fbpx
আন্তর্জাতিকআমেরিকাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

দুর্ঘটনা-ক্যান্সার ছিনিয়ে নেয় স্ত্রী-সন্তানকে, আত্মহত্যার চেষ্টা, একাকী লড়াইয়ে এবার তিনি হোয়াইট হাউসে

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: রাতের ডেলাওয়ার শহর। জাঁকিয়ে পড়েছে শীত। সদ্য খ্রিস্টমাস পেরিয়ে যাওয়া শহরও তাই বেশ ফাঁকা। তবে এই শুনশান শূন্যতা মেখেও ডেলাওয়ারে মেমোরিয়াল ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছেন একজন। রেলিংয়ের ধারে। প্রায় দেড়শো মিটার নিচে বয়ে যাচ্ছে হিমশীতল জলপ্রবাহ, ডেলাওয়ারে নদী। সেদিকেই ঠায় তাকিয়ে রয়েছেন ব্যক্তিটি। মুখ দিয়ে ঘন ঘন বেরিয়ে আসছে ধোঁয়া। দীর্ঘশ্বাসের। ঝাঁপ দেবেন তিনি?

যে সময়ের কথা হচ্ছে সেটা ১৯৭৩ সালের জানুয়ারি মাস। পেরিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের সবথেকে বড়ো উৎসব বড়োদিন। তবে উৎসব তো নয়, যেন বিভীষিকা হয়েই ধরা দিয়েছিল তাঁর কাছে। তাঁর বলতে জো বাইডেন। দুঃখ, যন্ত্রণা আত্মহত্যার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছিল তাঁকে। তবে শেষ অবধি ঝাঁপ দিতে পারেননি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী। সরে এসেছিলেন ব্রিজের ধার থেকে। তাঁকে যে লড়াই করতে হবে।

তার মাস দেড়েক আগেই তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন সেনেটর পদে। ঘরজুড়ে খুশির জোয়ার। স্বপ্নপূরণের স্বাদ। তার মধ্যে বড়োদিনের প্রস্তুতি। দুই পুত্র, কন্যাকে নিয়ে তাই উৎসবের কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন বাইডেনপত্নী।

বাড়ি ফিরেই আনন্দ মেখে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নিজের অফিসে থাকাকালীনই এসেছিল খবরটা। জানতে পেরেছিলেন, একটা ট্রাক পিষে দিয়ে চলে গেছে তাঁর স্ত্রীর গাড়িকে। ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন তিনি। সঙ্গে ফুটফুটে শিশুকন্যা। দুই পুত্রও হাসপাতালে লড়াই করছে জীবনের সঙ্গে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন আশা প্রায় নেই বললেই চলে। অবশেষে মৃত্যু হয় তাদের।

১৯৬১ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় বাইডেনের প্রথম পরিচয়ের নেলিয়া হান্টারের সঙ্গে। বন্ধুত্ব থেকে প্রেম তারপর পরিণয়। ইউনিভার্সিটি তে ছাত্রজীবনে তিনি বিশ্বের এক সফল রাষ্ট্রপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন এবং তা প্রায় বলতেন প্রেমিকা নেলিয়াকে।

প্রিয় মানুষদের হারিয়ে ব্যথায় ভেঙে পড়েননি বাইডেন। তাকে যে মানুষ করতে হবে আর এক পুত্র বিউকে। অতএব শুরু হল আরেক লড়াই। রোজ অফিসে হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পর বাড়ি ফিরছেন তিনি। বাড়ি ফিরে রাতের খাবার রান্না গৃহস্থের নানান কাজ সঙ্গে পুত্রের পড়াশোনা দেখভাল সবকিছুই একা করতে হতো বাইডেনকে। এমনকি রাতে গল্প বলে ঘুম পাড়ানোটাও।
তারপর ধীরে ধীরে শৈশব পেরিয়ে যৌবন অতিক্রমণ হয় পুত্র বিউয়ের। ততদিনে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গ্রাফ অনেক উন্নত হয়েছে বাইডেনের। সেনেটার থেকে তিনি ততদিনে হয়ে গেছেন না ভাইস প্রেসিডেন্ট। পুত্র বিউ তখন অ্যাটর্নি জেনারেল।

এরপরই আবার দুঃসংবাদ। মস্তিষ্কের ক্যান্সারে আক্রান্ত হলেন পুত্র বিউ। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই প্রাণ হারালেন। আবার আঘাত তবু ভেঙে পড়লেন না বাইডেন। তাকে যে আরও লড়তে হবে।

অতএব ২০২০ সাল ৪ নভেম্বর প্রেমিকা তথা স্ত্রী নেলিয়াকে বলা তাঁর সেই স্বপ্ন সফল হল।‌ তিনি হলেন আমেরিকার নয়া প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। অবশেষে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসের দখল নিলেন তিনি।


তার স্বপ্ন সফল হলেও আগামী দিনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে কতটা সফল হবেন সেদিকেই তাকিয়ে আমেরিকা ও বিশ্ববাসী।

Related Articles

Back to top button
Close