fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

রাজ্যে বায়ুসেনা ঘাঁটির কাছে জাতীয় সড়কে এবার সরাসরি নামবে যুদ্ধ বিমান! ভারতীয় বায়ুসেনার যৌথ উদ্যোগে শুরু কাজ

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: করোনা মহামারী পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে দেশের সীমান্ত সুরক্ষাবলয়কে মাঝেমধ্যেই চ্যালেঞ্জ জানানোর চেষ্টা করেছে একাধিক প্রতিবেশী দেশ। তাই যে কোনও রকম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে চাইছেন ভারতীয় বায়ুসেনা আধিকারিকরা। এর আগে ২০১৯ সালে ১৭ অক্টোবর এর আগে কলকাতা, অন্ডাল ছাড়াও ডিমাপুর, ইম্ফল, গুয়াহাটি ও পাশিঘাট বিমানবন্দরের মত অসামরিক বিমানবন্দরে যুদ্ধবিমান ওঠানামার মহড়া চালানো হয়েছিল। এবার যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে যাতে রাজ্যের জাতীয় সড়ক ব্যবহার করেও দ্রুত যুদ্ধ বিমান ওঠা নামা করানো যায়, তার জন্য ভারতীয় বায়ুসেনা ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শুরু হল, এমনটাই ইস্টার্ন এয়ার কমান্ড সূত্রের খবর।

ভারতীয় বায়ুসেনায় রাফাল অন্তর্ভুক্তিকরণের পর তা যাতে দ্রুত লাদাখ সীমান্তে উড়ে যেতে পারে, তার জন্য উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্সের হাসিমারা বায়ুসেনা ঘাঁটিতে এনে রাখা হয়েছে বেশ কয়েকটি রাফাল বিমান। এবার  দক্ষিণবঙ্গে পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুণ্ডা এয়ারবেসকেও একই ভাবে নিজেদের কাজে লাগাতে চাইছে ভারতীয় বায়ুসেনা, যাতে সরাসরি জাতীয় সড়কে যুদ্ধবিমান নামিয়ে তা নিজেদের এয়ারবেসে নিয়ে আসা যায়।

আরও পড়ুন: ভরসন্ধ্যায় টিটাগড় থানার অদূরে শুটআউট, দুষ্কৃতীদের গুলিতে মৃত্যু বিজেপি নেতার, উত্তেজনা বিস্তীর্ণ এলাকায়

জানা গিয়েছে, এই কাজের জন্য ইতিমধ্যেই কলাইকুন্ডা এয়ার বেসের কাছে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে এই জায়গা থেকে কাছেই রয়েছে সিকিম  তাই রাজ্যের পাশে চিন সীমান্তে উড়ে যেতে বায়ুসেনার মাত্র ২০ মিনিট সময় লাগবে।

সূত্রের খবর, বেলদা থেকে কিছুটা দূরেই খড়্গপুরের কাছে রয়েছে কলাইকুন্ডা এয়ার বেস ক্যাম্প। তাই ভারতীয় বায়ুসেনা ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে বেলদা থানার বাখরাবাদ থেকে পোক্তাপুল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অংশ জুড়ে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর তৈরি হতে চলেছে জরুরিকালীন যুদ্ধ বিমান ওঠানামার ব্যবস্থা। রানওয়ে তৈরির জন্যে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের দু’পাশের প্রস্তাবিত এলাকার দু’দিকে প্রায় ৩০ মিটার করে জায়গা নেওয়া হচ্ছে। জাতীয় সড়কের দুই লেনের মাঝের কংক্রিটের ডিভাইডার সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। সেই জায়গা সমান্তরাল করে এই আপৎকালীন ৫ কিলোমিটার লম্বা রানওয়ে তৈরি হবে। কাজ শেষ হতে সাত মাস সময় লাগবে। বিমান ওঠা নামার নির্দিষ্ট সময়ে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক লাইট ব্যবহার করে গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা হবে। এছাড়া আরও কিছু অত্যাধুনিক প্রযুক্তিরও ব্যবহার করা হবে। শুধু ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কই নয়, দেশের ভিতরে মোট ১৩টি জায়গায় এই আপৎকালীন যুদ্ধ বিমান ওঠানামার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইস্টার্ন এয়ার কম্যান্ড। যে সকল জাতীয় সড়কের কাছে এয়ারবেস রয়েছে সেখানেই এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সাল থেকে এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। উত্তরপ্রদেশ ও গুজরাটে ইতিমধ্যেই এই ধরনের কাজ করা হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া সিকিম ও অন্যান্য রাজ্য চিন-লাগোয়া হওয়ার কারণে এই রাজ্যের জাতীয় সড়কগুলিকেও ব্যবহার করে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চাইছে ভারতীয় সেনা। সেই কারণে বেছে নেওয়া হয়েছে কলাইকুণ্ডা এয়ারবেসের কাছে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ককে। সব ঠিকঠাক চললে আগামী বছর ২০২১-এর মাঝামাঝি এখানে চালু হয়ে যাবে জাতীয় সড়কে সরাসরি যুদ্ধবিমান ওঠানামার কাজ।

Related Articles

Back to top button
Close