fbpx
একনজরে আজকের যুগশঙ্খগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

যুদ্ধের ডায়রি: যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই 

তসলিমা নাসরিন: রাশিয়া  ইউক্রেনের যুদ্ধ অনেকটা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মতো। একাত্তরে  বাঙালির ওপর শত্রুসেনার হামলা শুরু হলে নারী আর শিশুদের পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল শহর থেকে দূরে, গ্রামে গঞ্জে, প্রচুর পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল পাশের দেশে। পুরুষদের অনেকে অস্ত্র হাতে নিয়েছিল যুদ্ধ করবে বলে। শেখ মুজিব যার যা কিছু আছে, সব নিয়ে সংগ্রাম করার আহবান জানিয়ে ছিলেন। ইউক্রেনের অনেক পুরুষই অস্ত্র হাতে নিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী জেলেন্সকি  অস্ত্র হাতে নিয়ে শত্রুসেনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বলেছেন। ইউক্রেন থেকেও মানুষ দলে দলে পাশের দেশ পোলাণ্ড আর মলদোভায় আশ্রয় নিচ্ছে।  রাশিয়া আর ইউক্রেন এক কালে একই দেশ ছিল। পূর্ব আর পশ্চিম পাকিস্তানও ছিল একই দেশ। ধর্ম অধিকাংশের একই,  ভাষাও কাছাকাছি । রাশিয়ার আর ইউক্রেনের বেলায়ও তাই। তবে পূর্ব আর পশ্চিম পাকিস্তানের ভৌগলিক দূরত্ব বেশি ছিল, রাশিয়া আর ইউক্রেন একই ভূমির ওপর দাঁড়ানো। একাত্তরে পাকিস্তানকে নয়, বাংলাদেশকে সাহায্য করেছিল রাশিয়া, আর আজ এই রাশিয়াই করছে অন্য দেশের ওপর পাকিস্তানের মতো একই রকম অতর্কিতে আক্রমণ। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন না হয়ে  অন্য কেউ হলে হয়তো এভাবে যুদ্ধ বাঁধাতেন না। পুতিন পাগল। কিন্তু কে পাগল নয়? আমরা তো  শান্তির কথা বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলা গণতন্ত্রের দাবিদার দেশগুলোকেও যুদ্ধের দামামা বাজাতে দেখেছি।

আজ সারা পৃথিবীতে যুদ্ধের বিরুদ্ধে মানুষ মিছিল করছে। ইউরোপের দেশগুলোতে তো বটেই, এমনকী রাশিয়ার শহরগুলোতেও, মস্কোতে, সেন্ট পিটার্সবুর্গে। রাশিয়ার লোকদের আত্মীয়স্বজন ইউক্রেনে বাস করেন। দুই দেশের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বও বেশ। কিন্তু রাশিয়াতে কোনও শান্তিমিছিল হতে দিচ্ছে না পুতিনের পুলিশ। না দিলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ যুদ্ধ বিরোধী কথা বলছেই।

এক প্রেমিক  ইউক্রেনের পতাকা গায়ে জড়িয়ে, এক প্রেমিকা রাশিয়ার পতাকা গায়ে জড়িয়ে চুমু খাচ্ছে পরস্পরকে। দুই দেশে জন্ম তাদের, কিন্তু তারা  পরস্পরকে ভালোবাসে। আরেক দম্পতি বিছানায় শুয়ে চুমু খাচ্ছে, এক হাতে ধরে আছে একজন রাশিয়ার, আরেকজন ইউক্রেনের পাসপোর্ট। অন্য হাতে দু’জনই যুদ্ধের দিকে মধ্যম আঙুল দেখাচ্ছে। দুজনের মাঝখানে বসে আছে তাদের শিশু সন্তান। যুদ্ধ বিরোধী বার্তা এর চেয়ে শক্তিশালী আর কী হতে পারে!

