী করেছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মূক বধির মানুষ চুমকি সিংহ। তার স্বামীও ছিলেন মূক ও বধির। চলতি বছরের জুলাই মাসে স্বামী প্রয়াত হন। দীর্ঘদিন ধরে স্বামী ছিলেন অসুস্থ। স্বামী ও একমাত্র ছেলেকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে স্থান না পেয়ে বাপের বাড়িতেই আশ্রয় নিয়েছিলেন। বর্তমানে মূক-বধির মানুষটি সেলাই করে সংসার চালাতেন। তার বাবা সদাই সিংহ বিদ্যুৎ পর্ষদের প্রাক্তন কর্মী। তিনি পেনশন পান না। অবসর নেওয়ার পর যা টাকা পেয়েছিলেন তিন মেয়ের বিয়ে দিতে ও বাড়ি করে সমস্তটাই প্রায় খরচা হয়ে যায়। বাকি যা ছিল তা চিটফান্ডের রেখেছিলেন। তাও চিটফান্ড কাণ্ডের জেরে হাতছাড়া হয়। মা মনিকা সিংহ গৃহবধূ।একমাত্র পরিবারে তিনি সক্ষম। মূক ও বধির মেয়ে চুমকি সেলাই করে সংসার চালাতেন। টানা লকডাউন ও করোনা পরিস্থিতির জেরে আর কাজ জুটছে না। সংসারের চরম অভাব। সামাজিক লজ্জার ভয়ে অভাবের কথা কাউকে বলতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে মণিকা সিংহ এবার মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও রাষ্ট্রপতির কাছে পরিবার সমেত স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়েছেন।
মা মণিকা সিংহের দাবি যে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি, অভাবের তাড়নায় এমনি মরে যাবেন। কারণ মেয়ের রোজগার নাই। পরিবারে আর কেউ রোজগার করে না। স্বামী অসুস্থ। এই পরিস্থিতিতে তাদের মৃত্যু ছাড়া আর কোনও পথ নেই।

আরও পড়ুন:দাবি মতো পণ না দেওয়ার মাশুল! আরও টাকার নেশায় স্ত্রীকে দেহ ব্যবসায় নামালো স্বামী

ঘটনাটি জানতে পেয়ে স্থানীয় সিপিএম কাউন্সিলর দুলাল নন্দন চাকি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তার এক প্রতিবন্ধী মেয়ে রয়েছেন। তার আমি ভাতা করে দিয়েছি। আমরা তো ভাবতে পারিনি একজন চাকুরীজীবি মানুষ। স্বামীর মৃত্যুর পর এতটাই খারাপ অবস্থা। সেটা হয়তো সামাজিক লজ্জার কারণে বলেননি। আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাধ্যমতো সাহায্য করব। মানুষকে বেঁচে থাকার জন্য যা যা করা উচিত আমরা তা করব।

বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমরা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যারা রয়েছি আর সমাজ এর জন্য দায়ী। বিজেপির পক্ষ থেকে আমরা পরিবারের পাশে রয়েছি। একজন স্বেচ্ছায় মৃত্যুর আবেদন করবে আর আমরা রাজনৈতিক দলগুলি বসে থাকব এটা হতে পারে না।

জেলা তৃণমূলের মুখোপাত্র শুভময় বসু বলেন,পরিবারের কাছে আমাদের আবেদন। অবিলম্বে তারা জেলাশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আবেদন জমা করুন। আমরা দলীয় স্তরে ব্যবস্থা নেবে। এই বাংলার সরকারে কাউকে স্বেচ্ছায়মৃত্যু হতে হবে না। না খেয়ে পরবে তা কখনও হবে না।

জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কালিসাধন রায় বলেন, আমরা যারা রাজনৈতিক দল করি তারা খোঁজ রাখি না। আমাদের জানা উচিত খোঁজ নেওয়া উচিত ছিল। সে প্রতিবন্দী ফলে তাদের চাওয়া পাওয়া বলতে পারে না। সভ্য সমাজে এটা কাঙ্খিত নয়। আমরা ওই পরিবারের পাশে আছি।

Related Articles

Back to top button
Close