fbpx
হেডলাইন

‘ক্ষমতা থাকলে আমাকে অ্যারেস্ট কর, আমি জেলে থেকে বাংলাকে জেতাব’: বাঁকুড়া জনসভা থেকে মমতা

‘সিপিএম, বিজেপি লোভী আর ভোগী, তৃণমূল ত্যাগী’

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: বাঁকুড়ারই এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী আজ তীব্র আক্রমণাত্মক বক্তব্য রেখেছেন। সেখানে তাঁর আক্রমণের নিশানায় এ রাজ্যের তিনদলই– বিজেপি-কংগ্রেস-সিপিএম। বুধবার বাঁকুড়ার জনসভা থেকে বামেদের লোভী, বিজেপিকে ভোগী বলে কটাক্ষ করলেন তিনি। একইসঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের ত্যাগী হওয়ার পরামর্শও দিলেন দলনেত্রী। সভার শুরুতেই তুলে আনলেন বাঁকুড়ায় বামেদের অত্যাচারের পুরনো খতিয়ান।

এদিনের জনসভা থেকে বাঁকুড়া, জঙ্গল মহলে বামেদের অত্যাচার নিয়ে সরব হন তৃণমূল নেত্রী।  জনসভায় উপস্থিত দর্শকদের মমতার প্রশ্ন, “বাঁকুড়ার মানুষ কি সেই সব অত্যাচারের দিন ভুলে গিয়েছেন?” সিপিএমের সেই হার্মাদরাই আর রঙ বদলে বিজেপির কর্মীতে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। সিপিএম নেতারা সারদা-নারদা মামলা থেকে বাঁচতে বিজেপির পায়ে পড়ে গিয়েছে বলেও কটাক্ষ করলেন তৃণমূল নেত্রী। এদিনের জনসভা থেকে তাঁর চ্যালেঞ্জ, “ক্ষমতা থাকলে আমাকে জেলে ভরুন। সেখান থেকেই বাংলায় তৃণমূলকে ক্ষমতায় আনব।”এ প্রসঙ্গে তিনি বিহারের লালুপ্রসাদ যাদবের উদাহরণও টেনে আনেন। বিহারে ম্যানেপুলেশন করে বিজেপি জিতেছে বলে অভিযোগ করেলেন তিনি।

এদিনের জনসভা থেকে নাম না করেই কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপিকে তুলোধোনা করলেন মমতা। তাঁর কথায়, “সারা বছর রাজ্যের মানুষকে দেখে না। নির্বাচনের আগে এলাকার মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করে দিচ্ছে কেউ কেউ।”লালু প্রসাদ যাদবকে আটকে রেখেছ অনেক দিন ধরে। তাতে জিততে পেরেছ? ওটা জেতা? ম্যানুপুলেট করে জিতেছ।

জনসভা থেকে নাম না করে দিলীপ ঘোষকেও কটাক্ষ করতে পিছপা হননি মমতা। সকাল থেকে উবাচ শুরু হয়েছে। বলছে, গরুর মূত্র থেকে সোনা পাওয়া যায়। তা আপনি একটু সোনা বের করে দেখান। তা হলে আমি বেশি করে গরু দেব গ্রামের মানুষদের। আগে ঘুঁটে দেওয়া শিখুন। তার পর বুঝবেন, গোবরের ধনটা কাজে লাগে। চল্লিশ শতাংশ বেকার বাড়িয়ে দিয়েছে। রেল প্রাইভেট করে দিচ্ছে, বিমান প্রাইভেট করে দিয়েছে। অনেক জায়গায় মাইনে বন্ধ করে দিয়েছে। আমাদের টাকা তো দেয়ই না। কিছু দিলে বলবে, কেন্দ্র দিয়েছে। তুমি আমার রাজ্য থেকে টাকা তুলো না, তোমার টাকার দরকার নেই। ওটা তো আপনার টাকা, আমার টাকা।

আবার পুলিশের বিভিন্ন দপ্তরে যাঁরা কাজ করেন তাঁদের হাত দিয়ে টাকা পাঠানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করলেন তৃণমূল নেত্রী। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কৃষিবিল, ১০০ দিনের কাজ-সহ একাধিক ইস্যুতেও সরব হয়েছেন তিনি। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, “১০০ দিনের কর্মীরা সঠিক সময় টাকা পাচ্ছেন না। কারণ সেই টাকা সুদে খাটাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।” তাঁর কথায়, “কেন্দ্র বাংলা থেকে করের টাকা নিয়ে যায়। সেই টাকাই আবার রাজ্যকে দেয়। আলাদা করে কিছুই দেয় না।”

