fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আমাদেরও চাকরি চাই, প্যাকেজ চাই… নিজেদের ‘মাওবাদী’ দাবি করে আন্দোলনের প্রস্তুতি!

তারক হরি, পশ্চিম মেদিনীপুর: অক্টোবরের ৭ তারিখ ঝাড়গ্রামের প্রশাসনিক সভাতে এসে মুখ্যমন্ত্রী মাওবাদীদের জন্যে দেদার প্যাকেজ বিলি করেছেন৷ সে বাড়ি হোক বা চাকরি! মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকা থেকে এনভিএফ হিসেবে ৫ বছর ধরে নিযুক্তদের কনস্টেবলদের পদে উন্নীত করা হয়েছে৷ ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত জঙ্গলমহলে যারা নির্বিচারে মানুষ খুন করেছে সেই মাওবাদীদের অনেকেই আত্মসমর্পণ করে, তাদের সরকার পুনর্বাসন প্যাকেজ দিয়েছে৷ টাকার সঙ্গে জুটেছে চাকরি। আগে.. জঙ্গলমহলের মানুষের একটাই দাবি ছিল, যে সরকার তাঁদের ওপর মিথ্যা মাওবাদী তকমা দিচ্ছে। আর সেই জঙ্গলমহলের একদল মানুষ এখন বলছেন, আমরাও তো মাওবাদী ছিলাম!

জঙ্গলমহলের কিছু মানুষ নিজেদের প্রাক্তন মাওবাদী বলে দাবি করে একই প্যাকেজের দাবি তুলেছেন। তাঁরা বলেছেন প্যাকেজ না পেলে আন্দোলনে নামবেন তাঁরা!
মেদিনীপুর সদর ব্লকে জঙ্গলমহলের ডুমুরকোটা গ্রামের পাশের জঙ্গলে এরকমই এক সভা করলেন নিজেদের মাওবাদী বলে দাবি করা একটি দল। এরা নিজেদের প্রাক্তন মাওবাদী বা মাওবাদী লিঙ্কম্যান বলে দাবি করছেন৷ তাঁদের দাবি মাওবাদী সংযোগ থাকায় এরা প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই এখন একাধিক মামলা ঝুলছে। কেউ কেউ জেলও খেটেছেন বলে দাবি করেন। তাঁরা সেই মামলার কাগজপত্র সামলেও রেখেছেন। সেই নথির ভিত্তিতেই তাঁরা প্যাকেজ চেয়ে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এমনই নিজেকে প্রাক্তন মাওবাদী পরিচয় দেওয়া ডুমুরকোটা গ্রামের বাসিন্দা সুবোধ মাহাত বলেন – “গত ২০০৮ সাল থেকেই আমি মাওবাদী দলে ছিলাম। লালগড় ও কোতয়ালি থানাতে ৫টি মামলা আজও আমার চলছে৷ আমরা চাই দিদি আমাদের এই মামলা সরিয়ে দিক, সেই সঙ্গে আমাদেরও চাকরি বা প্যাকেজের ব্যবস্থা করুক সরকার ৷”

এমনই শিরষী গ্রামের আরেক বাসিন্দা তারাপদ মাহাত বলেন, আমি মাওবাদীদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলাম। পুলিশের খাতায় মাওবাদী বলে আমার নাম রয়েছে। অনেক মামলা এখনও চলছে, তৃণমূল ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিল এই সব মামলা তুলে দেবেন, কিন্তু তুলে দেয়নি৷ অন্যদিকে প্যাকেজের কথাও বলেছিলেন তাও আজ পর্যন্ত পেলাম না কিছুই৷ আজ অন্যরা পাচ্ছে দেখছি,তাই আমরাও আবেদন রাখছি আমাদেরও চাকরি এবং প্যাকেজ দেওয়া হোক। আমাদের দাবি না মানা হলে আমরা আন্দোলনে নামব৷”

আরও পড়ুন:প্রশাসন নির্ভর সরকার কখনও উন্নয়নের মুখ হতে পারে না: মুকুল রায়

অন্যদিকে মণিদহ গ্রামপঞ্চায়েতের উপপ্রধান অঞ্জন বেরা বলেন, মাওবাদীর সক্রিয়কালে, তাদের চাপের মুখে গ্রামের বহু মানুষ তাদের সঙ্গ বা সভাতে যেতে হয়েছে, তাহলে তো আর গোটা গ্রামকে চাকরী দেওয়ার ক্ষমতা সরকারের নেই৷ সরেজমিনে তদন্ত করে পুলিশের এগোনো উচিত৷

এই বিষয়টিকে বেশ হাস্যকর বলে দাবি করেছেন বিরোধী শিবির। উল্টে এক বিরোধী নেতা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন যে, এখন জলের মতো পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে জঙ্গলমহলে কারা মাওবাদী ছিল? এবং কারা মানুষ খুন করেছিল? খোঁজ নিলে দেখা যাবে আসলে এরা সবাই তৃণমূল। এরাই বলেছিল, তৃণমূল ক্ষমতায় এলে বাংলা বদলে যাবে। তা কি বদলাচ্ছে তা তো দেখতেই পাচ্ছেন সর্বস্তরের মানুষ। তবে অবশ্য এই বিষয় নিয়ে মুখ খুলতে চাননি জেলার শীর্ষ পুলিশ কর্তারা।

Related Articles

Back to top button
Close