fbpx
দেশহেডলাইন

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজত্বে মুসলিমরা সবথেকে বেশি সুরক্ষিত এবং শান্তিতে আছেন: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শাহনওয়াজ হোসেন

ইন্দ্রানী দাশগুপ্ত, নয়াদিল্লি : প্ৰধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজত্বে ভারতের মুসলিমরা সবথেকে ভালো অবস্থায় আছে। বিশ্বের মাঝে অমুসলিম রাষ্ট্র গুলির মধ্যে ভারত হল এমন দেশ যেখানে মুসলিমরা যথেষ্ট সুরক্ষিত  এবং  শান্তিতে আছেন বলে জানালেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট মন্ত্রী এবং বিজেপির মুখপাত্র শাহনওয়াজ হোসেন।

তিনি আরও বলেন, বিক্ষিপ্ত কিছু মানুষের নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য দেশে মুসলিমরা বিপন্ন বলে  যে বারে বারে  প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন  তা এখন আর বিশ্বাস করে না  দেশের  উন্নয়ন কামি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়।  কারণ নরেন্দ্র মোদি হলেন এমন একজন প্রধানমন্ত্রী যার সময় কালে জাত ধর্ম নির্বিশেষে বহু উন্নয়ন মূলক কাজ করা হয়েছে । বিশেষত এই করোনা সংকটকালে যেভাবে কেন্দ্রীয় সরকার সংখ্যালঘু পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাড়িয়েছেন তার ফলে মুসলিম সমাজ অভিভূত।

প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি সম্প্রতি টুইটারে অভিযোগ করেন বর্তমানে দেশে হাতির মুখে আনারস এর মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটানো থেকে শুরু করে করোনা সংক্রমণ সব ক্ষেত্রেই মুসলিমদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে ।এর তীব্র প্রতিবাদ করে শানোয়াজ হোসেন বলেন বিক্ষিপ্ত কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য বরাবরই ভারতে হিন্দু মুসলমান ভাগ করে দেওয়ার খেলাটা খেলেছেন। তিনি কংগ্রেসকে তোপ দেগে বলেন স্বাধীনতার সময় যদি এই ধরনের মানুষেরা না থাকতেন তাহলে আজ এক অখন্ড ভারতবর্ষের অধিবাসী হতাম আমরা । এবং বিশ্ব মানচিত্রে সবদিক থেকে অন্যতম সেরা শক্তিধর দেশ হিসেবে পরিচিত হতাম ।কিন্তু রাজনীতির দাবা খেলায় বারে বারে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে গুটি করে চাল চালছে রাজনৈতিক দলগুলো ।

সাম্প্রতিককালের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন যার প্রমাণ।  যখন দেশের অধিকাংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এটা বুঝতে পেরেছে নাগরিকত্ব আইন নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন ছিনিয়ে নেওয়ার নয় তখন বেশ কিছু মানুষ এর বিরোধিতা করেছেন কিন্তু তারা সংখ্যায় এতই নগণ্য যে সারা ভারতবর্ষের সংখ্যালঘু অধিবাসীদের তুলনায় এই বিরোধীরা জনসংখ্যা তত্ত্বের মাপকাঠিতেই আসেনা । বিপুল জনসংখ্যার দেশ ভারত বর্ষ ।এখন এদেশের মুসলিমরা বুঝতে পেরেছে যে নিজেদের উন্নয়নের জন্য  তথা দেশের উন্নয়নের জন্য এবং একটা শক্তিশালী দেশ তৈরীর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির থেকে ভালো দেশ পরিচালক হতেই পারে না। তাই তারা প্রধানমন্ত্রীকে সাগ্রহে বরণ করে নিয়েছেন । যার ফল আমরা দেখেছি ২০১৯- এর লোকসভা নির্বাচনে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় এসেছে।

মুসলিম মহিলাদের উন্নয়নের জন্য তিন তালাক বিল বা কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার বা সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তর কে  প্রচুর অর্থ বরাদ্দ  সবকিছুই দেশের সংখ্যালঘু সমাজের  উন্নয়নের কথা মাথায় রেখেই করা। জম্মু কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করেও প্রধানমন্ত্রীর কাশ্মীরকে ভারতের অন্যান্য প্রদেশের সমান মর্যাদা দিতে চেয়েছেন।  একই সাথে জম্মু-কাশ্মীরের মানুষ প্রতিদিন যে আতঙ্কবাদীদের দ্বারা সৃষ্ট আতঙ্ক নিয়ে বাচতেন তার থেকে রেহাই দিয়েছেন । এখন প্রতিদিন কাশ্মীরে  আগের মত  গুলি-বোমার আওয়াজ শোনা যায় না । আগের মত ঘরঘর থেকে ছেলেরা  আতঙ্কবাদী হওয়ার পরিবর্তে দেশকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনীতে নাম লেখাচ্ছেন।

সুস্থ সংস্কৃতি  এবং সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে  কাশ্মীরে । আর কিছুদিন পর  মানুষ ভুলে ই যাবে  যে কাশ্মীর একসময়  একটা উপদ্রুত অঞ্চল ছিল । সারা ভারতবর্ষের অন্যান্য রাজ্যের মতই  কাশ্মীরে বিরাজ করবে শান্তি ।যার ফলে আতঙ্কের কারবারিদের এখন খুব সমস্যা হচ্ছে। আর করোনা থেকে শুরু করে হাতিকে মারার ঘটনা নিয়ে  এতকিছু বলার তো কোন প্রয়োজন নেই। যারা এদেশে অপরাধ করবেন যাদের দ্বারা সাধারণ মানুষ পশু থেকে শুরু করে সমাজ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে তারা সবাই অপরাধী। আইন কখনো হিন্দু মুসলিম বিচার করে শাস্তি দেয় না ।

উদাহরণস্বরূপ বলতে পারি নির্ভয়া হত্যাকান্ড-এ যারা অপরাধী ছিল তারা কেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের  মানুষ ছিল না। কিন্তু তারাও চূড়ান্ত শাস্তি পেয়েছে। আইন তাদের চূড়ান্ত শাস্তি কার্যকর করেছে । সেটাও কিন্তু মোদি সরকারের আমলেই হয়েছে। তাই যারা প্রতিমুহূর্তে হিন্দু-মুসলিম তাস খেলার চেষ্টা করেন তারা আসলে দেশের শত্রু। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বর্তমানে নরেন্দ্র মোদির শাসনে যথেষ্ট ভালো এবং শান্তিতে আছে বলেই আমার বিশ্বাস।

Related Articles

Back to top button
Close