fbpx
দেশহেডলাইন

সাধুদের সুরক্ষার দাবিতে রাষ্ট্রপতির দরবারে ভিএইচপি

ইন্দ্রাণী দাশগুপ্ত, নয়াদিল্লি: লকডাউনের সময় সারাদেশে বারে বারে আক্রান্ত হচ্ছেন হিন্দু  সাধুরা। পালঘর এরপর বুলান্দশহর। আবার খুন হলেন দুজন হিন্দু সাধু। তাই এবার হিন্দু সাধুদের সুরক্ষার জন্য রাষ্ট্রপতিকে ভারতবর্ষের প্রত্যেকটি রাজ্য থেকে ভায়া রাজ্যপাল মেমোরেন্ডাম পাঠাতে চলেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।

একই সঙ্গে বারে বারে সাধুদের উপর হামলার ঘটনায় কট্টরবাদী বামপন্থী রাজনীতিবিদ এবং খ্রিস্টান মিশনারীদের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক সুরেন্দ্র জৈন বলেন কট্টর বামপন্থীরা নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখার জন্য খ্রিস্টান মিশনারীদের সাথে হাত মিলিয়ে বারে বারে এই ধরনের ঘটনা ঘটনা ঘটাচ্ছেন। পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি বলেন, বামপন্থীদের এই ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ লকডাউন উঠলেই একযোগে শুরু করবে সমগ্র হিন্দু সন্ত সমাজ। একই সাথে হিন্দু মহাসভাও রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে হিন্দু সাধুদের সুরক্ষার জন্য অস্ত্র রাখার অনুমোদন জন্য আবেদন করতে চলেছেন এবং এই বিষয়ে যাতে আইন সংশোধন করা যায় সেই কারণে তারা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছে হিন্দু মহাসভার জাতীয় সভানেত্রী রাজশ্রী চৌধুরী।

পালঘর সাধু হত্যা ঘটনায় প্রতিবাদে মঙ্গলবার সারাদেশে প্রদীপ জ্বালিয়ে নিহত ২ সাধু এবং তাদের ড্রাইভার এর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচি  পালন করল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ । এই প্রসঙ্গে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুরেন্দ্র জৈন যুগ শঙ্খকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন , পশ্চিমবঙ্গের বিজন সেতুর ঘটনা থেকে শুরু করে বারে বারে বামপন্থীরাই হিন্দু সন্তদের বিরোধিতা করেছেন ।এবং তাদের উপরে আঘাত করেছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় গৃহ মন্ত্রকের একটি রিপোর্ট উদ্ধৃত করে বলেন, ২০১৭ সালে সারা ভারতবর্ষে বামপন্থীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৯০০ জন। যার মধ্যে ২০০ জনের বেশি মানুষ মারা যান । ২০১৮ সালে ৮০০ জনের বেশি মানুষ বামপন্থীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন সেক্ষেত্রেও ২০০ জনের বেশি মানুষ মারা যান।

২০১৯ সালে ৭০০ জনের বেশি মানুষ বামপন্থীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন এবং তার মধ্যে ২০০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন। সুতরাং গৃহ মন্ত্রণালয়ের এই যে হিসাব এর থেকে পরিষ্কার দল হিসাবে বামপন্থীরা কতটা হিংস্র। আমি পালঘর সাধু হত্যা মামলায় এই প্রসঙ্গের অবতারণা করছি কারণ যে বিধানসভার মধ্যে এই ঘটনাটা ঘটেছে সেখানকার বিধায়ক একজন বামপন্থী। ফরেস্ট অফিসাররা পুলিশের হাতে এই দুজন সাধুকে তুলে দিলেও কিভাবে পুলিশের সামনেই এদের মারা হলো সেই বিষয়ে একটি শব্দও এখনো পর্যন্ত উল্লেখ করেননি এই বিধায়ক। এবং যারা এই সাধুদের পিটিয়ে হত্যা করল তাদের অধিকাংশই বামপন্থী মানসিকতার সাথে যুক্ত বলে আমরা জানতে পারছি।

