fbpx
গুরুত্বপূর্ণব্লগহেডলাইন

সুইডেন ও বেঙ্গালুরু হিংসার মধ্যে সাদৃশ্য বুঝুন…..

আর কে সিনহা: বিশ্বের সবচেয়ে খুশি দেশগুলির মধ্যেই গণ্য হয় থাকে সুইডেন। পুরোপুরি শান্তিপ্রিয় মানুষ, সমষ্টিগত উৎসাহ এবং উদযাপনের প্রথার কারণে সেই দেশের শূন্য অপরাধ এবং ন্যূনতম হিংসা ও কুৎসা নেই। প্রায় এক দশক আগে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্কের মতো স্ক্যাসন্ডিনেভিয়ান দেশগুলিতে ইসলামের নামমাত্র উপস্থিতি ছিল, তবে সাম্প্রতিককালে সিরিয়া আরব শরণার্থীদের প্রকাশ্যে স্বীকৃতি দেওয়ার কারণে সেখানে আন্দোলন চলছে, আগুন জ্বলছে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, কিছু বিকৃত মানসিকতার মানুষজন কুরআনের অসম্মান করেছে।

সুইডেনের জনগণ তো নিজেদের কাজ ও আনন্দ নিয়েই ব্যস্ত, দুষ্কর্ম করার সঙ্গে তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই। তবে, গুজব রটে যাওয়ার পর সেখানকার ঝামেলা রুখে দেওয়া হয়েছিল। সুইডেন থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি রাজধানী বেঙ্গালুরুতে কয়েক সপ্তাহ আগেই একটি সামান্য বিষয়ে সুপরিকল্পিত হিংসায় উস্কানি দেওয়া হয়েছিল। বেঙ্গালুরু হিংসায় নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, অনেক মানুষ আহত হয়েছিলেন এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা হয়েছিল। বেঙ্গালুরুর মতো আধুনিক শহরে দুষ্কৃতীরা সর্বত্র আগুন ধরিয়ে দেয় এবং এটিএম-এ ভাঙচুর চালায়। বেঙ্গালুরুতে কংগ্রেস বিধায়কের একজন আত্মীয় নবী মহম্মদ সম্পর্কে আপত্তিজনক পোস্ট করেছিলেন, ফলস্বরূপ বেঙ্গালুরুতে হিংসা হয়।

এখন প্রশ্ন হল, সুইডেন থেকে ভারত পর্যন্ত কোনও বিষয়ে বিরোধ প্রদর্শনের জন্য হিংসাকেই কেন বেছে নেওয়া হবে? সর্বোপরি মুসলমান সমাজের কট্টরপন্থীরা আইন নিজেদের হাতে কেন তুলে নিচ্ছে?

আরও পড়ুন:বাড়ানো হল ব্যাঙ্কের সময়সীমা! এবার পরিষেবা মিলবে দুই শনিবারেও: নবান্ন

দুই ঘটনাতেই দোষীদের শাস্তি দেওয়া যেতে পারত এবং শাস্তি দেওয়াও হবে। আইনকে যদি নিজের মতো কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে বেঙ্গালুরু অথবা সুইডেন কোথাও আগুন জ্বলত না। কিন্তু, এমনটা হয়নি। এমনটা করে কট্টরপন্থীরা নিজেদের মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষজনকেই কী লজ্জিত ও অসুরক্ষিত করছেন না? সমস্ত দিক থেকে তো তাঁদেরই ক্ষতি হচ্ছে।
উত্তর ইউরোপের দেশ সুইডেনের মালমো শহরে কুরআন অপমান করার খবর মিলেছে। এরপর সেই সমস্ত মুসলমানদের ভিড় রাস্তায় নেমে পড়েছিল, যাঁদের সুইডেনই বাঁচিয়েছিল, সমগ্র শহরে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করেছিল তারা। বিভিন্ন জায়গায় ঘর-বাড়ি ও বাজারে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই ধরনের দাঙ্গা কাটিয়ে উঠতে সুইডিশ পুলিশের কোনও পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না।
ভারতের পুলিশের মতো এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করার অধিকার নেই তাঁদের। ইউরোপের সুন্দর দেশে এই ধরনের হিংসা এই প্রথমবার হয়েছে। পুলিশ যতক্ষণ পর্যন্ত হিংসা থামাতে সক্ষম হয়েছিল, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল, ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল প্রচুর। এই হিংসার নেপথ্যে সেই সমস্ত শরণার্থীদের দায়ী করা হচ্ছে, যাঁদের কয়েক বছর আগে উদার মানসিকতায় আশ্রয় দিয়েছিল সুইডেন সরকার। আমি নিজে সুইডেন যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি, সেই দেশের মানুষের শান্তিপ্রিয় আচরণ, ভালোবাসার দ্বারা গভীরভাবে মুগ্ধ হয়েছিলাম।

আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, সিরিয়া ও ইরাকের মতো উপসাগরীয় দেশে হিংসার কারণে প্রচুর সংখ্যক মানুষ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছিল।
যে সমস্ত দেশ শরণার্থীদের জন্য দরজা উন্মুক্ত করেছিল, সেই সমস্ত দেশগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল সুইডেন। মাত্রাতিরিক্ত উদারতার জন্য এখন তাঁদের শাস্তি পেতে হচ্ছে। মক্কা থেকে প্রচুর শরণার্থী এসেছিল। সেখানে আগে ইহুদি বংশ বাস করত।

হিজরতের মহত্ব এতটাই বেশি ছিল যে, ইসলামী সংবতের নাম রাখা হয়েছিল হিজরী। আনসার গোষ্ঠী সমানভাবে তাঁদের সমস্ত সম্পদ এই শরণার্থীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিল। সেই সময় মদিনার নাম ছিল ইয়াসারব, পরবর্তীকালে নামকরণ হয় মদিনত্তুন্নবী। কয়েক বছরের মধ্যেই মদিনার সমস্ত বাসিন্দাকে হয় মুসলিম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়েছিল অথবা হত্যা করা হয়েছিল, যাঁরা বাকি ছিলেন তাঁদের প্রথমে মদিনা, তারপর আরব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এখন সৌদি আরবে কোনও ইহুদি নেই। ইসলামের উত্থানের পর প্রায় গোটা বিশ্বেই অশান্তির বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল।

যাঁরা শান্তিতে ঘুমিয়েছিলেন, তাঁদের উপর তরোয়াল নিয়ে শুরু হয় নিপীড়ন। সুইডেন ও বেঙ্গালুরুর ঘটনা দেখে তো এমনটাই মনে হচ্ছে।
সুইডেনের মালমো শহরে যে ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে, তা নিন্দা করা উচিত ছিল সমগ্র বিশ্বের। আমাদের দেশের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদেরও। কিন্তু, আমাদের দেশের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা এখন নীরব। বেঙ্গালুরু হিংসা নিয়েও তাঁরা চুপ করে ছিল। আসলে বিশ্বের বহু দেশে ইসলামিক কট্টরপন্থীরা চিন্তাজনক রূপ নিচ্ছে।

নিজেদের মুসলমান দাবি করে বারবার রাস্তায় নেমে পড়ছে। ধর্মের নামে অনাবশ্যক কট্টরতা ছড়াচ্ছে তারা। আমাদের নিজেদের বেঙ্গালুরু শহরে নিন্দার নামে দরিদ্র মানুষদের বস্তিতে উস্কানি দেওয়া হয়েছে। ফলস্বরূপ বেপরোয়াভাবে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে হিংসাত্মক ঘটনা চলতেই থাকে। এরা কখনও স্কুল-কলেজের স্বার্থে রাস্তায় নামে না।
এটা বলা দরকার-সুইডেনের পাশাপাশি, উত্তর ইউরোপের বেশি কিছু দেশ যেমন ডেনমার্ক, নরওয়ে এবং ফিনল্যান্ডও শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছিল। এই দেশগুলির জনসংখ্যা অত্যন্ত কম।

আরও পড়ুন:পড়ে রইলেন করোনা আক্রান্ত পুলিশ! কলকাতা মেডিক্যালে নজিরবিহীন বিক্ষোভ পুলিশকর্মীদের

বিপুল সংখ্যক মুসলমানরা যখন সেখানে পৌঁছে গেল, তখন তাঁদের সামাজিক আচরণও বদলে গেল। এই সমস্ত দেশগুলিতে আগে অপরাধ প্রায় হতোই না, এখন সেখানে ধর্ষণ, ছিনতাই এবং হত্যার ঘটনাও ঘটছে। মুসলিম কট্টরপন্থীদের বিরুদ্ধে লেখার এবং কথা বলার কতটা সময় এসেছে, তা সুইডেনের ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, যেখানে উগ্র মুসলমানরা সুইডেনকে পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে। একটি সহজ প্রশ্ন হল এই যে, সিডেনে দক্ষিণপন্থীরা কী কট্টরপন্থী মুসলিমদের কুকীর্তিতে বিরক্ত হয়েই তাদের একটি ধর্মীয় পুস্তকে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে, যার প্রতিক্রিয়া স্বরূপ উগ্র মুসলমানরা সিডেনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু, কুরআনের অপমান করায়, আগুন লাগানোর পরিবর্তে, আইনি প্রক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করলে কী ভালো হত না? নিশ্চিতভাবে কিছু উগ্র মুসলমানদের জন্যই শান্তিপ্রিয় মুসলমানদের বিপুল ক্ষতি হচ্ছে।

(মতামত নিজস্ব)

Related Articles

Back to top button
Close