ইরাকে ভয়াবহ হামলা দেখেছি। কত যে বিলিয়ন ডলার খরচ করে সাদ্দাম হোসেনকে গদি থেকে নামাতে  গিয়েছিল আমেরিকা! কাকে গদিতে বসাবে, কাকে গদি থেকে নামাবে, এ নিয়ে আমেরিকা চিরকালই মাথা ঘামিয়েছে। ইরাকে প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন ধ্বংস হয়ে গেল। জন্ম নিল আইসিস নামের সন্ত্রাসী সংগঠন। ওদিকে দীর্ঘ বছর আফগানিস্তানের মাটিতে বসে আমেরিকার যুদ্ধের ফল কী হলো, তালিবান এলো ক্ষমতায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে ইউরোপে এটুকু বুঝেছে তারা আর যাই চাক, যুদ্ধ চায় না। যে নাৎসি কর্মকাণ্ডের  জন্য ইউরোপ ভুগেছে, সেই নাৎসি কর্মকাণ্ড তো বটেই, নাৎসি মতবাদও চিরকালের জন্য নিষিদ্ধ করে দিয়েছে,    চিরকালীন শান্তির বার্তা ঘোষণা করে দিয়েছে ইউরোপ।

ধনী গরিবের মধ্যে সমতা আনার সবরকম উদ্দ্যোগ নিয়েছে, জনকল্যাণ রাষ্ট্র তৈরি করেছে, ইউরোপকে এক করে দিয়েছে, পরস্পরকে সাহায্য করার ব্রত গ্রহণ করেছে। এই ইউরোপের খানিকটা অংশ জুড়ে রয়েছে রাশিয়া। রাশিয়ার চেয়ে আর বেশি কে দেখেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা! সে আমলে সোভিয়েত ইউনিয়নের দু’ কোটি মানুষ মারা গিয়েছিল  যুদ্ধে। তারপরও যুদ্ধবাজ হিটলারের মতো  কাউকে গ্রাহ্য না করে আগ্রাসনে বিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন পুতিন।  চারদিকের দেশগুলো শাস্তি হিসেবে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দিচ্ছে। তারপরও পুতিনের টনক নড়ছে না।  এক আমেরিকার এমবার্গোতেই কিউবা এবং আরও কত দেশ  দারিদ্রের মধ্যে বাস করতে  বাধ্য হয়েছে!

আমাদের তো একটিই ভয়। মাথা-পাগল লোকেরা কবে না জানি পারমাণবিক বোমার ট্রিগার  টিপে দেয়। পাকিস্তানকে নিয়ে তো ভয় আছেই। এখন রাশিয়ার আস্ফালন দেখে তো আরেকটি আশঙ্কা যোগ হলো। পৃথিবী গড়ে তুলতে মানুষ যেমন পারে, পৃথিবী ধ্বংস করতেও মানুষ তেমন পারে।

মাঝে মাঝে আমার মনে হয় হিংসে,  ঘৃণা,  বর্বরতা, নৃশংসতা, প্রতিশোধপরায়ণতা বোধহয় মানুষের রক্তে   আছে।  মানুষ সভ্যতা, মানবতার কথা শেখে বটে, উদারতার চর্চা করে বটে,  তবে মাঝে মাঝেই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে তার রক্তের সেইসব ঘৃণ্য চরিত্র । এ কারণেই যুদ্ধ কখনও থামে না। পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র  ছোট আকারের হলেও মানুষে মানুষে ঝগড়া লড়াই অসন্তোষ অশান্তি চলছেই।  পরিবারে, সমাজে, দলে, রাজ্যে, রাষ্ট্রে কোথাও একশ ভাগ শান্তি স্বস্তির দেখা মেলে না। এ কারণেই ইউটোপিয়া শুধু স্বপ্নই থেকে গেল। কোনওদিন হয়তো এটিকে বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব হবে না।

