fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

আচমকাই অপসারিত মঞ্জুশ্রী রায়! কলকাতা মেডিকেলের নয়া অধ্যক্ষ মঞ্জু বন্দ্যোপাধ্যায়

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: করোনা আবহের মধ্যে আচমকা রদবদল। সোমবার রাতে হঠাৎই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল অধ্যক্ষ মঞ্জুশ্রী রায় কে। এর আগে তিনি কলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। জানা গিয়েছে, চলতি বছরের শুরুতেই তিনি এই হাসপাতালে দায়িত্বে আসেন। তার সময়েই কলকাতা মেডিকেল কলেজকে করোনা হাসপাতালে পরিনত করা হয়।

সোমবার রাতে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অধ্যক্ষা মঞ্জুশ্রী রায়কে আপাতত আরজিকর হাসপাতালে অধ্যাপক করে পাঠানো হয়েছে এবং কলকাতা মেডিকেল কলেজ এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ থেকে ৩০ জুন অবসরপ্রাপ্ত প্রাক্তন প্রিন্সিপ্যাল মঞ্জু বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

কিন্তু কেন এই আচমকা রদবদল? সরাসরি তার কারণ জানা না গেলেও অনেকেই দাবি করছেন, ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ দেখতে গিয়ে রোগী কল্যাণ সমিতির বিরাগভাজনও হন। প্রথম দিকে ঠিকমত সুরক্ষা সরঞ্জামের দূরত্ব তৈরি হয় স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গেও। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধানদের কাজকর্ম করতে না দেওয়ার অভিযোগও জমা পড়েছিল স্বাস্থ্য দফতরের কাছে।

জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে এক বিশেষ বৈঠকের মাধ্যমেই কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষের পদ থেকে মঞ্জুশ্রীর অপসারনের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। আপাতত তাঁকে কলকাতারই আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এনেস্থেসিয়া বিভাগের অধ্যাপক করেই পাঠানো হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, কলকাতা মেডিকেল কলেজকে করোনা হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণার পর থেকেই ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন অধ্যক্ষ মঞ্জুশ্রী রায়। তাঁর মত ছিল, হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য রোগের চিকিৎসাও হোক, যাতে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনাটা বজায় থাকে। আর তাঁর এই নরম মনোভাবের জেরেই জুনিয়র ডাক্তার থেকে ইনটার্নরা চিকিৎসার দায়িত্ব ছেড়ে আন্দোলনে নেমে পড়ে, যা স্বাস্থ্য দফতরের মন্ত্রী হিসাবে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী ভালো ভাবে নেননি।
শেষের দিকে হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সঙ্গে মঞ্জুশ্রীর বিরোধ তুঙ্গে উঠেছিল। একই সঙ্গে হাসপাতালের কিছু সিনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গেও তাঁর মতবিরোধ কাজ না করার পর্যায় পৌঁছে যায়। এমনকি হাসপাতালের নানা বিভাগীয় প্রধানরা সরাসরি স্বাস্থ্য ভবনে অভিযোগ জানান, তাঁদের কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। মঞ্জুশ্রীদেবী একাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, কারও মতামত নিচ্ছেন না। আপাতত কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এমএসভিপি ইন্দ্রনীল বিশ্বাসকে সুপারের পাশাপাশি অধ্যক্ষের কাজকর্মও দেখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ হিসাবে আনা হচ্ছে অবসরপ্রাপ্ত মঞ্জু বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

Related Articles

Back to top button
Close