fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মতুয়া তীর্থ ঠাকুরবাড়ির মাটি ও জল রামমন্দিরে ভূমিপুজোয় ব্যবহার করা হয়েছে: ভিএইচপি

ইন্দ্রাণী দাশগুপ্ত ,নয়াদিল্লি: মতুয়া তীর্থ ঠাকুরবাড়ির মাটি এবং জল রামমন্দিরের ভূমিপুজোয় ব্যবহার করা হয়েছে বলে সাফ জানিয়ে দিল বিশ্ব হিন্দুপরিষদ। ঠাকুরনগরে মাটি এবং জল ব্যবহার নিয়ে যে বির্তক তৈরি হয়েছে তা উদ্দেশ্যমূলক বলেও দাবি করেছেন ভিএইচপির আন্তর্জাতিক সভাপতি অলক কুমার এবং সর্বভারতীয় যুগ্ম সম্পাদক সুরেন্দ্র জৈন।

উল্লেখ্য, অযোধ্যার রামমন্দিরের ভূমিপুজোর জন্য দেশের বিভিন্ন তীর্থক্ষেত্রের পবিত্র মাটি এবং জল অযোধ্যায় পাঠানোর দায়িত্ব নিয়েছিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণেশ্বর ,তারাপীঠ, মায়াপুর সহ শ্রীধাম ঠাকুরবাড়ির হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরের জল ও মাটি ও পৌঁছে যায় অযোধ্যায়। কিন্তু এটা নিয়ে এক নতুন বিতর্ক তৈরি হয়। তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ এবং মতুয়া ঠাকুরবাড়ির বড় বউ মমতা বালা ঠাকুর দাবি করেন মতুয়ারা নিম্নবর্ণের বলে মন্দির নির্মাণের কাজে ঠাকুরবাড়ির জল ও মাটি ব্যবহার করা হয়নি । শুধু একটি বাংলা টিভি চ্যানেলের লাইভে বসে সিপিএম বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্যও একই অভিযোগ করেন। এরপরেই বাংলা সহ দেশজুড়ে মতুয়া সমাজের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিায় তৈরি হয়।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পক্ষ থেকে পূর্ব ক্ষেত্র সম্পাদক অমিয় সরকার বলেন,‘ গত ৪ আগস্ট ঠাকুরবাড়ির হরিচাঁদ মন্দিরের জল ও মাটি ভিএইচপির বারাসাত জেলা কমিটির পক্ষ থেকে অযোধ্যায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এই ধরনের জল্পনা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এর দ্বারা সমগ্র মতুয়া সমাজকে তীব্র অপমান করা হলো বলে আমি মনে করি।’

মতুয়া মহাসঙ্ঘের সংঘাধিপতি এবং বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর এই বিষয়টিকে উড়িয়ে দিয়ে ভিডিও বার্তায় বলেন,‘ এটা চক্রান্ত করছে একটি রাজনৈতিক দল।’ মতুয়া ভক্তরা গুজবে কান দেবেন না বলে তিনি আহ্বানও জানান। বিজেপির তপশিলি মোর্চার পক্ষ থেকে রাজ্য সভাপতি দুলাল চন্দ্র বরও এই ঘটনার প্রতিবাদ করে জানান, এই ধরনের রটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য মতুয়াদেরকে বিভ্রান্ত করতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নামে এই ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’ বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আন্তর্জাতিক সভাপতি অলক কুমার বলেন, ‘সমস্ত ধর্মমত এবং তীর্থস্থানের মাটি ও জল দিয়ে তৈরি হবে রাম মন্দির। কারণে রাম মন্দির শুধু হিন্দুদের একটা তীর্থস্থান নয়, এটা ভারতের সনাতন ধর্মের প্রতীক হয়ে উঠবে। সেখানে মতুয়া ধর্মমতের জল এবং মাটি অবশ্যই ব্যবহার করা হবে একথা আমি হলফ করে বলতে পারি। কারণ আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি যে রাম মন্দিরের শিলান্যাস করেছিলেন কামেশ্বর চৌপালা নামে একজন দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ। যিনি বর্তমানে রাম মন্দির ট্রাস্টের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। সেই রাম মন্দির নিয়ে এই ধরনের অপপ্রচার কখনোই মেনে নেবে না বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।’
ভিএইচপির যুগ্ম সম্পাদক সুরেন্দ্র জৈন বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সরকার এখন চাইছে যেভাবেই হোক জাতপাতের একটা লড়াই শুরু করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে। মতুয়া মহাসংঘ ও সমস্ত হিন্দু সংগঠন রামের নামে একতাবদ্ধ। হিন্দু ধর্ম একটা মহান সংস্কৃতির নাম। সেই সংস্কৃতির মধ্যে যেমন আছে জৈন বৌদ্ধ শিখ ধর্ম ঠিক তেমনই আছে মতুয়া ধর্মও। কারণ আমাদের সমস্ত ধর্মমতের আদি হল সনাতন হিন্দু ধর্ম। সেখানে জাতপাতের বিচার করে যারা রাজনীতি করছেন তারা হিন্দু ধর্মের কাছে অপরাধী শুধু নয়, তারা হিন্দু ধর্ম বিরোধী বলে আমি মনে করি। রামমন্দিরকে কলুষিত করার জন্য আর একটা ধর্মমতকে অপমান করার অধিকার কেউ দেয়নি মমতা সরকারকে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পক্ষ থেকে এই ধরনের রটনা এবং মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করছি এবং অবিলম্বে যদি এই বক্তব্য প্রত্যাহার না করা হয় তাহলে আইনত ব্যবস্থা নেওয়ারও চিন্তা করছি।’