এতকাল ইউরোপের এক দেশ আরেক দেশের সঙ্গে শত্রুতা করেছে, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করেছে। অথচ দিন যত যাচ্ছে, তারা পরস্পরের বন্ধু হয়ে উঠছে, পরস্পরের বিপদে আপদে সাহায্য করছে। বর্ডার বলতে কিছু নেই, কারেন্সিও সব এক করে ফেলেছে। ইউরোপের কাছ থেকে  শিক্ষা নিয়ে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় সার্ক এবং আসিয়ান  নামের সংগঠন গড়ে উঠেছে, অথচ আজ অবধি বর্ডারে রয়েছে কাঁটাতারের বেড়া, শক্ত দেয়াল, রাইফেল হাতের সীমানা পুলিশ। আজ  অবধি কারেন্সি এক হয়নি। ইউরোপ যা পেরেছে, তা হাজার বছরেও এশিয়াতে সম্ভব কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ হয়। ভারত আর পাকিস্তানের বিরোধ, চীন এবং ভারতের বিরোধ কবে ঘুচবে, আদৌ  ঘুচবে কিনা তা আমরা অনুমান করতেও পারি না।

বাইডেন বলে দিয়েছেন, পুতিনকে  তাঁর আগ্রাসনের খেসারত দিতে হবে। পাশ্চাত্যের দেশগুলোর সঙ্গে  পূর্ব ইউরোপের  দেশগুলোর বাণিজ্যিক সম্পর্কে ছিল না বলে কীভাবে যুগের পর যুগ দারিদ্রে ভুগেছে দেশগুলো, শেষ পর্যন্ত বার্লিন দেওয়াল ভাঙার পর  তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে পূর্ব ইউরোপ –এ তো আমাদের জীবদ্দশায় দেখা। তাহলে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করে  পুতিনের রাশিয়াকে একই রকম একঘরে করে দিতে পারে ইউরোপ এবং আমেরিকা। ভুগবে কারা? সাধারণ মানুষ। দেশের সব সম্পদ তো কিছু দুর্নীতিবাজ ধনীর হাতেই। ব্যক্তি পুতিনকে ভুগতে হবে না। পুতিন তো এক  নব্য জারের মতো। রাশিয়ার জাররা নিজেরা অঢেল সম্পদ নিয়ে আমোদ স্ফূর্তিতে ব্যস্ত থাকতেন,  সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের দিকে মোটেও তাঁদের নজর যেতো না। পারমাণবিক বোমা আর অস্ত্র সস্ত্র বানিয়ে দেশের সবার অভাব দূর করা যায় না, দুর্নীতির পাঁকে পা দিলে দারিদ্রও দূর করা যায় না।

রাশিয়ার গল্প উপন্যাস পড়ে কেটেছে আমার ছোটবেলা। সাধারণ মানুষের জীবনের কথা কত পড়েছি।  প্রচণ্ড শীতে  কাঁপছে, শুধু পরিজ খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। সেই সব দরিদ্র মানুষের জন্য কত কত রাত কেঁদেছি। আজকের আধুনিক পৃথিবী মনে হচ্ছে আমাদের আবার কাঁদাবে। অনাহারে অনিদ্রায় অভাবে মানুষ নুয়ে থাকবে। আর আমাদের শুনতে   হবে তাদের কান্না্র আর  হাহাকারের শব্দ।

পুঁজিবাদিরা অভিযোগ করতো, সমাজতন্ত্র মানুষকে অভাবে ডুবিয়ে রাখে। সমাজতন্ত্র ভেঙে দিয়ে যে পুঁজিবাদ আনা হলো রাশিয়াতে, সেই পুঁজিবাদও তো কিছু মানুষকে ধনী বানিয়ে বাকি মানুষকে অভাবে ডুবিয়ে রেখেছে। এইসব পুরোনো বাদ বা তন্ত্র মানুষের মধ্যে সমতা আর শান্তি আনে না। আধুনিক রীতি নীতি আদর্শই সকলের অন্ন বস্ত্র বাসস্থান, এবং শিক্ষা স্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা দিতে   পারে , সমতা এবং সমানাধিকারের ভিত্তিতে গড়ে তোলা  আর্থসামাজিক ব্যবস্থাই   ধনী এবং দরিদ্রের পার্থক্য ঘোচাতে পারে, আধুনিক গণতান্ত্রিক কাঠামোই বাক স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিস্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে।  উত্তর ইউরোপের  সভ্যতা  আমাদের সে বিশ্বাস  দিয়েছে।

