fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রায়নায় উদ্ধার হওয়া পাল, সেন আমলের উমা মহেশ্বর মূর্তি স্থান পেতে চলেছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রন্তশালায় ঠাঁই পেতে চলেছে দামোদর থেকে উদ্ধার হওয়া পাল-সেন আমলের কষ্টি পাথরের তৈরি প্রাচীন উমা-মহেশ্বর মূর্তি। কিছুদিন আগে দামোদরে স্নান করতে নেমে এই মূর্তিটি পেয়েছিলেন পূর্ব বর্ধমানের রায়নার বামুনিয়া গ্রামের মেটে পরিবারের এক সদস্য। মূর্তিটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তিনি পুজোপাঠও শুরু করে দিয়েছিলেন। তা নিয়ে আলোড়নও পড়ে গিয়েছিল এলাকায়।

প্রাচীন এই মূর্তি উদ্ধারের বিষয়টি মঙ্গলবার জানতে পারেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কিউরেটর রঙ্গনকান্তি জানা। তা পরেই বিশ্ববিদ্যালয় তরফে যোগাযোগ করা হয় রায়না থানায়। বুধবার রায়না থানার পুলিশ মেটে পরিবারের কাছ থেকে মূর্তিটি উদ্ধার করেছে। পুলিশের সাহায্যে বৃহস্পতিবার থেকেই মূর্তিটি ঠাঁই পাবে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রন্তশালায়।

মূর্তিটি কালো কোষ্টি পাথরের উপর খোদাই করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিউরেটর রঙ্গনকান্তি জানা জানিয়েছেন, মূর্তিটি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নশালায় দেওয়ার ব্যাপারে মেটে পরিবার রাজি হয়েছেন। রঙ্গনবাবু বলেন, জানতে পেরেছি “মূর্তিটি সাড়ে তিন ফুট লম্বা ও আড়াই ফুট চওড়া। মূর্তিটি কষ্টি পাথরের তৈরি উমা-মহেশ্বর মূর্তি।“ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রন্তশালা সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁদের সংগ্রহশালাটি ৬০ বছরের পুরনো। সেখানে বহু প্রাচীন মূর্তি সহ মূর্তি সহ রাজ্যভিষেকের ছবিও রয়েছে। এবার রায়নার বামুনিয়ার মেটে পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া প্রাচীন মূর্তিটিও সেখানে ঠাঁই পাবে।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, মূর্তিটি শৈলি আদি মধ্য যুগ অর্থাৎ পাল – সেন আমলের। কালো পাথরের উপর খোদাই করা ওই মূর্তিটির একদিকে রয়েছেন উমা। উমার পাশে রয়েছে ষাঁড়। তাঁর নিচের দিকে রয়েছে সিংহ মূর্তি। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের (এএসআই) প্রাক্তন অধিকর্তা গৌতম সেনগুপ্ত মূর্তিটির ছবি দেখে বলেন, “মূর্তিটি আদি মধ্যযুগের মূর্তি বলে মনে হচ্ছে। তাঁর মতে মূর্তিটি বাংলার বিশিষ্ট শিল্পরীতির বিশেষ নিদর্শন’’।

আরও পড়ুন: লাভ জিহাদ রুখতে এবার আইন করার জন্য তিন সদস্যের খসড়া কমিটি গঠন করল হরিয়ানা সরকার

রায়নার বামুনিয়া গ্রামের মেটে পরিবারের সদস্য মনি মেটে বলেন,“ দামোদরে স্নান করতে গিয়ে আমারা মূর্তিটি পাই। মূর্তিটি বাড়িতে এনে পুজোও শুরু করেছিলাম। প্রাচীন মূর্তিটি সরকারি সম্পত্তি বলে পুলিশ এদিন আমাদের জানায়। আমরা প্রশাসনকে ওই মূর্তিটি ফিরিয়ে দিয়েছি।”

Related Articles

Back to top button
Close