fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

চিনের কপালে চিন্তার ভাঁজ, কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের নিষিদ্ধ ঘোষণা আমেরিকার

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: : হংকংয়ের ‘জাতীয় নিরাপত্তা আইন’ নিয়ে আমেরিকা ও চিনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে। হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসনবিরোধী চিনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন প্রশাসন।

শুক্রবার ওই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন বিদেশ মন্ত্রী মাইক পম্পেও।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার, হংকংয়ে চিনের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইন চাপানোর জবাবে সর্বসম্মতভাবে ‘হংকং স্বায়ত্তশাসন আইন’ পাস করেছে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। এই আইনের আওতায় হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসনের টুঁটি চেপে ধরার চিনের চেষ্টায় কেউ সমর্থন দিলে সেই ব্যক্তি বা কোম্পানি নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়বে। এমনকি, হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসন খর্বের চেষ্টায় সমর্থন দেয়া কারও সঙ্গে কোনো ব্যাংকের লেনদেন থাকলে সেই সব ব্যাংকের উপরও আরোপিত হবে এই নিষেধাজ্ঞা।

এদিকে, করোনা সংকটকালে অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে আমেরিকার সঙ্গে ২০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও বিপাকে পড়েছে চিন। দুই দেশের পরস্পরকে দোষারোপের মধ্যেই দক্ষিণ চিন সাগরে উত্তেজনা বেড়েছে। চিনের ওপর সামরিক চাপ বাড়িয়েছে আমেরিকা। এ ছাড়াও, তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনাও বেড়েছে। তাইওয়ান প্রণালীতে মার্কিন উপস্থিতি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। একইসঙ্গে, তাইওয়ানকে ১৮০ মিলিয়ন ডলারের টর্পেডো (যুদ্ধাস্ত্র) দেওয়ায় ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়েছে বেইজিং।

এপ্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শীতল যুদ্ধের সময় মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব ছিল, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মধ্যকার দ্বন্দ্ব এর চেয়েও মারাত্মক হতে পারে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ‘ওয়ার্ল্ড পিস ফোরামে’ বেইজিংয়ের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক স্টাডিজের ডিন ওয়াং জিসি জানিয়েছেন, ‘আগামী চার মাসের মধ্যে এটি প্রায় নিশ্চিত যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারে চিন একটি ইস্যু হয়ে উঠবে। হয়তো ট্রাম্পের প্রচারণার জন্য এমন কিছু ঘটবে, যা দিয়ে এই সময়ের মধ্যে চিনকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হবে। এটা মারাত্মক হতে পারে।’

ওয়াং জিসি আরও বলেন, “মস্কো-ওয়াশিংটন সম্পর্ক ১৯৬২ সালে কিউবান মিসাইল সংকটের মতো ‘তীব্র’ ঘটনার পরেও চার দশকেরও বেশি সময় ধরে স্থিতিশীল আছে। কিন্তু, মহামারী করোনা সংকটের মুহূর্তে যে বিদ্বেষ ছড়িয়েছে, তা ‘স্নায়ুযুদ্ধের চাইতেও বেশি সংবেদনশীল’। তাই এখন প্রশ্ন হলো চিন-মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা দীর্ঘস্থায়ী হবে কী না, সোভিয়েত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্বের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর হবে কী না। এখানে আরেকটি বিষয় হচ্ছে বর্তমানে চিন-মার্কিন উত্তেজনার মধ্যে কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনার কারণে সংঘর্ষ মারাত্মক রূপ নেবে কী না।”

 

আমেরিকা ও চিনের মধ্যে প্রকাশিত দ্বন্দ্ব প্রসঙ্গে ওয়াং জিসি বলেন, ‘একটা সংকটের মধ্যে স্পষ্টভাবে, গোপনীয়তার সঙ্গে এবং কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতিকে জটিল করে ফেলা হয়েছে। এটা ভুল। কূটনৈতিক ইতিহাস আমাদের শেখায় যে, সামরিক সংঘাত নয় কূটনীতিকদের আলোচনার ওপরই আমাদের নির্ভর করা উচিত।’

Related Articles

Back to top button
Close