রাশিয়ার নতুন যুদ্ধ কৌশল নিয়ে মানুষের আগ্রহের সীমা নেই।  ইউক্রেনের কিছু কিছু বাড়ির ছাদে নাকি   লাল ক্রশ চিহ্ন দেখা যাচ্ছে, কেউ কেউ সন্দেহ করছে ওই রহস্যজনক ক্রশ চিহ্নের  বাড়িগুলোকে হয়তো বোমা মেরে উড়িয়ে দেবে রাশিয়া। ইউক্রেনের লোকেরা রাশিয়ার ট্যাংকের গতি স্লথ করে দিয়েছে, ভুল রাস্তায় রাশিয়ার সৈন্যদের যেতে বাধ্য করছে। জার্মানি কথা দিয়েছে ইউক্রেনকে অস্ত্র পাঠাবে। এইসব খবর আমার শুনতে ভালো লাগে না।  কারও হাতে অস্ত্র দেখলেই মনে হয় কাউকে না কাউকে অকালে মরতে হবে।

২ এপ্রিল, ২০২২

 

মাত্র এক মাস আগেও এ অবিশ্বাস্য ছিল, যে, রাশিয়াকে পিছু হঠতে হবে। রাশিয়াকে  কিন্তু পিছু হঠতে হচ্ছে।   ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আশপাশ থেকেও রাশিয়ার সৈন্যরা পাততারি গুটোতে বাধ্য হচ্ছে। আসলে ইউক্রেন যে রাশিয়ার সৈন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে কিয়েভকে স্বাধীন করতে পেরেছে, পশ্চিমী ইউরোপের সহযোগিতা না পেলে তা সম্ভব হতো না  ।  ইউক্রেনের  কামিকাজে ড্রোনগুলো  ঠিক ঠিক জায়গামতো পতিত হওয়ায় রাশিয়ার ট্যাংকগুলো অকেজো হয়ে গেছে। এ পর্যন্ত রাশিয়ার  আঠারো হাজার সৈন্য নিহত হয়েছে।  ইউক্রেনের তো সাধারণ মানুষ বেশ অনেককে মেরে ফেলেছে রাশিয়ার সৈন্যরা। ইউক্রেন থেকে যারা পালাতে চেয়েছিল, মাথার ওপর  দু হাত তুলে, হাতে সাদা ব্যান্ডেজ দেখিয়ে, নিজেরা যে নিরস্ত্র তার প্রমান দেখিয়েও বাঁচতে পারেনি। শত্রু সৈন্যরা ঝাঁঝড়া করে দিয়েছে বুক। বুচা শহরে রাস্তার কিনারে  পড়ে ছিল হাতে সাদা ব্যান্ডেজ বাঁধা ইউক্রেনের লোক। ২৮০ জনকে কবর দেওয়া হয়ে গেছে। আরও কত গণকবর খুঁড়তে হবে কে জানে।  রাশিয়ার সৈন্যরা কি জানতো না ওরা সাধারণ নিরস্ত্র মানুষ। নিশ্চয়ই জানতো।

