fbpx
অন্যান্যকলকাতাপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আড়ম্বরহীন দেশপ্রিয় পার্কের এবারের পুজো

অরিজিৎ মৈত্র, কলকাতা: ক্লাবের আসল নাম ‘বালিগঞ্জ সর্বজনীন দুর্গোৎসমিতি’, কিন্তু কলকাতা সহ সমগ্র পশ্চিমবাংলায় আজ এই ক্লাবের দুর্গাপুজো দেশপ্রিয় পার্কের পুজো বলেই অধিক পরিচিত। দক্ষিণ কলকাতার অভিজাত অঞ্চল হিসাবে দেশপ্রিয় পার্ক-এর কথা সবাই জানেন।  গত ৮৩বছর ধরেই এই পার্কের পুজোর কথা এলাকাবাসী জানেন।

অতীতে এই পুজো ছিল অত্যন্ত সাধারণ। শহরের আর পাঁচটা সর্বজনীন পুজোর মতো। কিন্তু কয়েক বছর আগে সেখানকার বড় দুর্গার সুবাদে দেশপ্রিয় পার্কের দুর্গাপুজোর কথা জানেন না, এমন মানুষ গোটা পশ্চিমবাংলায় আছেন কিনা সন্দেহ। এরপর থেকে হাজার হাতের দুর্গা, বড় অসুর সহ বিভিন্ন চমকপ্রদ থিম প্রত্যক্ষ করতে পুজোর চারদিন রাজ্যের প্রান্তিক এলাকার মানুষও ভিড় জমিয়েছেন দেশপ্রিয় পার্কে।

এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। করোনায় আক্রান্ত ও অসুস্থ সারা বিশ্ব। গত মার্চ মাস থেকেই নানা বিধি-নিষেধ রাজ্য সহ সারা দেশ জুড়ে। এদিকে ক্যালেন্ডার ও পঞ্জিকার নিয়ম মেনে মা দুর্গার মর্ত্যে আগমনের সময় ক্রমেই এগিয়ে আসছে। হাতে মাত্র মাস দুয়েক। কিন্তু এই সময়সীমার মধ্যে বর্তমান অবস্থা পাল্টানোর আশা খুবই কম। নানা মুনির নানা মত। কিন্তু করোনার প্রতিষেধক বাজারে কবে আসবে এ নিয়ে আপাতত কোনও আশারবাণী কেউই শোনাতে পারেননি। তবু দুর্গাপুজো বলে কথা।

আরও পড়ুন:করোনা আক্রান্ত প্রণব মুখোপাধ্যায়, আরোগ্য কামনা মমতার

প্রতি বছরের মত এবারেও কি নতুন জামা গায়ে দিয়ে প্যান্ডেল হপিং সম্ভব? শহরের একাধিক নামি পুজোর উদ্যোক্তারা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন তারা আসন্ন দুর্গাপুজো যথা সম্ভব নমো নমো করেই সারবেন। এবারে থিমের পরিবর্তে প্রাধান্য পাবে পুজোর শাস্ত্রীয় দিকটা। ঠিক এরকমই সুর শোনা গেল দেশপ্রিয় পার্কের পুজোর সম্পাদক সুদীপ্তকুমারের গলায়।

তিনি জানালেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যাতে বেশি মাত্রায় করোনার সংক্রমণ না ঘটে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে তারা এবারের পুজো খুব ছোট করেই করবেন। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এবারের পুজোয় কোনও মণ্ডপ হবে না। নিয়ম মেনে এ বছর খুঁটিপুজোও হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে লকডাউন চলায় দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও খুব খারাপ। সুতরাং বিজ্ঞাপন এবং স্পনসরের আশাও প্রায় নেই বললেই চলে। সেই কারণে এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে পুজো যতোটা সম্ভব ছোট করে করা হবে।

আরও পড়ুন:মোরে সাইয়া, মে লাগু তরে বাইয়া

তিনি আরও বলেন, ভাষা শহিদ স্মারক সংলগ্ন স্থায়ী মঞ্চকে ঘিরে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে। আর সেখানেই পঞ্চমী থেকে দশমীর অপরাহ্ন পর্যন্ত বিরাজ করবেন সন্তান-সন্ততি সহ দশভূজা। প্রতিমার আকারও খুব একটা বড় হবে না। পুজোর কর্মকর্তারা ও পাড়া-প্রতিবেশীরা সেখানেই মাযের কাছে আর্তি জানাবেন আসছে বছর যাতে সুস্থ পৃথিবীতে আবারও আড়ম্বরের সঙ্গে অতীতের মত উমার আরাধনা হতে পারে। আর পুজো ঘিরে ফি-বছরের যে মেলা বসে পার্কের বাইরে, সেটাও অনিশ্চিত কারণ লক্ষ্য রাখা হবে যাতে কোনওভাবেই বিপুল পরিমাণে জনসমাগম না ঘটে। পার্কে গিয়ে দেখা গেল প্রতি বছর যোনে রথের পর থেকে বাঁশের কাঠামো তৈরি হয়ে যায় সেখানে কাদাভর্তি শুকনো মাঠ। এই পরিকল্পনায় হয়তো সামান্য কিছু পরিবর্তন হতেও পারে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে। আদতে কতোটা কী করা যেতে পারে সেটা ভবিষ্যতই বলবে।

 

Related Articles

Back to top button
Close