fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

১৯ হাজার ২৯৩ কোটি অর্থের বিনিময়ে আইএনএস হিমগিরিকে নৌসেনার হাতে তুলে দিল গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স 

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলেও বাস্তবিক যুদ্ধ কখনও হয়নি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের অস্ত্রসম্ভার অত্যাধুনিক করার কাজ চালিয়ে গিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। আর এবার ভারতীয় নৌসেনার বরাত মতো ফের এক অত্যাধুনিক এবং উচ্চপর্যায়ের রণতরী সোমবার তাদের হাতে তুলে দিল গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াত৷
 জানা গিয়েছে, দূর থেকে শত্রুপক্ষকে চিহ্নিত করতে প্রস্তুত আরও উন্নত, অত্যাধুনিক নৌবাহিনীর রণতরী
দীর্ঘ তিন বছর ধরে ১৯ হাজার ২৯৩ কোটি অর্থের বিনিময়ে একেবারে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মাণ করা হয়েছে। হিমগিরি নামে নতুন রণতরী প্রকাশ্যে এনে তা নৌবাহিনীর হাতে এদিন সরকারিভাবে তুলে দেওয়া হয়।  আর কিছুদিনের মধ্যে এই রণতরী  নৌবাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমস্ত নিয়মকানুন মেনে কমিশন হবে।
প্রসঙ্গত,ভারতীয় নৌবাহিনীতে তিন ধরণের রণতরী রয়েছে৷ আকার ও আয়তনের দিক থেকে বড় রণতরী হল ডেসট্রয়ার, দ্বিতীয় ফ্রিগেটস আর  তৃতীয় করভেটস৷ ফ্রিগেটস মূলত রসদ নিয়ে যাওয়া, ক্লোজ রেঞ্জে শত্রু জাহাজ ও সাবমেরিনে আঘাত হানার কাজ করে৷ ডেসট্রয়ার ক্যাটেগরির রণতরীর সঙ্গে সমুদ্রে রূপ নির্ণয় করে চলার কাজে ব্যবহৃত হয়৷ ভারতে এই মুহূর্তে ১৩টি ফ্রিগেটস আছে৷ এদিন ফ্রিগেটস যুক্ত হলে সংখ্যা দাঁড়াবে ১৪ টিতে গিয়ে দাঁড়াবে৷ তিনটি  ক্লাস এর ফ্রিগেটস হয়৷ এক শিবলিক ক্লাস, দ্বিতীয়টি  তালবার ক্লাস , ও তৃতীয় ব্রহ্মপুত্র ক্লাস৷
সূত্রের খবর, যে রণতরীটির এদিন উদ্বোধন করা হয়, তা প্রজেক্ট ১৭ আলফা নীলগিরি ক্লাসের রণতরী বা ফ্রিগেট হিমগিরি। ভারতে এই মুহূর্তে ১৩ ফ্রিগেটস আছে৷ এদিনের নতুন ফ্রিগেটস যুক্ত হয়ে সংখ্যা তা হল ১৪ টি। ২০২৭ সালের মধ্যে আরও ১৫ টি রণতরী নির্মাণের বরাত পেয়েছে গার্ডেনরিচ শিপ সেনাবাহিনী।
এই অত্যাধুনিক রণতরীতে কি কি বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকছে? জানা গিয়েছে, দীর্ঘ তিন বছর ধরে ১৯ হাজার ২৯৩ কোটি অর্থের বিনিময়ে একেবারে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মাণ করা হয়েছে এই উচ্চমানের ও অত্যাধুনিক রণতরী৷  প্রজেক্ট ১৭ আলফা জাহাজ – উন্নততর অত্যাধুনিক গাইডেড মিসাইল রয়েছে যেটি ১৩৯ মিটার লম্বা এবং ২৮ নট বেশি গতি৷ অস্ত্র প্ল্যাটফর্মগুলিতে একটি শক্তিশালী অস্ত্র ও সেন্সর প্যাকেজ সজ্জিত রয়েছে৷ এয়ার সারফেস এবং সমুদ্রতল থেকে শত্রুপক্ষের মিসাইল ক্ষেপণাস্ত্রকে ট্রেস করে নষ্ট করতে সক্ষম হবে৷ প্রজেক্ট ১৭ আলফার এই রণতরীতে ত্রিস্তরীয় স্টিলথ সিটেমে তৈরী৷
ইঞ্জিন- লেন্থ- ১৩৮এম, স্পিড ২৮ নট,শত্রুপক্ষের জাহাজ ও সাবমেরিন এর রাডার ডিটেকশন, জ্যাম করা যায়৷ রণতরীর ইঞ্জিন এর আওয়াজ কম করে৷ রণতরী চলার সময়ে প্রপেলার চলার জন্য জলে কম্পন কম, যাতে শত্রুপক্ষের জাহাজ ও সাবমেরিন না ধরতে পারে তার জন্য একোস্টিক সিগনেচার বা ভয়েস কম হবে৷ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য হিট সাপ্রেশন সিস্টেম থাকছে৷
এই রণতরী ৬৬৭০টন মাল বহনে সক্ষম৷ দূর থেকে হিট করার ক্ষমতা রয়েছে৷ ৩৬০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেল থেকে শত্রুপক্ষকে চিহ্নিত করার সেন্সর রয়েছে৷ দূর ও কাছ থেকে হিট করার মিসাইল রয়েছে৷ একদিন সাবমেরিন ডিটেকশন সিস্টেম রয়েছে৷ থাকছে টরপেডো টিউব, হেলিপ্যাড৷ সঙ্গে অ্যাডভান্স কোডগ প্রোপালশন সিস্টেম৷
রাডার সিগন্যাল বাউন্স করবে৷ খুব সহজে জলে এর উপস্থিতি বোঝা যাবে না৷ সোনার ৩০০কিমি৷ দূর থেকেই শত্রুপক্ষের রাডার চিহ্নিত করতে পারবে আর সমুদ্র তল এর ১০০কিমি দূর থেকেই তা করা সম্ভব হবে৷

Related Articles

Back to top button
Close