fbpx
অন্যান্যআন্তর্জাতিকবাংলাদেশহেডলাইন

তোমার জন্য অপেক্ষা……

মোঃ ফজলে রাব্বী: ২৩ ফেব্রুয়ারির পৌষের দুপুর ১২:৪৭। আমি তখন ক্যাম্পাস থেকে বাড়ি ফিরছি প্রচন্ড ক্ষুধা আর ক্লান্তি নিয়ে। বাড়ি এসেই ল্যাপটপটা নিয়ে বসলাম। তারপর ফেসবুকে ঢুঁ মারলাম। হঠাৎ করে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট চোখে পড়ে। খুব কৌতূহল নিয়েই অ্যাকাউন্টটির টাইমলাইন থেকে বিস্তারিত দেখার চেষ্টা করলাম এবং দেখলাম। কপালে অনেকটা চিন্তার ভাঁজ পড়ে গেল। কি অপরূপ সে! এমন কাউকে আগে কখনই দেখিনি! এই অল্প জীবনে তার অনেক অর্জন।

সামাজিক কাজকর্মেও প্রচুর অ্যাকটিভ। ছিল কলেজের সেরা অন্যতম একজন। আমি যে কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেছি সেখান থেকে সেও এইচএসসি সম্পন্ন করেছে। তবে আমার ১ বছর পরে। এখন পড়ছেন রাজধানীর পুরানো ঢাকার একটি সরকারি মেডিকেলের ডেন্টাল বিভাগে। একই উপজেলায় আমাদের বাড়ি।

বলছি ঐশীর কথা। হাসিমাখা মুখ, মায়াবী চোখ, বাহারি লাম্বা চুল..! তার দুই চোখের দিকে তাকিয়ে কোনও পলক না ফেলেই এক যুগ কাটিয়ে দিতে পারব? পৃখিবীতে কিছু মানুষের জন্মই হয় যাদের মুখে সবসময় হাসির ঝিলিক লেগেই থাকে। তেমনি একজন সে। তার শরীরে অ্যাপ্রোন দেখে বুঝতে পারলাম ভবিষ্যতে সে মানুষ মেরামতের একজন দক্ষ কারিগর হতে চায়..! মানব প্রজন্মের একজন মানবিক মানুষ হতে চায়। এটা খুব দারুণ ব্যাপার। যা আমারও খুব প্রিয়।

মনের মধ্যে হাজার প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে কিন্তু কোনও উওর নেই! অনেকটা না পাওয়ার আশা নিয়েই আমি তাকে খুব খুব খুব ভালোবেসে ফেলেছি? কিন্তু তাকে কিছু বলার মত সাহস আর সুযোগ কোনটিই আমার নেই। মেয়েটি দেখতে ভাবি মিষ্টি..! কী শান্ত লাবণ্যময় তাঁর হিরণবর্ণ দেহ। কেশগুচ্ছ উপচে পড়ছে তাঁর দৃঢ় সুগঠিত কোমর পর্যন্ত। তাঁর দীপ্ত মুখমণ্ডল, ঘন আঁখিপল্লব, বাঙ্ময় দুটি হাত। একটা মানুষের হাসি কত বেশি সুন্দর হতে পারে, হাসি কতটা শৈল্পিক, কতটা সৌন্দর্য, কতটা মায়া, কতটা ভালোবাসা লুকিয়ে থাকতে পারে, তা তোমাকে না দেখলে বুঝতাম না। আর পৃথিবীর সব ছন্দ, উপমা ব্যর্থ হয়ে যাবে তার ঘন কালো লম্বা চুলের কাছে। তাহার তুলনা সে নিজেই! তাকে পাওয়ার অপেক্ষা না পাওয়া পর্যন্ত! সেটা যদি হয় চিরকাল, তবে আমি রাজি।

জীবন কখনও হয় সুখের স্বর্গ, কখনও বা নরকের মতো বিষাদ যন্ত্রণাময়। জীবন চলার মাঝে কত কিছুই পাই আবার কত কিছুই হারাই জ্ঞাত-অজ্ঞাতসারে। পাওয়া না–পাওয়ার হিসাব কষতে কষতে জীবন একসময় তার গতি হারিয়ে স্তব্ধ হয়ে যায়। জীবনে নানামুখী কল্পনায় কত স্বপ্ন, কত আকাঙ্ক্ষা থাকে। জীবনের সব স্বপ্নই বাস্তবে সব সময় মনের দরজায় এসে উঁকি মারে না। এর মধ্যেও কিছু স্বপ্ন, কিছু আকাঙ্ক্ষার বস্তু থাকে, যা দূর আকাশের ওই চাঁদের মতো দূর থেকে দ্যুতি ছড়ায়, কাছে টানে কিন্তু ধরা দেয় না।

এই বিশ্বজগতের সমস্ত সৌন্দর্যের একীভূত রূপ আমার সীমিত দৃষ্টিশক্তির সমস্ত সীমারেখা লঙ্ঘন করে যায়। হয়তো তার অনুভবে আমার জীবনীশক্তি একশো গুণ ক্ষমতা পাবে। বহু আগে, বহু দূরে চলে যাওয়া আত্মশক্তিগুলো নতুন জীবন পাবে। ভরা রৌদ্রে সারা দিন হাঁটার পরও একশো মাইল দৌড়ানোর মনোবল পাবে।

তাহার পক্ষে আমাকে নিষিদ্ধ করা সম্ভব, কিন্তু তাহার জন্য আমার মনের একান্ত অনুভূতির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করবে কে? আমি তাকে ভালোবেসে যেতে চাই আজীবন। আমার ভালোবাসাটা না হয় একতরফাই থাকুক।
” দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় কত চরিত্রের সাথে সাক্ষাৎ, কেউবা স্মৃতির পাতায় মনের খোরাক জোগায় আর কেউবা বিলীন হয়ে যায় অগ্নিকান্ডের দাবদাহের মতন”।

“তুমি রবে আমার মনে আমারই প্রাথর্নায়
এইটুকু মনে রেখ, ভালোবাসি সব সময় ” । তোমার প্রতীক্ষায় রইলাম।

(লেখক-মোঃ ফজলে রাব্বী,  কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী)

Related Articles

Back to top button
Close