fbpx
আন্তর্জাতিকহেডলাইন

কাতারের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি রাষ্ট্রপুঞ্জের

নিউইয়র্ক: কাতারের ওপর সৌদিজোটের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। একইসঙ্গে, আরোপিত অবরোধের ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষজ্ঞ অ্যালেনা ডুহান।

এক প্রতিবেদনে অ্যালেনা ডুহান জানিয়েছেন, ‘আঞ্চলিক ঝামেলার জেরে কাতারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আমিরশাহি, মিসর, সৌদি আরব ও বাহরাইন। এই চার দেশ অবশ্য দাবি করে কাতার সন্ত্রাসবাদের সমর্থক এবং ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ; যে কারণে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিত করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু, মানুষের মানবাধিকার হরণ করে কোনও সরকারকে শিক্ষা দেয়ার নীতি ঠিক নয়।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘এভাবে সম্পর্কচ্ছেদ করার কোনও যৌক্তিক কারণ নেই। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে কাতারের মানুষের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা জারির পরই ওই চারটি দেশ কাতারের সব নাগরিককে নিজেদের দেশ থেকে বহিষ্কার করে। এর ফলে বহিষ্কার হওয়া মানুষেরা শুধু কাজ হারিয়েছেন তাই নয়; বরং তাদের পারিবারিক সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়েছে। এটি সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে।’

এদিকে, কাতার শুরু থেকেই বলে আসছে, তারা সন্ত্রাসবাদীদের সমর্থন ও জঙ্গিদের প্রশ্রয় দেয় না। কিন্তু সৌদি নেতৃত্বাধীন দেশগুলো সন্ত্রাসবাদে সমর্থন এবং অর্থায়নের অভিযোগ এনে কাতারের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সেই সময় ওই চার দেশ জানিয়েছিল, কাতার ১০ দফা শর্ত মানলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। কিন্তু কাতার তা মানতে চায়নি। যে দাবিগুলোর মধ্যে ছিল, কাতারের সংবাদসংস্থাকে বন্ধ করে দিতে হবে। কিন্তু, রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষজ্ঞ অ্যালেনা ডুহান জানিয়েছেন, ‘এই ধরনের দাবি আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী। কেননা, কাতার সম্প্রতি বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনও করেছে।’ উল্লেখ্য, অ্যালেনা ডুহানের এই প্রতিবেদনটি ২০২১ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কাউন্সিলের বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে।

এদিকে সূত্রের খবর, চলমান এই সঙ্কট সমাধানে অতীতে কয়েক বার উদ্যোগ নেয়া হলেও তা বেশি দূর গড়ায়নি। তবে এবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি জানিয়েছেন, ‘তারা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে রাজি। কিন্তু মনে রাখতে হবে, কাতারের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আপোস করা হবে না।’

Related Articles

Back to top button
Close