fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণবাংলাদেশহেডলাইন

বাড়ছে মার্কিন প্রভাব, চিন্তায় বাংলাদেশের চিনা দূতাবাস?

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, ঢাকা: চিন-বাংলাদেশ বিরোধ তৈরির চেষ্টা করছে আমেরিকা- এমন অভিযোগ তুলেছে ঢাকায় নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। শুধুই অভিযোগ নাকি দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে ড্রাগনের। উঠছে প্রশ্ন।

তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তার ভাষায়, ‘স্নায়ুযুদ্ধ যুগের মানসিকতা’ পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছেন।তিনি বলেছেন, আমেরিকা বাংলাদেশকে তাদের চিনবিরোধী ‘ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি’তে কাছে পেতে চাইছে।

চিনের সরকারি সংবাদ মাধ্যম গ্লোবাল টাইমসে লি জিমিং এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন।

গত শুক্রবার ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন চিন এবং বাংলাদেশের মধ্যে একটা বিরোধ সৃষ্টি করতে চাইছে। কিন্তু এই বিরোধের মূলে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানসিকতা। কারণ, তারা চিনের দ্রুত বর্ধনশীল উন্নয়ন এবং শান্তিপূর্ণ উত্থানকে গ্রহণ করতে রাজি নয়।

বাংলাদেশে নিযুক্ত চিনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং আরো বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকদের মধ্যে কতিপয় এমনও রয়েছেন, তারা ঠা-া যুদ্ধ নতুন করে শুরু করতে চান এবং সে কারণে চিনের উন্নয়ন প্রক্রিয়া যাতে বাধাগ্রস্ত হয়, সেজন্য তারা অন্যান্য দেশের সঙ্গে জোট বেঁধে চিন বিরোধী শিবিরকে জোরালো করতে চাইছে।

গ্লোবাল টাইমস রিপোর্টে আরো বলা হয়, গত ২৯শে জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশমন্ত্রী মাইক পম্পেও বাংলাদেশি বিদেশ মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে একটি টেলিফোন আলোচনা করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছেন টেলিফোনে আর এতে পরিষ্কার যে, তারা মার্কিন-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে শক্তিশালী করার প্রস্তাব দিচ্ছে।

মধ্য অক্টোবরে মার্কিন উপ-বিদেশমন্ত্রী স্টিফেন বিগান বাংলাদেশ সফর করেছেন এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং তার সফরের উদ্দেশ্য ছিল, তাদের প্রণীত ইন্দো- প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি বা এশিয়া- প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশলে বাংলাদেশকে তাদের পাশে পাওয়া।

রাষ্ট্রদূত সাক্ষাৎকারে বলেন, আমি এটা গুরুত্ব দিয়ে বলতে চাই যে, চিনের এই প্রজ্ঞা এবং সামর্থ্য রয়েছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত তথাকথিত ‘থুসিডিডস ফাঁদে’ পা দেবে না এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কতিপয় চিন বিরোধী রাজনীতিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, তারা যেন সেকেলে হয়ে পড়া ঠান্ডা যুদ্ধের মানসিকতা এবং ‘জিরো সাম গেম’ থেকে বেরিয়ে আসেন।

ঢাকার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাংলাদেশের পক্ষে এর আগে একটা জোট নিরপেক্ষ মনোভাব পরিষ্কার করা হয়েছে। চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে বাংলাদেশের সমর্থনকে কথিতমতে ভারত-মার্কিন দৃষ্টিকোণ থেকে সুনজরে দেখা হয় না। আবার যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত (কোয়াড) সমর্থিত ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে বাংলাদেশের সমর্থনকে চিন সুনজরে দেখে না।

Related Articles

Back to top button
Close