সুতরাং এর থেকে পরিষ্কার সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করেই এই সাধুদের পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুলান্দ শহরের ঘটনা তীব্র নিন্দা করে সুরেন্দ্র জৈন বলেন যেকোনো মৃত্যুই আমাদের জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক ।আর সাধুরা যারা সংসারের কোনো লেনদেনের মধ্যে থাকেন না যারা সংসার থেকে দূরে ছোট ছোট একটা ঘর তৈরি করে বা মন্দিরের মধ্যে বসবাস করেন ।তাদের যারা নিশংস ভাবে হত্যা করতে পারে তাদের জন্য কোন শাস্তিই যথেষ্ট নয়। যাতে ভারতবর্ষে সাধুদের উপর এই ধরনের হামলা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় সেই কারণে আমরা সারা দেশ জুড়ে একটা কর্মসূচি নিয়েছি ।যেখানে প্রতিটি রাজ্য থেকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ একটা মেমোরেন্ডাম জমা দেবে রাজ্যপাল কে। এবং সেই মেমোরেন্ডাম গুলো রাজ্যপাল পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতিকে পাঠাবেন। এই মেমোরেন্ডাম এ ভারতীয় সাধু এবং সন্ত সমাজের স্বার্থ সুরক্ষিত করার জন্য একাধিক বিষয়ের অবতারণা করা আছে ।এবং আমাদের বিশ্বাস মাননীয় রাষ্ট্রপতি নিশ্চয়ই এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন এবং সাধুদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

বুলন্দশহরে দুই সাধুর হত্যাকান্ডের ঘটনা প্রসঙ্গে  পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সম্পাদক শচীন্দ্রনাথ সিংহ জানান, বারে বারে হিন্দু সাধুদের উপরে এই ধরনের ঘটনা একটা অন্য ইঙ্গিত করছে। বহু মানুষ আমাদের দেশে বসবাস করেন যারা ভারতীয় নাগরিক বলে নিজেদের পরিচয় দেন । এবং তাদের বৈধ আধার কার্ড থাকা সত্ত্বেও তারা হিন্দুত্ববাদ কে সহ্য করতে পারছেন না। সেই কারণে বারে বারে হিন্দু সাধুদের উপরে আক্রমণ নেমে আসছে। আমি তীব্র ভাষায় এই ঘটনার প্রতিবাদ করছি এবং অপরাধীদের গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি ।

বারেবারে সাধুদের উপরে এই ধরনের নির্মম অত্যাচারের বিরুদ্ধে কট্টরবাদীদের তোপ দেগে হিন্দু মহাসভার সভানেত্রী রাজশ্রী চৌধুরী বলেন একমাত্র এই দেশে এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি তৈরি হয়ে আছে যদি না হিন্দু সাধুরা নিজেদের অস্ত্র নিজেরাই তুলে না নেন তাহলে তাদের রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে সরকারের পক্ষে । কারণ হিন্দু সাধুরা লোকসমাজের বাইরে কখনো গোষ্ঠীবদ্ধভাবে কখনো বা একা একা বসবাস করেন ।এবং ভারতবর্ষে এই বেশ কয়েক দিনের মধ্যে যেভাবে হিন্দু সাধুদের উপর একের পর এক আক্রমণের ঘটনা ঘটছে সেটা হিন্দু ধর্মের জন্য যথেষ্ট অশুভ সংকেত। এবং এখনই না এই ঘটনাকে বর্ন্ধ না করা যায় তাহলে হিন্দু সাধু সমাজকেই রুখে দাঁড়াতে হবে। তখন দেশের মধ্যে একটা অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হবে । দেশের আভ্যন্তরীণ  পরিবেশের জন্য  মোটেই সুখকর হবে না । সেই কারণে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে আমরা আবেদন জানাবো যাতে তারা হিন্দু সাধুদের সাথে অস্ত্র রাখার অনুমতি দেন। এবং তার জন্য যদি প্রয়োজন হয় অস্ত্র আইনের পরিবর্তন করার জন্য আমরা  সুপ্রিম কোর্টে ও আবেদন করবো।

Related Articles

Back to top button
Close