পুতিনবাবুর নাকি থাইরয়েড ক্যান্সার। নানা রকম চিকিৎসা করছেন। সঙ্গে ডাক্তার নিয়ে ঘোরেন।   মৃত্যুচিন্তা নিশ্চয়ই আছে। মৃত্যু সামনে জানলে কি মানুষ নৃশংস হয়ে ওঠে বেশি। জিন্নাহও তো জানতেন তাঁর যক্ষা হয়েছে, ছ’মাস বাঁচবেন, কেন তবে ধর্মের নামে ভারতকে দু’ভাগ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন? যে দ্বিজাতিতত্ত্বের কথা বলে তিনি ভারত ভাগ করেছিলেন, ভাগ হওয়ার পর তিনি পাকিস্তানে বলেছিলেন, দ্বিজাতিতত্ত্ব চলবে না, এ দেশের  হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান সকলে এক জাত।  পুতিন কেন চেয়েছিলেন  ইউক্রেনকে শায়েস্তা করতে? ইউক্রেনকে ন্যাটোর বাইরে রাখতে? পূর্ব ইউক্রেনে রুশ বিচ্ছিন্নতাবাদিদের ওপর ইউক্রেন সরকারের আক্রমণ বন্ধ করতে?  নাকি পশ্চিম ইউরোপে প্রাধান্য বিস্তার করতে চেয়েছিলেন, নাকি পুরোনো সোভিয়েত ইউনিয়ন ফেরত পাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন? যে স্বপ্নই তিনি দেখুন, তাঁর স্বপ্ন নিশ্চয়ই ভেঙে গেছে। তাঁর দেশে এখনই শুরু হয়েছে হাহাকার। আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো রাশিয়ায়  তাদের দোকানপাটের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। রাশিয়ার গ্যাস আর তেল না হলেও অনেক দেশের চলবে জানিয়ে দিয়েছে। অর্থনৈতিক লেনদেন বন্ধ হয়ে গেছে।  ইউরোপ পাশে দাঁড়িয়েছে ইউক্রেনের।   একা হয়ে গেছে রাশিয়া।

যুদ্ধ চাই না।   চাই রাশিয়া আর ইউক্রেন কথা বলুক, যুদ্ধ থামিয়ে দিক, পরস্পরের বন্ধু হয়ে যাক তারা। সারা পৃথিবী বসে বসে বসে যুদ্ধ না দেখে দুই শত্রুর মধ্যে  শান্তি স্থাপন করতে সাহায্য করুক। একে ওকে অস্ত্র পাঠিয়ে, এম্বারগো দিয়ে, বাণিজ্য বন্ধ করে শান্তি আনা যায় না।  চিরকালের শত্রু  জার্মানি আর ফ্রান্স যদি বন্ধু হতে পারে, ফ্রান্স আর ইংলণ্ড যদি বন্ধু হতে পারে,  সাতশ’ বছর পরস্পরের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী  যুদ্ধ করা  আয়ারল্যান্ড আর ইংলেন্ড যদি বন্ধু হতে পারে, রাশিয়া আর ইউক্রেন পারবে না কেন? আলবৎ পারবে।

যুদ্ধ নিয়ে একখানা কবিতা লিখেছি। কবিতাটি এরকমঃ

 

ওদের অস্ত্র আছে, তাই যুদ্ধে নেমেছে।

 

ওরা ধ্বংস ভালোবাসে, তাই যুদ্ধে নেমেছে।

 

 তুমি আমি চলো চুম্বন করি ঠোঁটে,

 

চলো মধ্যম আঙুল দেখাই যুদ্ধবাজদের।

 

চুম্বনে সিক্ত হয়ে চলো তুমি আমি এক একটি দেশ হয়ে উঠি,

 

তোমার নাম আজ থেকে রাশিয়া, আমি ইউক্রেন।

 

তুমি যদি কিউবা, এল সালভাদর, নিকারাগুয়া,

 

তুমি যদি পানামা,

 

তুমি যদি ইরাক, আফগানিস্তান,

 

আমি আমেরিকা।

 

তুমি আজ ইসরায়েল, আমি ফিলিস্তিন,

 

আমি ভারত, তুমি চীন।

 

চলো চুম্বন করি, আর মধ্যম আঙুল তুলে ধরি নৃশংসতা আর ধ্বংসস্তূপের দিকে।

 

 

যত অস্ত্র আছে জগতে, যত পারমাণবিক বোমা, সব জড়ো করে

 

একটি গভীর চুম্বনের সামনে কেউ দাঁড় করাতে পারবে না,

 

হেরে যাবে।

 

কোনও ভয়াবহ মারণাস্ত্রও একটি সাদামাটা চুম্বনের চেয়ে শক্তিশালী নয়।

 

চলো চুম্বন করি,

 

চলো পরস্পরকে স্পর্শ করি ভালোবেসে।

 

সন্তান জন্ম নিক আমাদের। সে সন্তানের নাম দেবো : পৃথিবী।

Related Articles

Back to top button
Close