fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ঢোলাহাটে ‌শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে গ্ৰামবাসীদের খণ্ডযুদ্ধ, গ্ৰেফতার ২৮

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢোলাহাট:‌ রাম মন্দিরের ভূমি পুজোর দিন ঢোলাহাটের শিমুলবেড়িয়াতে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীদের সঙ্গে পুলিশের খণ্ডযুদ্ধের ঘটনায় ২৮ জনকে গ্ৰেফতার করল পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে ৬ জন মহিলা। ধৃতদের কাকদ্বীপ মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। ২ জনকে পুলিশ হেফাজত ও বাকিদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ অস্থায়ী ছাউনি-‌সহ শিবলিঙ্গ এলাকা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তবে পুরো ঘটনায় পুলিশের অতিসক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে। শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা বাধা দিতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীদের সংঘর্ষ বেধে যায়। গ্রামবাসীদের লাঠি, ইটের আঘাতে ৩ পুলিশকর্মী জখম হয়। ভাঙচুর করা হয় পুলিশ জিপ। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশের অভিযানের বিষয়ে বিডিও কিছুই জানতেন না। অথচ কোন উচ্ছেদ অভিযানে গেলে মহকুমা প্রশাসনের অনুমতি ও উপস্থিতি প্রয়োজন। এক্ষেত্রে প্রশাসনের কোন অনুমতি ছিল না। নিদেনপক্ষে বিষয়টি জানানোও হয়নি। এমনকি স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক যোগরঞ্জন হালদারও কিছুই জানতেন না। ঘটনার পর তিনি থানায় এসে পুরো বিষয়টি জানতে পারেন। তিনিও পুলিশের কাজে খুশি নয়। কারণ এই ঘটনায় রাজনৈতিক জমি পেয়ে যাবে বিজেপি। মেরুকরনের ফায়দা তুলবে বিজেপি।

বিশেষ একটি ধর্মের মানুষের মনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া তৈরী হয়েছে। এছাড়া ওই গ্রামে ঢুকে পুলিশ ধরপাকড়ের নামে নিরীহ গ্রামবাসীদের হেনস্থা করেছে বলে অভিযোগ। শিমুলবেড়িয়া গ্রাম কার্যত পুরুষ শূন্য। ইতিমধ্যে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন এই ঘটনা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে জোর প্রচার শুরু করেছে।
রামগঙ্গা রোডের পাশেই শিমুলবেড়িয়া বাস মোড়। এখানে বিদ্যুত দপ্তরের পাওয়ার হাউস আছে। সেই পাওয়ার হাউসের সামনের ফাঁকা জমিতে স্থানীয় বাসিন্দারা কয়েকদিন আগে থেকে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠার তোড়জোড় শুরু করে। পুলিশের অভিযোগ জায়গাটি সরকারি।

অন্যদিকে গ্রামবাসীদের দাবি, এলাকার এক ব্যক্তির দখলে ছিল ওই জমি। মন্দির প্রতিষ্ঠার জন্য স্বেচ্ছায় দান করেছেন। মঙ্গলবার দিনভর একটি অস্থায়ী ছাউনি করে শিবলিঙ্গ স্থাপন করা হয়। ওই দিন সন্ধেয় পুলিশ খবর পেয়ে কয়েকজন গ্রামবাসীকে থানায় ডাকে। ওই ছাউনি ভেঙে নিতে বলে। এবং এক গ্রামবাসীকে আটকে রাখে বলে অভিযোগ। বুধবার সকালে ফের এলাকায় পুলিশ ঢোকে। তখন গ্রামবাসীরা শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠার তোড়জোড় করছিল। পুলিসের সঙ্গে বচসা শুরু হয় গ্রামবাসীদের। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আক্রান্ত হয় পুলিশ।

সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার বৈভব তেওয়ারি নিজে চলে আসেন ঘটনাস্থলে। তিনিও অখুশি হন। ঘটনার পর বিষয়টি জানতে পারে ডায়মন্ড হারবারের মহকুমা প্রশাসন। পরে বিষয়টি জেলা শাসক পি উলগানাথনও জানেন। কিন্তু জেলা প্রশাসন কোন হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি। বিধায়ক ঘনিষ্ঠমহলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পুলিশের ওপর আক্রমনের নিন্দা করেছেন বিধায়ক। কিন্তু পুলিশি অভিযানের নামে বাড়াবাড়ি যাতে না হয় সে বিষয়েও সতর্ক করে দিয়েছেন। ‌

Related Articles

Back to top button
Close