fbpx
আন্তর্জাতিকহেডলাইন

শান্তি চুক্তি সত্ত্বেও আফগানিস্তানে সহিংসতা বেড়েছে ৫০ ভাগ

ওয়াশিংটন ও কাবুল: আমেরিকার সঙ্গে তালিবানের শান্তি চুক্তি সই হয়েছে, কাতারের দোহায় আফগান সরকারের সঙ্গে উগ্র এ গোষ্ঠীর আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, কিন্তু তার পরেও চলতি বছর আফগানিস্তানে সহিংস হামলার ঘটনা বেড়েছে ৫০ শতাংশ। মার্কিন কংগ্রেসে জমা দেয়া এক রিপোর্টে এমনটাই জানিয়েছেন আফগানিস্তান পুনর্গঠন বিষয়ক মার্কিন স্পেশাল ইন্সপেক্টর জেনারেল।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, আগের তিন মাসের তুলনায় জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে আফগান নিরাপত্তা বাহিনী এবং সাধারণ জনগণের ওপর হামলার ঘটনা শতকরা ৫০ ভাগ বেড়ে গেছে। গত তিন মাসে আফগানিস্তানে ২,৫৬১ জন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছে। এরমধ্যে ৮৭৬ জন মারা গেছে যা এপ্রিল থেকে জুন মাসের তুলনায় শতকরা ৪৩ ভাগ বেশি। ঋতুভিত্তিক যে হামলার ঘটনা ঘটে এই তিন মাসে তা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে আফগানিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ঘাঁটিগুলোতে তালিবান হামলা জোরদার করার প্রেক্ষাপটে আফগানিস্তানে সহিংসতা অনেক বেড়ে গেছে। তবে, আফগান সরকার এবং তালিবান, দু’পক্ষই এর জন্য পরস্পরকে দোষারোপ করছে। এপ্রসঙ্গে আফগান সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র ফাওয়াদ আমান জানিয়েছেন, ‘আন্তঃআফগান আলোচনার শুরুর কারণে আমরা প্রত্যাশা করেছিলি তালিবান হয়তো তাদের হামলা কমিয়ে দেবে। কিন্তু, দুঃখের বিষয় হলেও সত্যি যে, তারা এখনও ব্যাপক মাত্রায় হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে।’

এমনকি, এই উগ্রপন্থীদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না আফগানিস্থানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি। দেহে বিস্ফোরকভর্তি বেল্ট বেঁধে গত ২ নভেম্বর, কাবুল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকে হত্যাকাণ্ড চালায়। এই হামলায় নিহত হন ২২ জন, আহত হন কয়েক হাজার, পরে দেশজুড়ে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হয়। সূত্রের খবর, এই হামলার সময় ক্যাম্পাসে প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। একজন সরকারি আধিকারিক স্যোসাল মিডিয়ায় কিছু ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে দেখা যায়, ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীদের লাশ পড়ে আছে এবং তাদের লাশের কাছে তাদের বইপত্র এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে। পরে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আইএসআইয়ের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। আর এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে আফগানিস্তানের গোয়েন্দা বিভাগের মারাত্মক দুর্বলতা ফুটে ওঠে।

Related Articles

Back to top button
Close