fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রেশন বন্টন নিয়ে স্মারকলিপি, বিজেপির ওপর পুলিশি লাঠিচার্জকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত বারাবনি

শুভেন্দু বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রের বারাবনি বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ ও গরীব মানুষেরা রেশন ঠিকমতো পাচ্ছেন না। বুধবার সেই অভিযোগ নিয়ে বিজেপির তরফে বারাবনি ব্লকের বিডিওকে স্মারকলিপির দেওয়ার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিডিও অফিস চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ যে সেখানে কর্মসূচি চলাকালীন বিজেপির কর্মীদের উপরে বিনা প্ররোচনায় বারাবনি থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। সেই লাঠিচার্জের ঘটনায় বারাবনি বিধানসভার সাংসদ প্রতিনিধি সনৎ মন্ডল, গৌতম পাণ্ডে সহ বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী আহত হয়। বারাবনির স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বাকিদেরকে চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হলেও, সনৎ মন্ডল ও গৌতম পান্ডেকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে আনা হয়। আসানসোল দূর্গাপুর পুলিশের ডিসিপি (পশ্চিম) অনমিত্র দাস এদিন বিকালে বারাবনিতে বিজেপি কর্মীদের উপরে লাঠিচার্জ করার কথা অস্বীকার করে৷

অন্যদিকে, বারাবনি থানার ওসি অজয় মণ্ডলের বক্তব্য, বিজেপির নেতা ও কর্মীরা বিনা অনুমতিতে বিডিও অফিসে বিক্ষোভ করছিলো। যা তারা করতে পারেননা। তাই পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দিয়েছে।
বারাবনি ব্লকের বিডিও সুরজিৎ ঘোষ বলেন, বিজেপির কর্মীরা রেশন না পাওয়া লোকেদের নামের তালিকা বা স্মারকলিপি দিতে আসবেন, তা আমার আগাম জানা ছিল না। স্মারকলিপি দিতে গেলে অনুমতি নিতে হয় বা জানাতে হয়। কেউ আমাকে তা জানায়নি। তাই আমি ছিলাম না। স্মারকলিপি দিতে আসা বিজেপির নেতা ও কর্মীদের উপরে অফিস চত্বরে পুলিশের লাঠিচার্জ করার বিষয়ে বিডিও বলেন, এই ঘটনার কথা আমার জানা নেই৷
আহত সনৎ মন্ডল ও গৌতম পান্ডে বলেন, সাংসদের প্রতিনিধি হিসাবে আমরা রেশন না পাওয়া গরীব মানুষদের নামের তালিকা দিতে এদিন বারাবনি বিডিও অফিসে কয়েকজন যাই। বিডিও ছিলেন না। আমাদের বলা হয়, বিকালে বিডিও এসে তা নেবেন। আমরা তা শুনে বিডিও অফিসের বাইরে এসে হাঁটছিলাম। সেই সময় আচমকাই বারাবনি থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশ এসে আমাদের উপরে লাঠিচার্জ করেন।
আসানসোলের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়ের প্রতিনিধি হিসাবে আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রশান্ত চক্রবর্তী এই প্রসঙ্গে বলেন, প্রশাসনিক স্তরে সর্বদলীয় বৈঠকে বলা হয়েছিলো ব্লক এলাকায় যাদের রেশন কার্ড নেই বা রেশন পাননি, তাদের বিডিও অফিসে আবেদন করতে হবে। তাই আমরা সাংসদের নির্দেশ মতো তার প্রতিনিধি হিসাবে বিধানসভার দায়িত্বে আছি, তারা সাধারণ মানুষের নামের তালিকা এদিন জমা দিতে যাই। ব্লক নেতৃত্ব এতে ছিলোনা। তাতেই বারাবনিতে এই ঘটনা। সালানপুরে বিডিও তা নিতে অস্বীকার করেন। অন্য বিডিওরা নিয়েছেন। প্রশান্তবাবুর অভিযোগ, পুলিশ ও প্রশাসন শাসক দলের দলদাসে পরিনত হয়েছে। তবে, বিজেপির বারাবনি মন্ডলের সভাপতি সাধন রাউত বলেন, দলের তরফে এদিন এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে, আমার জানা ছিল না। এদিনের ঘটনার পরে, আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রে সাংসদের সঙ্গে জেলা বা ব্লক কমিটির দ্বন্দ্ব আরো একবার প্রকাশ্যে চলে এলো

Related Articles

Back to top button
Close