fbpx
কলকাতাহেডলাইন

আগামীদিনকে স্বাগত জানিয়ে পুজোর মুখে শিশুদের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দিল ‘অনুভব’

বিপাশা চক্রবর্ত্তী, কলকাতা: করোনা আর আমফানের রেশ কিছুটা হলেও কাটিয়ে ফের নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় আপামর বাঙালী। তার মধ্যেই দোরগোড়ায় এসে গেছে সকলের প্রতীক্ষিত শারদউৎসব। হাতে গোনা আর মাত্র কয়েকটা দিন। তারপরেই বাঙালী সেজে উঠবে তার নিজস্ব ছন্দে। তবে করোনার কারণে এবার সেই সাজো সাজো রবে কিছুটা হলেও ছেদ পড়েছে। তবে মায়ের আগমনের বার্তা নিয়ে গোটা পৃথিবী আবার তার পুরনো ছন্দে ফিরুক সেই আশায় বুক বেঁধে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে সকলেই।

পুজোয় মানুষের পাশে ওরা। মানে ‘অনুভব চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’। ‘কাজ করব আমরা, পাশে থাকবেন আপনারা’ এই বার্তা নিয়ে ছোট শিশুদের পাশে এবারেও হাজির হলেন তারা।

গ্রুপের অন্যতম সদস্য জয়িতা দত্তের কথায়, গত ১১ অক্টোবর রাসবিহারী মোড়ে তপন থিয়েটার হলের উল্টোদিকে দেশবন্ধু গার্লস স্কুলে এক সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রায় স্থানীয় ১০০জন দুঃস্থ শিশুর হাতে নতুন জামা কাপড় তুলে দেওয়া হয়। এ বছর অনুভবের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সিকিমের জুলুক থেকে আসেন এক লামা। যার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জুলুকের মতো এক প্রত্যন্ত গ্রামে ১১০ জন দুঃস্থ শিশুদের থাকা, খাওয়া দাওয়া চলে। সেই শিশুদের জন্য অনুভবের পক্ষ থেকে নতুন জামা কাপড় তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে করোনার কারণে জুলুক থেকে শিশুরা কেউই কলকাতায় এসে পৌঁছতে পারেনি। লামার হাতেই তাদের জন্য নতুন বস্ত্র তুলে দেন অনুভব পরিবারের সদস্যরা।

জয়িতাদেবী আরও জানান, করোনা, লকডাউনের আবহে মানুষের জীবন বিপর্যস্ত। তাও গ্রুপের প্রত্যেক সদস্যদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আমরা এই কাজ সফল করতে পেরেছি। এরপর শীতের সময় খোলা আকাশের নীচে পড়ে থাকা অসহায় মানুষগুলির হাতে শীতবস্ত্র থেকে কম্বল তুলে দেওয়া হবে। আশাকরি সেই কাজও ভালো করে সম্পন্ন করতে পারব।

আরও পড়ুন:সঙ্কট না কাটলেও, সুস্থতার পথে ফেলুদা

জয়িতাদেবী আরও জানান, প্রতি বছরই আমাদের সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়। এর মধ্যে রক্তদান শিবিরও আছে। এবছর করোনা আবহে পরিস্থিতির অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। তাও গ্রুপের সদস্যরা সব কাজেই এগিয়ে এসেছেন। এর জন্য সকলের কাছে কৃতজ্ঞ।

জয়িতাদেবীর কথায়, এই লকডাউনের সময় বড়রা একরকম ভাবে বিপর্যস্ত আর সব থেকে সমস্যায় থাকে ছোটরা। আমরা বড়রা সেই শিশু মনকে কেউ বোঝার চেষ্টা করি না। আমরা ভাবি ওরা হয়তো ভালোই আছে। কিন্তু ওদের স্কুল, পার্ক, এমনকী করোনার কারণে বন্ধুদের বাড়িতে আসা যাওয়াও সব বন্ধ। তাই কাউকে কিছু না বললেও ভিতরে ভিতরে গোমড়াতে থাকে ওরা। এই সমস্ত দিকেও খেয়াল রাখারও চেষ্টা করি আমরা। বাচ্চাদের নিয়ে আমরা ভার্চুয়ালি বিভিন্ন নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তির আয়োজন করেছি এবার। ২৫ বৈশাখ, ২২ শ্রাবণ আমরা এই অনুষ্ঠানগুলি হয়েছিল। আজ এই এদিনের অনুষ্ঠানেও  কচি কাঁচাদের নিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এখানে আরেকটা কথা বলে রাখা ভালো, সব কিছুর আগে আমরা মাথায় রেখেছি সকলের সুরক্ষার কথা। তাই অনুষ্ঠান শুরুর আগের দিন এই দেশবন্ধু গার্লস স্কুল স্যানিটাইজ করা হয়।

জয়িতা দত্ত অনুভবের কথা বলতে গিয়ে বলেন, তবে সকলের কাছে অনুরোধ এর মধ্যে কোনও রাজনৈতিক রঙ খুঁজতে যাবেন না। এই সব কিছুই একদিন শুরু হয়েছিল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ নিয়ে। সেটাই আজ পর্যন্ত বজায় আছে।

আরও পড়ুন:করোনায় আক্রান্ত হলেন সঙ্গীতশিল্পী কুমার শানু

এবছর করোনা ও আমফানের সময় সামাজিক কাজে ১৪ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল সুন্দরবনের পাথরপ্রতিমা, কুলতলি, জয়নগরের ৪০ খানা বাড়ির ছাদ নতুন করে তৈরি করে দেওয়া। কলকাতার কালীঘাটের ৩২টা বাড়ির ছাদ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া লকডাউনে সময় প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার হাজার পরিবারের হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

Related Articles

Back to top button
Close