fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পাঁচিল দেওয়াকে ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত বিশ্বভারতীতে, উন্মুক্ত করা হল পৌষ মেলার মাঠ

জেলা প্রতিনিধি,বোলপুর: পৌষ মেলা মাঠে পাঁচিল দেওয়াকে কেন্দ্র করে সোমবার আবার নতুন করে উতপ্ত হয়ে উঠল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। এদিনে সকাল ৭.৩০টা থেকে বোলপুর,শান্তিনিকেতন এবং তারা আশেপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে রবীন্দ্রপ্রেমী শিক্ষিত,আদিবাসী, মহিলা সহ বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষ মেলার মাঠের কাছে ভিড় জমাতে থাকেন। আসেন বোলপুর ব্যবসায়ী সমিতি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। সকাল ৯টা নাগাদ তারা মিছিল করে  মেলার মাঠে প্রবেশ করেন। সেই সময় মাঠে পাঁচিল দেওয়ার কাজ চলছিল, প্রথমে কাজ বন্ধ করা হয় এবং শ্রমিকদের মাঠ থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরেই মিছিলের পিছনে থাকা জেসিপি মেশিন দিয়ে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা বালি,পাথর এবং ইঁট পাঁচিলের জন্য খোঁড়া গর্তে ফেলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে জনতা মাঠের মধ্যে থাকা ক্যাম্প অফিসের প্যান্ডেল খুলে ফেলে,ভেঙে দেওয়া হয় চেয়ার গুলি। পাঁচিলে নজরদারি চালানোর জন্য লাগানো লাইট ,সিসিটিভি খুলে ফেলে দেওয়া হয়।  জেসিপি মেশিন যায় নিশা লজের দিকে, সেখানে তালা লাগানো লোহার বিরাট গেট ভেঙে ফেলা হয়।

গেট ভেঙে পরতেই শুরু হয় জনতার হাততালি। এর পর মিছিল করে শান্তিনিকেতন থানা সংলগ্ন রাস্তায় ঘোরার পরে জনতা মাঠ ছেড়ে বেড়িয়ে যায়। এদিকে পাঁচিল তৈরির জন্য থাকা ৫০-৬০ ব্যাগ সিমেন্ট ট্রাক্টরে করে নিয়ে চলে যায়, বেশ কয়েকটি ঘাস কাটা মেসিন ও নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। সরাসরি বিশ্বভারতীর সম্পতি ক্ষতি বলতে গেট ভাঙা, এবং গাস কাটা মেশিন চুরি হয়ে যাওয়া। এত কিছু ঘটলেও বিশ্বভারতীর নিরাপত্তারক্ষীরা ছিল।

এদিকে জনতার এই আন্দোলকে রাজনীতিকরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ অনান্য রাজনৈতিক দলের। তাদের অভিযোগ এই আন্দোলনের সামনে ছিলেন তৃনমূলের বোলপুর পুরসভার একাধিক প্রাক্তন কাউন্সিলার,দুবরাজপুরের তৃণমূল বিধায়ক নরেশ বাউরি সহ অনান্যরা। তাই জনতার আন্দোলনকে তৃণমূল নেতৃত্ব দিচ্ছে। এর ফলে বিশ্বভারতী নিয়ে প্রকাশ্য লড়ায়ে নেমেছে তৃণমূল এবং বিজেপি।

আরও পড়ুন: রাজভবনে নজরদারি! নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাহুল, মুকুলের

এই বিষয়ে তৃণমূলের বিধায়ক নরেশ বাউরি বলেন, আমরা রবীন্দ্রপ্রেমী হিসাবে আমরা এসেছি। বিশ্বভারতীর এই উপচার্য বিশ্বভারতীকে পাঁচিল দিয়ে ঘিরছে। তার এই প্রতিবাদে জনতার প্রতিবাদ। বিজেপির জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মন্ডল বলেন, এটা তৃণমূলের রাজনীতি। তারা বিশ্বভারতীতে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা চলছে। আমরা এর তিব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বোলপুরের বাসিন্দা তন্ময় মন্ডল বলেন, উপাচার্য শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যকে শেষ করে দিতে চাইছেন। তার মেলা,বসন্ত উৎসব বন্ধ করেছেন এখন মেলার মাঠ ঘিরছেন। এটা জনতার স্বতঃফূর্ত ক্ষোভের প্রকাশ।

 

Related Articles

Back to top button
Close