fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

২৪ ঘন্টার ব্যবধানে বাবা ও ছেলের অস্বাভাবিক মৃত্যু! এলাকায় চাঞ্চল্য

শ্যামল কান্তি বিশ্বাস, নবদ্বীপ: অভাবের তাড়নায় শেষ পর্যন্ত কি আত্মহত্যার পথই বেছে নিল দীপঙ্কর মালাকার (৩০)। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার ২৪ ঘন্টার মধ্যে আত্মঘাতী বাবা দিলীপ মালাকার (৬২)। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সহ রহস্যের দানা বেধেছে নবদ্বীপ শহরে। সম্প্রতি এই ঘটনাটি নবদ্বীপ থানার মাজদিয়া পানশিলা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের বেলতলা গ্ৰামের ঘটে।

প্রতিবেশীদের দাবি, লকডাউনে দীর্ঘদিন যাবৎ কাজ হারিয়ে অবসাদে ভুগছিল দীপঙ্কর। দীপঙ্কর মালাকার পেশায় একজন হোটেল কর্মী, হাওড়ার একটি বে-সরকারি হোটেলে সে কাজ করত। লকডাউন কার্যকর হওয়ার পর থেকে সে কাজ হারিয়ে বাড়িতে বসে একাকিত্বে অবসাদে দিন কাটাচ্ছিল। বাবা পেশায় একজন হকার। ভাংড়ি মালপত্র কেনা বেচা করে কোনক্রমে সংসার চালাচ্ছিলেন দিলীপ বাবু। বেশ কিছুদিন আগে দিলীপ বাবুর স্ত্রী বিয়োগ ঘটেছে। সংসারে আরও দুই ছেলে থাকলেও তারা এখানে কেউ থাকেন না। ফলে বর্তমানে দিলীপ বাবুর সঙ্গে একা দীপঙ্কর ই থাকত। প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিনও দিলীপ বাবু সকালে নিজের ও ছেলের জন্য রান্নাবান্না সেরে কাজে বেরিয়ে পড়েন। পড়ন্ত বেলার হকারি করে বাড়িতে ফিরে জানতে পারে ছেলে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করায় প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাকে নবদ্বীপ হাসপাতাল ভর্তি করেছেন। পরে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে এবং সে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এই দুঃসংবাদ শুনে হতবাক বাবা।যদিও শেষ রক্ষা হয়নি।

মৃত্যু সংবাদ বাড়িতে পৌঁছাতেই ভেঙ্গে পড়েন দিলীপ বাবু। ঘটনায় বাকরুদ্ধ দিলীপ বাবু শেষ পর্যন্ত প্রতিবেশীদের সকলের অন্তরালে একাকি ঘরের মধ্যে গিয়ে টিনের চালার দড়িকাঠে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার জন্য ঝুলে পড়েন। পরবর্তীতে অবস্থার বেগতিক দেখে প্রতিবেশীদের তৎপরতায় পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় এবং চিকিৎসক দেহ টি পরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close