fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গবিনোদনহেডলাইন

তিন নায়িকার স্মৃতির দরজায় এখনও কড়া নাড়েন উত্তমকুমার 

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: মহানায়কের মহাপ্রয়াণের পর ৪০টা বসন্ত পেরিয়ে আরও একটা ২৪ জুলাই। বাঙালি আজও এই দিনটায় স্মৃতি মেদুর। যেমন আজও টলিউডের তিন প্রবীন নায়িকার স্মৃতির দরজায় এখনও কড়া নাড়েন উত্তমকুমার।বৃহস্পতিবার বৃষ্টিভেজা সকালে বাংলা ছবির ‘চারুলতা’ মাধবী মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আপনাদের মহানায়ক আমার কাছে নিছক বড়ো মাপের অভিনেতা নন, সেইজন্যই আমি আজও তাঁকে মনে রেখেছি। উত্তমকুমার আমার কাছে একজন বিরাট বড়ো মাপের মানুষ। তাঁর ডানহাত বাম হাতের দানের কথা জানত না। ইণ্ড্রাস্টির কতো সামান্য কলাকুশলীদের পাশে তিনি দাঁড়িয়েছেন তার ইয়ত্ত্বা নেই।’

মাধবী বলেন, ‘আমি অনেক কম বয়সে ইণ্ডাস্ট্রিতে এসেছি। অহীন্দ্র চৌধুরী, মহেন্দ্র গুপ্ত, ছবি বিশ্বাসের মতো ব্যক্তিত্বের সঙ্গে অভিনয় করেছি। কিন্তু ওই পর্যন্তই, উত্তম ব্যতিক্রম। দুঃস্থ শিল্পী, কলাকুশলীদের জন্য গড়েছিলেন ‘ শিল্পী সংসদ’। আজও ‘শিল্পী সংসদের’ পক্ষ থেকে দুঃস্থ শিল্পী, কলাকুশলীদের মাসোহারা দেওয়া হয়। হয়তো সেটা খুব বড়ো অঙ্কের নয়, কিন্তু আমরা এখনও সেটা চালু রেখেছি। এই জায়গাটায় উত্তমকুমার সবার থেকে আলাদা। কানন দেবী চেষ্টা করেছিলেন, একটা বাড়িও কিনেছিলেন দুঃস্থ শিল্পীদের বসবাসের জন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নানা কারণে বাস্তবায়িত হয়নি।’তিনি বলেন, ‘ কতো ছবির নাম করবো, শঙ্খবেলা, থানা থেকে আসছি,  অগ্নিশ্বর,,, অজস্র ছবি, অসংখ্য স্মৃতি। কিন্তু ওই যে বললাম,  অভিনেতা নয়, মানুষ উত্তম আমার স্মৃতি জুড়ে আজও।’

আরও পড়ুন:করোনায় দুর্নীতি! স্বাস্থ্য মন্ত্রীর ইস্তফা ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজির বিচার চায় বিএনপি

আর এক নায়িকা শকুন্তলা বড়ুয়া নিজের অভিনয় জীবনের ঈশ্বর মনে করেন উত্তমকুমারকে। টালিগঞ্জে তাঁর একটা ঈর্ষণীয় কীর্তি রয়েছে, জীবনের প্রথম ছবি থেকে পরপর তিনটি ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন মহানায়কের বিপরীতে। প্রথম ছবি ‘ সুনয়নী’, তারপরে যথাক্রমে ‘ রাজনন্দিনী’ ও ‘ প্রতিশোধ’। এতো বছর পরেও বৃষ্টিভেজা দুপুরে বললেন, ‘মহানায়কের বিপরীতে প্রথম শট। আমি ওঁকে চা দিয়ে বলবো ‘ দাদা চা’। উনি আমার পাশে পায়চারি করতে করতে ফিসফিসিয়ে বললেন, প্রথমে ডান পা, তারপর আড়াই পা হেঁটে বাম কানের  কাছে এসে বলবে দাদা চা। তারপর চা টেবিলে রাখবে। আমি যন্ত্রের মতো তাই করলাম। এক শটে টেক ওকে। সবাই হাততালি দিয়ে উঠল। আজ বুঝি, ঠিক ওই জায়গায় পৌঁছে ডায়লগ বলার জন্য পুরো আলোটা পেয়েছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘ এবার করোনার জন্য শিল্পী সংসদের মহানায়কের স্মরণ অনুষ্ঠান অনলাইনে হবে। সামগ্রিক দায়িত্বে রেশমী মিত্র। আমি একটু অন্যভাবে এবার মহানায়ককে স্মরণ করছি। বুদ্ধিটা আমার মেয়ে পিলুই দিল। সুনয়নী ছবির একটি দৃশ্য আমি অডিও অ্যাক্টিং করেছি। রেডিওর ড্রামা অডিশনে যেমন হয়, উত্তমকুমার ও আমার দুজনের ডায়লগ আমিই বলেছি। ভিডিও রেকর্ডিং করেছে আমার বোন, আর সম্পাদনা করেছে পিলু।

আরও পড়ুন:রাস্তাঘাট শুনশান, করোনা আবহে রাজ্যের নির্দেশে চলছে লকডাউন

‘মহানায়কের আর এক প্রিয় নায়িকা সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। উত্তম নিজে বহুবার বলেছেন, ‘সাবি এতো স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় করে আমার টেনশন হয়।’ এদিন প্রসঙ্গটা উঠতেই সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘ আমার সারা অভিনয় জীবনটাইতো উত্তমময়। এতো স্মৃতি নিয়ে বসে রয়েছি।’ সত্যিই তাই, বহু স্মৃতি রয়েছে যা ভোলার নয়। একটা ঘটনা ঘটেছিল ‘ মৌচাক’ ছবির আউটডোরে। লাঞ্চে মহানায়কের পাতে একটা মাছের মুড়ো দেওয়া হয়েছে। সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় আচমকা মাছের মুড়োটা ছিনিয়ে নিলেন। উত্তমকুমার প্রশ্রয়ের কণ্ঠে বললেন, ‘এবার থেকে মাছের মুড়োটা ওর পাতেই দিও।’ প্রসঙ্গটা তুলতে প্রবীন অভিনেত্রী বলেন, ‘ আমি আর কিছু বলবো না।’ সত্যিইতো সব কি বলার কথা। বাইরে হঠাৎ বৃষ্টি নামল। সাবিত্রীর চোখের কোলও কি ভেজা, ভেজা।

Related Articles

Back to top button
Close