fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

এক অন্য বীরাঙ্গনা! মৃত্যুর আগে পর্যন্ত যতবার এই পবিত্র দিনটি আসবে, আমি পতাকা তুলব: দৃঢ় কন্ঠে ডাক বৃদ্ধার

বাবলু ব্যানার্জি কোলাঘাটঃ এ যেন অন্য এক বীরাঙ্গনা! ৮৬ বছরের অশতিপর বৃদ্ধা আজও  নিজে হাতে পতাকা উত্তোলন করেন এই দিনটিতে। তিনি কোলাঘাটের ছাতিন্দা গ্রামের লিচুবালা ভৌমিক।এবারও ব্যাতিক্রম নয়! নিজেই জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে হরি মন্দির প্রাঙ্গণে এসে ৭৪ তম স্বাধীনতা দিবসের পতাকা উত্তোলন করলেন নিজে হাতে। সংসার জীবন শুরু করার পর থেকে বছরের পর বছর এই দিনটি পালন করে আসছেন।

বর্তমানে বয়স হয়েছে ৮৬ বছর। বর্ষা চলছে,তবুও ভয় নেই বৃদ্ধার, বৃদ্ধার দাবি, যারা স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিয়েছেন তাদের কি ভয় ছিল? একের পর এক স্বাধীনতা সংগ্রামী ইংরেজদের শাসন থেকে রক্ষা পায়নি। কত তরুণ যুবক আত্ম-বলিদান দিয়েছেন। এই সামান্যটুকু কাজ তাদের জন্য করতে পারবো না। বিয়ে হওয়ার পর থেকেই ১৫ আগস্ট দিনটি পালন করে আসছে ছাতিন্দার এই বৃদ্ধা। বর্তমানে এলাকায় ‘বুড়ি ‘নামে খ্যাত। বুড়ির ইচ্ছাবোধকে সামনে রেখেই এলাকার বেশ কয়েকজন যুবককেও তার সঙ্গ দিতে দেখা গেল। কেবল পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়েই যে থেমে থাকলেন তা নয়, এলাকার নাতি-নাতনিদের জন্য সারা বছর ধরে সঞ্চিত অর্থ যা রেখেছিলেন নিজের সাধ্যের মধ্যেই বিস্কুট থেকে বাচ্চাদের নানা খাওয়ার দিতেও দেখা গেল।

লিচুবালা দেবীকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল কিসের টানে এই বয়সেও পতাকা নিয়ে গ্রামের নাতি-নাতনিদের নিয়ে এই দিনটি পালন করতে আসেন। উত্তর দেওয়ার আগে দুচোখে জল ভর্তি। কণ্ঠস্বর দিয়ে কথা বের হতে না চাইলেও তিনি বললেন শত শহীদের রক্তে এই স্বাধীনতা। নাতি-নাতনিদের আজকের দিনটির প্রতি আগ্রহ বাড়ুক এটা আমি চাই। মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত যতবার এই পবিত্র দিনটি আমার কাছে আসবে ততোবারই গ্রামের এই হরি মন্দির প্রাঙ্গণে এসে পতাকা তুলব। লিচুবালা দেবীর এই কাজের জন্য কোলাঘাট শহরের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তার জন্য অভিনন্দন বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৯৪২ সালে ভারত ছাড় আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন ৮০ উর্ধ্ব বৃদ্ধা মাতঙ্গিনী হাজরা। সারা ভারতের পাশাপাশি মেদিনীপুরের মাটিতেও ছড়িয়ে পড়েছিল ভারত ছাড়ো আন্দোলনের স্রোত।গান্ধীজির ডাকে বিদ্রোহের ময়দানে সামিল হয়েছিলেন মাতঙ্গিনী। অসীম সাহসী লড়াইয়ের পর ইংরেজ পুলিশের গুলিতে মাটিতে লুটিতে পড়েন মাতঙ্গিনী। তেরঙ্গা হাতে নিয়েই রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত্যুবরন করেন মাতঙ্গিনী হাজরা। তাঁর সাহসিকতা ও বীরত্বের জন্যই তিনি বীরাঙ্গনা উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন।

Related Articles

Back to top button
Close