অন্যদিকে, বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এদিন বলেন,‘ ঠাকুরবাড়ি এবং হরিচাঁদ ঠাকুর কে অপমান করার এক নতুন কৌশল খুঁজে নিয়েছে শাসক তৃণমূল। ভগবান শ্রী রাম সমস্ত মানুষকে দেব জ্ঞানে পূজা করতেন। যে ভগবান শ্রী রাম সমস্ত শ্রেণীর মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চলতেন সেই ভগবানের মন্দির প্রতিষ্ঠায় মতুয়া তীর্থক্ষেত্রের জল ও মাটি ব্যবহার করা হবে না এটা শুধু অসম্ভবই নয়,অকল্পনীয়। শাসক দল তৃণমূল রাজনৈতিক প্রতি হিংসা চরিতার্থ করার জন্য এখন দেবতাদেরও ছাড় দিচ্ছে না। হরিচাঁদ ঠাকুর, গুরুচাঁদ ঠাকু জীবন দর্শন এবং চিন্তাভাবনা আমাদের সবার কাছে প্রণম্য এবং অনুসরণীয়। প্রধানমন্ত্রী মোদি,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সবাই প্রণাম করেন এই প্রবাদপ্রতিম দুই মহাপুরুষকে। প্রধানমন্ত্রীর নিজে ঠাকুরবাড়িতে গিয়েছেন। বড়মা বীণাপাণি দেবীর পায়ের কাছে মাটিতে বসে তাঁর আশীর্বাদ নিয়েছেন। তারপরেও শাসক তৃণমূল এই ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরকে যেভাবে অপমান করার চেষ্টা করছে মতুয়া ভক্তরা তার তীব্র বিরোধিতা করবে বলেই আমার বিশ্বাস।’

দিলীপবাবু আরও বলেন,‘ সংশোধিত নাগরিকত্ব বিল আইনে পরিণত হওয়ার পর সবথেকে বেশি উপকৃত হয়েছেন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষেরা। তাঁরা বুঝেছেন বিজেপি সরকার যা বলে সেই কথা তারা রাখে। তাই তারা বিজেপির পতাকার তলায় সংগঠিত হচ্ছেন। এখানেই গাত্রদাহ হচ্ছে শাসক তৃণমূলের। কারণ এতদিন ধরে তারা যে রূপকথার গল্পের ফানুস মতুয়াদের সামনে ফুলিয়ে রেখে বিভ্রান্ত করে তাদের ভোট বাক্স হিসাবে ব্যবহার করছিলেন সেটা এখন আর চলবে না। এখন মতুয়ারা বুঝে গেছেন কারা সঠিক? তাই মতুয়া ভোটকে নিজেদের দিকে ফিরিয়ে আনতে তৃণমূল মতুয়া সমাজ কে এবং ভগবান হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরকেও নিম্নবর্ণের বলে অপমান করতে পিছপা হল না।’

Related Articles

Back to top button
Close