fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সাপ্তাহিক লকডাউন, অজয়ের বুকে অবাধে চলছে অবৈধ বালি উত্তোলন

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: বিশ্বজুড়ে করোনার কামড়ে জর্জরিত। সংক্রামক রুখতে চলছে রাজ্যুড়ে সাপ্তাহিক লকডাউন। আর এই লকডাউন সফলে মরিয়া পুলিশ প্রশাসন। সকাল থেকে কড়া নজীদারি পুলিশের। চলছে ধরপাকড়। তারমাঝেও অবাধে চলল অবৈধ বালি উত্তোলন কাঁকসার অজয় নদীর বুকে। গ্রীনট্রাইবুনালকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে অবাধে বালি উত্তোলন উঠছে প্রশ্ন। ক্ষোভে ফুঁসছে গ্রামবাসী।
  করোনা সংক্রামক রুখতে রাজ্যজুড়ে সাপ্তাহিক লকডাউন চলছে। আর এই লকডাউনে কড়া নজরদারি শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। রাস্তায় চলল ধরপাকড়। লকডাউনেও দেদার চলল কাঁকসার অজয় নদীর বুকে অবৈধ বালিঘাট। রীতি মতো মেশিন বসিয়ে চলল বালি উত্তোলন। অজয় নদীর ওপর কোটালপুকুর জঙ্গলঘাট, দেউল, পেয়ারাবাগান, সাতকাহানিয়ার বাঁশতলা, শ্মশানঘাট একাধিক ঘাটে অবাধে চলছে বালি উত্তোলন। নদী গর্ভে মেশিন বসিয়ে জলবালি উত্তোলন করে চলছে বালি ছাকনির কাজ। তারপর জেসিবি দিয়ে চলছে বালি উত্তোলন। বর্ষাকালে মাটি, মোরাম খাদন থেকে শুরু করে নদীতে বালি উত্তোলনে কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে গ্রীনট্রাইবুনালের। ওই নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নদীর পাড়ের ৫০-১০০ মিটারের মধ্যেই চলছে বালি উত্তোলন। ফলে নদীর গতিপথ বদলে পাড় ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলে দাবী গ্রামবাসীদের।
পাম্প বসিয়ে বালি তোলার ফলে নদীতে অচিরে খাদ তৈরী হচ্ছে। জলে তলিয়ে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনাও ঘটে। পাম্প বসিয়ে কিম্বা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালি উত্তোলনে গ্রীনট্রাইবুনালের কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারপরও রমরমিয়ে চলছে পাম্প বসিয়ে বালি উত্তোলন। বেশ কিছু বৈধঘাটের পাশে অবাধে চলছে অবৈধঘাট। তারপর গোঁদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে নভেল করোনা। কোলকাতা, হাওড়ার মত রেডজোন থেকে এলাকায় লরি আসছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, “ওইসব লরি ও তাদের চালকরা যেভাবে আসছে, তাতে রোগ সংক্রামক হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।” স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, নদীতে অবৈধ বালিঘাটের নজরদারির পাশাপাশি বহিরাগত লরি আনাগোনার ওপর।
বিজেপির পূর্ব বর্ধমান জেলা সহ সভাপতি রমন শর্মা জানান,” রাস্তায় মানুষ ঔষধ কিনতে বেরোলে পুলিশ ধরে লক-আপে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। আর লকডাউন উপেক্ষা করে অবাধে চলল অজয় নদীর বুকে অবৈধ বালিঘাট। রাজ্যের তৃণমূল সরকার এখন লকডাউনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যাবহার করছে। তীব্র প্রতিবাদ করছি। খামখেয়ালি না করে টানা লকডাউন হওয়া উচিত।” পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি সমীর বিশ্বাস জানান,” এভাবে মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন বন্ধ হওয়া দরকার। গ্রামবাসীদের অভিযোগের বিষয়টি জেলা প্রশাসনের কাছে জানানো হবে। লকডাউন নিয়ে বিজেপি অযথা রাজনৈতিক রঙ চড়াচ্ছে।”

Related Articles

Back to top button
Close