fbpx
কলকাতাহেডলাইন

চলতি সপ্তাহের মধ্যে JNNURM প্রকল্পের বাস নামানোর হুঁশিয়ারি!

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: চতুর্থদফার লকডাউনের মাঝেই ধীরে ধীরে স্বাভাবিকের পথে এগোছে কলকাতার গণ পরিবহন ব্যবস্থা। সরকারি বাস রাস্তায় আগেই নেমেছে। যাত্রী সংখ্যার হিসেব রেখে আগামী দিনে বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে রাজ্য পরিবহন দফতর। বেশ কিছু জেলায় নেমেছে বেসরকারি বাসও। এবার জেএনএনইউআরএম প্রকল্পের বাস যাদের কাছে আছে তাদের শুক্রবারের মধ্যে রাস্তায় বাস নামাতে বলা হয়েছে। যদি তারা বাস নামাতে অস্বীকার করে, তাহলে রাজ্য পরিবহন দফতর পুলিশের সহায়তায় বাস টেনে নিয়ে আসবে। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে রাজ্যের প্রায় ৪০০ বাস মালিকের কাছে এই বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

২০০৯ সালে বাম আমলে রাজ্যে চালু হয় কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সহায়তায় বাস চলাচল। জওহরলাল নেহেরু ন্যাশনাল আরবান রিনিউয়াল মিশন প্রকল্পে বাস আসে রাজ্যে। বড় বাস তুলে দেওয়া হয় বেসরকারি সংস্থা বা ফ্রাঞ্চাইজিদের হাতে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে একক মালিকানায় বাস নেন অনেকেই। ২০০৯ সালে এই বাসের দাম ছিল ১৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। নিয়মানুযায়ী এর ৩৫ শতাংশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। ১৫ শতাংশ টাকা দিয়েছিল রাজ্য সরকার। বাকি ৫০ শতাংশ টাকা বেসরকারি মালিক বা ফ্রাঞ্চাইজির দেওয়ার কথা। ফলে ৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা শোধ করতে হবে তাদের। এর মধ্যে শুরুতেই ২ লক্ষ টাকা সিকিউরিটি ডিপোজিট হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। বাকি টাকা ৯৬ মাসে ২২ হাজার পিছু দেওয়ার কথা ছিল মালিকদের। যদিও বহু টাকা ব্যাঙ্কে কোনও বাস মালিকই শোধ করতে পারেননি। ফলে এই বাসের মালিকানাধীন এখন অনেকটাই রাজ্য সরকারের হাতে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে বেসরকারি বাস মালিকদের রাস্তায় বাস নামাতে অনুমতি দিয়েছিল রাজ্য সরকার। ২০ জন যাত্রী নিয়ে বাস চালাতে বলে সরকার। ভাড়া ঠিক করতে বলেন তাদের। যদিও যে পরিমাণ ভাড়ার কথা বাস সংগঠনগুলি জানায় তাতে আপত্তি জানায় রাজ্য সরকার। ফলে সরকারি বাস এখন যাত্রী পরিষেবা দিচ্ছে। বুধবার থেকেই ৫৫ রুটের বাস চলছে। এবার এই জেএনএনইউআরএম প্রকল্পের বাস রাস্তায় নামাতে চাইছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই চিঠি পাঠানো হয়েছে। যদিও বেসরকারি বাস মালিকরা জানাচ্ছেন, ৪০০ বাস চলার মতো অবস্থায় নেই। সব মিলিয়ে গোটা রাজ্যে হয়তো ১০০ বাস চলার উপযুক্ত অবস্থায় আছে। তবে নুন্যতম সাত টাকা ভাড়ায় সেই বাস চালানো সম্ভব নয় বলেই দাবি তাদের। যদিও সরকারের কড়া অবস্থান, বাস না চালালে পুলিশ বাস নিয়ে আসবে। সেই বাস রাজ্য পরিবহন নিগম চালাবে। আপাতত কী সিদ্ধান্ত নেন এই সব বাসের মালিকরা সে দিকেই তাকিয়ে সকলে।

আরও পড়ুন: মিশন ২১ : জয়ের লক্ষ্যে আজ থেকে অভিযান শুরু

ভাড়া না বাড়িয়ে ২০ জন যাত্রী নিয়ে সরকারি বাস ছুটলেও পুরোনো ভাড়ায় পথে নামতে রাজি হননি বেসরকারি বাসমালিকেরা। তাঁদের দাবিমতো দ্বিগুণ বা তিন গুণ পর্যন্ত ভাড়া বাড়াতে সরকার রাজি না হওয়ায় এখনও পথে নামেনি বেসরকারি বাস। ফলে লকডাউনের নিয়ম শিথিল হওয়ায় পথে বেরিয়েই বাসের অভাব টের পেয়েছেন যাত্রীরা। এ দিন উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের বাস পরিষেবা চালু হয়েছে। সেখানে সর্বাধিক ২৫ জন করে যাত্রী এবং তাঁদের সঙ্গে মাস্ক-স্যানিটাইজ়ার রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে সেখানেও আগামী দিনে যাত্রী-সংখ্যার চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আধিকারিকেরা।

এ দিন কলকাতা ও শহরতলির বিভিন্ন রুটে পথে নেমেছে অটোও। তবে যাত্রীদের সংখ্যা বাড়লে আগামী দিনে বাসের সঙ্কট ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবহণ আধিকারিকদের একাংশ। তাই পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রেখেই বাসে যাত্রী নেওয়ার ঊর্ধ্বসীমা আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা। কলকাতায় জেএনএনইউআরএম প্রকল্পের আওতায় থাকা সরকারি বাসে আসন সংখ্যা ৩২ হলেও বহু যাত্রী দাঁড়িয়ে যেতে পারেন। অন্যান্য বাসে আসন সংখ্যা ৩৮-৪০টি। উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের বাসে আসন সংখ্যা ৫০। ফলে উপযুক্ত পরিকল্পনা নিলে বাসে যাত্রী-সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন ওই আধিকারিকেরা।

Related Articles

Back to top button
Close