fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে দফতরে বিক্ষোভ গ্রামবাসী ও শাসক দলের কর্মীদের

মিল্টন পাল, মালদা: শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে দফতরে তালা মেরে ঘেরাও করে বিক্ষোভ গ্রামবাসী ও শাসক দলের কর্মীদের। অভিযোগ, দফতরে সঠিক সময়ে কোনও কর্মী আসে না। যার ফলে গ্রামের মানুষদের অসুবিধায় পরতে হয়। ফলে গ্রামের মানুষদের কাছে পঞ্চায়েত সদস্যদের ক্ষোভের মুখে পরতে হচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার মালদার চাঁচল ১ নম্বর ব্লকের অলি ওন্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতে।

 

দীর্ঘক্ষন বিক্ষোভ দেখানোর পর পঞ্চায়েত প্রধানের আশ্বাসে ওই বিক্ষোভ তুলে নেয় শাসকদলের কর্মী ও গ্রামবাসীরা। যদিও অভিযোগ অস্বীকার কর্মীদের। জানা গিয়েছে, গ্রামের মানুষদের বিভিন্ন কাজের জন্য গ্রামপঞ্চায়েতে যেতে হয়। দিনের পর দিন কাজ বন্ধ করে গরীব গ্রামের মানুষ দফতরে পরে থাকে। একদিকে করোনা আবহ অন্যদিকে রোজগারের আশায় কাজ করতে হচ্ছে জীবন বাঁচানোর তাগিদে। সেখানে কাজের জন্য প্রতিদিন দপ্তরে গিয়ে ঘুরে আসছে গ্রামের মানুষ। যার জবাবদহি করতে হচ্ছে শাসকদলের মেম্বারদের।

বিষয়টি বার বার প্রধানকে জানালেও কোন লাভ না হওয়া এদিন গ্রামের মানুষ ও শাসকদলের সদস্যরা পঞ্চায়েত দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।পঞ্চায়েত দফতরে আসা সাধারণ মানুষরা অভিযোগ করেন,গত ১৫ দিন ধরে একটা কাজে পঞ্চায়েতে আসছি কিন্তু দপ্তরে কর্মীদের দেখা মেলে না। এদিনিও প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দফতরের বাইরে কাজের জন্য বসে আছি কিন্তু কোনো কর্মী না আসায় দফতর বন্ধ রয়েছে। তাই আমরাও বিক্ষোভ দেখাছি।

শাসক দলের নেতা তথা ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য নজরুল ইসলামের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অলি ওন্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের সরকারি কর্মচারীরা নির্দিষ্ট সময়ে পঞ্চায়েত দফতরের আসছেন না। পাশাপাশি দপ্তরের কাজেও তারা জনগণকে নানাভাবে নাজেহাল করছেন। এদিন এই অভিযোগ তুলে ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের সদর দরজায় তালা মেরে বিক্ষোভ দেখায় ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের সদস্য নজরুল ইসলাম ও তার অনুগামীরা।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন যে, প্রতি দিন পঞ্চায়েত দফতরের কর্মীরা নির্দিষ্ট সময় মত দফতরে আসেনা। যার ফলে দফতরে আসা সাধারণ মানুষ নাজেহাল হতে হয়। যার ফলে আমাদের উপরে ওই ক্ষোভ এসে পরে। এদিনও ওই একই চিত্র দেখা পাওয়া যায়। পঞ্চায়েত দফতরের সামনে বহু মানুষ বিভিন্ন কাজে এসে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। অথচ দফতরে কোনো কর্মী আসেননি । প্রায় এক ঘন্টা পরে কর্মীরা দফতরে আসলে তাদের দফতরের বাইরে বের করে তালা মেরে বিক্ষোভ দেখানো হয়।

পঞ্চায়েতের কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কর্মীরা।ওই দফতরের সচিব সুশীলচন্দ্র দাস জানান, আমরা সঠিক সময়ে দফতরে আসি।মাঝে মাঝেই আমাদের দফতরের বাইরেও কাজ থাকে বা ব্লক দফতরে কাজে যেতে হয় ফলে কয়েকদিন সময় মত হাজির হতে পারিনা । তবে প্রতিনিয়ত এমন ঘটনা ঘটে না।যারা এই অভিযোগ তুলছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

উত্তর মালদার সংসদ খগেন মুর্মু বলেন, তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতগুলি কাটমানি আর দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। আর সেই পরিস্থিতিতে এদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কিছু পঞ্চায়েত কর্মী।সেই কারণেই যখন কাটমানির ব্যাপার থাকে না তারা তখন অফিস সঠিক সময় আসেনা।আর যখন টেন্ডার আর কাটমানির ব্যাপার থাকে তখন তারা ওভারটাইম করে। আজকে তৃণমূলের একাংশ যে অভিযোগ এনেছে এই অভিযোগ আমরা অনেকদিন আগে থেকেই করছি। যেভাবে দুর্নীতি সরকারি কর্মী ও শাসক দলের নেতাদের মধ্যে ছড়িয়েছে তাতে আগামী কিছুদিনের মধ্যেই তৃণমূল নামক দলটা উঠে যাবে।

জেলা তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটর দুলাল সরকার বলেন, কিছু সরকারি কর্মী যদি সঠিক সময়ে না আসে আমরা দলের পক্ষ থেকে বলব প্রশাসনিক কর্তাদের তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।

Related Articles

Back to top button
Close