fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বাংলা,কেরলে জঙ্গিবাদের দায় বাম-কংগ্রেস-তৃণমূলের! একুশে রাষ্ট্রবাদী সরকারে দাবি ভিএইচপির

রক্তিম দাশ, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলে আলকায়দা জঙ্গি ধরা পড়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)। সোমবার যুগশঙ্খকে একান্ত সাক্ষাৎকারে ভিএইচপি-র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুরেন্দ্র জৈনের দাবি-‘ বাংলা ও কেরলে আজকের এই জঙ্গিবাদী পরিস্থিতির পিছনে দায় ওই রাজ্যে বাম-কংগ্রেস এবং তৃণমূল সরকারের। তাই একুশে বাংলায় চাই রাষ্ট্রবাদী সরকার।’
এদিন সুরেন্দ্র জৈন অভিযোগের সুরে বলেন,‘ বাংলা এবং কেরল এই দু’রাজ্যে এখন জঙ্গিদের হাব তৈরি হয়েছে। এটা তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির অবদান। বাংলায় বামেরা একে তাদের আমলে একে উৎসাহিত করেছে। কিন্তু দিদি সব রের্কড ভেঙে দিয়েছেন। এধরণের রাষ্ট্রবিরোধী কাজ করলে যদি তার শান্তি না হলে তাকে বকলমে উৎসাহিতই করা হয়। এরফলে শুধু বাংলা নয় আজ দেশের সুরক্ষাও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।’

বাংলায় অনুপ্রবেশ আজ জঙ্গি উত্থানে কারণ হিসাবে কাজ করছে বলে মনে করেন সুরেন্দ্র জৈন। তিনি বলেন,‘ বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বলেছিলেন। সে দিনের পর থেকে এখনকার অবস্থা আরও খারাপ। বিএসএফ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী তাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন। কিন্তু সীমান্তে যেখানে কাঁটাতার নেই, নদীভিক্তিক সীমান্ত আছে সেসব রাস্তা দিয়ে অবাধে অনুপ্রবেশ হচ্ছে।

এসব অনুপ্রবেশকারিরা আমাদের দেশের ভালোর জন্য আসছে না। সে রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি যেই হোক না কেন। এরা জেহাদি মিশনের জন্যই আসছে। বামেদের মতো তৃণমূলও এদের আশ্রয় দিচ্ছে ভোটের জন্য।’
স্থানীয়দের একাংশ জঙ্গিদের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করে সুরেন্দ্র জৈন বলেন,‘ আল কায়েদা,আইএস স্থানীয়দের যুক্ত করে বিভিন্ন তথ্য নিয়ে টার্গেট তৈরি করছে। এই সমর্থন না পেলে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিতে পারে না। লজিস্টিক সর্মথন তারা অবশ্যই পাচ্ছে। ইউপিএ সরকারের আমলে যে পরিমান জঙ্গি হামলা দেশে হয়েছিল বর্তমান বিজেপি সরকারের আমলে তা হয়নি। মোদি সরকারের জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কড়া নজরদারির কারণে জঙ্গিরা তাদের টার্গেট পূরণ করতে পারছে না। বিভিন্ন এনজিও-ও নামে বিদেশি টাকা আসে জঙ্গিদের কাছে। সংসদে মোদি সরকার এনজিও গুলোর বিদেশি ফান্ড বন্ধ করার বিল আনলে,ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো এর বিরোধীতা করে বকলমে জেহাদিদেরই মদত দিচ্ছেন।’
বাংলায় রাজনৈতিক বাধা উপেক্ষা করে কাজ করছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা তাই সফলতা আসছে বলে মনে করেন ভিএইচপি-র সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন,‘ বাংলায় কাজে বাধা আসছে তার প্রমাণ মুশির্দাবাদে আল কায়েদা জঙ্গি গ্রেফতারের ঘটনা। বাংলার পুলিশ কিন্তু এদের ধরেনি। এনআইয়ে এদের ধরেছে। এতে পরিষ্কার হয় জঙ্গিরা স্থানীয় রাজনীতিক নেতাদের সমর্থন পাচ্ছে। যাঁরা জঙ্গিদমনে বাধা দিচ্ছে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া আইনী বব্যস্থা নিতে হবে। এটা দুর্ভাগ্যজনক। কেন্দ্রকে হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে বাংলায় জঙ্গি ধরতে।’
জঙ্গি ঠেকাতে বাংলাদেশ সীমান্ত সিল করার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন না সুরেন্দ্র জৈন। তিনি বলেন,‘ ওপারে আমাদের বন্ধু সরকার রয়েছে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে আমাদের শক্তি বাড়িয়ে জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করতে হবে। জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস নয়। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারিদের ফেরত যেতেই হবে।’

বাংলায় জঙ্গিবাদ রুখতে সরকার পরিবর্তনের দাবি করেন সুরেন্দ্র জৈন। তিনি বলেন,‘ আমি বাংলায় হিন্দুত্ববাদী সরকারের কথা বলছি না। কারণ মুসলিম ভাইদের মধ্যে এপিজে আবদুল কালামের মতো রাষ্ট্রবাদী মানুষরাও রয়েছেন। আমরা তাঁদের মনে কখনই আঘাত দিতে চাই না। বাংলায় জাতীয়তাবাদি-রাষ্ট্রবাদী সরকার আসুক। যাঁরাই পারবেন জঙ্গিবাদকে রুখে দিতে।’

Related Articles

Back to top button
Close