fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রবীন্দ্রনাথ ‘বহিরাগত’, মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: শান্তিনিকেতনের পরিপ্রেক্ষিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘‌বহিরাগত’‌ বলার পরেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। আর তার জেরেই ক্ষমা চাইতে বাধ্য হলেন উপাচার্য। যদিও তাঁর দাবি, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি জানালেন, ‘‌যদি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বহিরাগত বলায় শান্তিনিকেতনের সঙ্গে জড়িত মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করে থাকি, তবে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। তবে যদি আমার পুরো বক্তব্যটির গভীরে গিয়ে বোঝার চেষ্টা করেন, তাহলে দেখা যাবে যে আমি একটি ঐতিহাসিক এবং ভৌগলিক সত্যের কথা বলেছি মাত্র। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং তাঁর বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর বাইরে থেকেই এই জায়গায় এসেছিলেন। তাঁরা জায়গাটি দেখে পছন্দ করেছিলেন। ফলে শান্তিনিকেতন গড়ে ওঠে। তাঁরা যদি পছন্দ না করতেন তবে আজ বিশ্বভারতী বলে কিছুই থাকত না।’‌তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘আমি যে কথা বলতে চেয়েছিলাম তার অন্য মানে করা হয়েছে। তবু আমার বক্তব্য যদি কাউকে আঘাত করে থাকে তাহলে আমি ক্ষমা চাইছি।’

তিনি যদিও বলেছেন, উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিশ্বভারতীতে পৌষমেলার মাঠে পাঁচিল দেওয়া নিয়ে ও তা ভেঙে দেওয়া নিয়ে শান্তিনিকেতন জুড়ে লঙ্কাকাণ্ড বেঁধে যায়। তৃণমূল-বিজেপি-রাজ্যপাল-রাজ্য সরকার-আশ্রমিক সব পক্ষই ময়দানে নেমে পড়ে। মাঠে পাঁচিল দেওয়া ও না দেওয়ার মধ্যে একটা ভাগ হয়ে যায়। ইতিমধ্যেই ইডি তদন্তে নেমে পড়ে এর কারণ খুঁজতে। জড়িয়ে যায় শাসক দলের বিধায়কের নামও। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, পাশাপাশি রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়ে যায়। এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বলেন, ‘পৌষমেলার মাঠে মদ-জুয়ার আসর বসে। ওখানে দেহব্যবসা চলে। পাশাপাশি, জমি দখল করে নেওয়া হচ্ছে বহিরাগতদের পক্ষ থেকে। সেই কারণেই জমিতে পাঁচিল দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু অন্যপক্ষের দাবি, এই সব কাজ নিয়মবিরুদ্ধভাবেই করেছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কেন তৈরি করা পাঁচিল ভাঙা হল, তা নিয়ে কোনওপক্ষই সদুত্তর দিতে পারেনি।

শান্তিনিকেতনে পৌষ মেলার মাঠে পাঁচিল তোলা এবং তা ভেঙে ফেলার ঘটনা নিয়ে গত মাসে তোলপাড় কাণ্ড বেঁধে গিয়েছিল বিশ্বভারতীতে। আবাসিক, ছাত্রছাত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল, তৃণমূল, বিজেপি সবাই কার্যত ময়দানে নেমে পড়েন। বিবৃতি, পাল্টা বিবৃতিতে তোলপাড় পড়ে যায়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছিলেন, ‘‌পৌষ মেলার মাঠে পাঁচিল দেওয়ার সম‌য়ে বাইরের লোকেরা উপস্থিত ছিলেন, এটি কিন্তু প্রকৃতির কোলে শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য নয়, যেই সংস্কৃতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে হাতে তৈরি করে গিয়েছিলেন।’ এই পাঁচিল দিয়ে ঘিরে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে রবীন্দ্রনাথের মুক্ত শিক্ষার ভাবনা আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে।’

আরও পড়ুন: Time magazine’র কভার হল কালো, বিশ্বযুদ্ধকে ছাপিয়ে গেল করোনার বিষন্নতা

পাল্টা উপাচার্য বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথও তো শান্তিনিকেতনে বহিরাগতই ছিলেন!’ এর পরেই বিতর্কের আগুনে ঘি পড়ে। ক্ষমা চেয়ে বিদ্যুত্‍ চক্রবর্তী একটি টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাত্‍কার দিতে গিয়ে বলেন, ‘আপনারা যদি আমার কথা ভাল করে.বোঝার চেষ্টা করেন তাহলে আশা করি বুঝবেন আমি কী বলতে চেয়েছি।’ তাঁর কথায়, ‘বহু বছর আগে রবীন্দ্রনাথ এই অঞ্চল দিয়ে যাচ্ছিলেন দ্বারকানাথ ঠাকুরের সঙ্গে। তারপর এখানে বিশ্রামের জন্য দাঁড়ান এবং নাম দেন শান্তিনিকেতন। পরে তিনি এখানে আসেন।’ প্রসঙ্গত ১৯২১ সালে রবীন্দ্রনাথ বিশ্বভারতী গড়ে তুলেছিলেন। ১৯৫১ সালে তাকে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তকমা দেওয়া হয়। বিশ্বভারতীর পাঁচিল নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে ওঠে।  রবীন্দ্রনাথের ক্ষেত্রে উপাচার্যের এই ‘‌বহিরাগত’‌ তকমাটি মানতে পারেননি বিশ্বভারতীর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষজন। তাঁদের ভাবাবেগে আঘাত করেছেন বলে তীব্র নিন্দা করা হয়। সমালোচনার মুখে পড়ে তাই তিনি ক্ষমা চাইতে বাধ্য হলেন। যদিও তাঁর দাবি, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

 

Related Articles

Back to top button
Close