আরও পড়ুন: প্রথম মহিলা গোয়েন্দাপ্রধান পাচ্ছে আমেরিকা

কৃষকদের জমি লুটে নেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। আমরা কৃষক বন্ধুদের পাঁচ হাজার টাকা করে দিই। কৃষকদের জমি থেকে কোনও কর নিই না। মিউটেশন শুল্প মুকুব করে দেওয়া হয়েছে। মাঝে মাঝেই বলবে ওই তো কৃষকরা টাকা পেল না। আমাদের টাকা পেল না।ওরা টাকা দিলে টাকা নিয়ে নেবেন। টাকাটা ওদের নয়। নেবেন টাকা, ভোটের বাক্স করবেন ফাঁকা। দলিতদের উপর ওরা সবথেকে বেশি অত্যাচার করছে। আর এখানে এসে তপসিলি বাড়িতে এসে খাচ্ছে। হোটেল থেকে বাসমতি চালের ভাত আর পোস্তর বড়া এনে খাচ্ছে। আর এখানে প্রতারণা করে দেখাচ্ছে, ধনেপাতা, বাঁধাকপি কাটা হচ্ছে। সাঙ্গো পাঙ্গ, দেবাঙ্গ, ব্রহ্মাঙ্গ, অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, অস্ত্রাঙ্গ সব নিয়ে এসে ছবি তোলার জন্য পাত পেড়ে খাওয়া আর মানুষকে মিথ্যা কথা বলা… একটা গারবেজ অফ লাইজ পার্টি। মিথ্যের ডাস্টবিন। এতো মিথ্যা কথা কেউ বলে না।

তৃণমূল কর্মীদের ত্যাগী হওয়ার পরামর্শও দিলেন দলনেত্রী। আমি ভুলে যাইনি। কোতলপুরের বিক্রমপুর গ্রাম। সালামের বাড়ি। তাঁরা দুই ভাই। তাঁরা আর্মিতে কাজ করত। মায়ের সামনে ছেলের মুণ্ডু কেটে ফেলে দিয়েছিল। বলছিল মা একটু পানি দাও। মা এসে দেখেছে মাথা ও দেহ ধর আলাদা হয়ে পড়ে আছে। এই ছিল সিপিএমের অত্যাচার।

আরও পড়ুন: ‘যেন দ্বিতীয় কাশ্মীর, জঙ্গিদের ডেরায় পরিণত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ’: দিলীপ ঘোষ

কেউ কেউ ভাবছে বাইচান্স যদি ওরা ক্ষমতায় চলে আসে। আরে চান্সই নেই তো বাই চান্স! বাঁকুড়ার একটি একটি করে আসন বুঝে নেব। অনেক টাকা হয়েছে না। হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ টাকা। আগে খেতে পেত না, একটা বিড়ি তিনজনে টানত। আর এখন ফোন করে তৃণমূল কর্মীকে বলছে, শোন তোকে ২ কোটি টাকা দেব চলে আয়। কোনও একটা এমএলএ-কে বলছে এখন ১৫ লক্ষ টাকা দিচ্ছি পরে আরও দেব। সিপিএমকে দেখে আরও লজ্জা লাগে। বিজেপির পা চাটছে। আরে আমি তো তোমাদের কিছুই করিনি। শুধু বলেছি, বদলা নয় বদল চাই। ভোট এলেই তৃণমূলকে ভয় দেখানো, যাতে তৃণমূলের কিছু লোক ভয় পেয়ে ওদের সঙ্গে চলে যায়। বলছে, কী করবে? হয় ঘরে থাকো না হলে জেলে থাকো। আমি বলছি, ক্ষমতা থাকলে আমাকে অ্যারেস্ট কর। আমি জেলে থেকে তৃণমূলকে জেতাব।

কোনও ব্যক্তির উপর রাগ থাকতেই পারে, কিন্তু তার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে ভুল বুঝবেন না। আমরাও রিপোর্ট নিই। রিপোর্ট কার্ড খারাপ থাকলে বলি তুমি দূরে থাকো। আমি নতুন ছেলে মেয়ে তৈরি করে নেব। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খাটি, এমনি এমনি? নিশ্চয়ই ভাল কিছু করব বলে! মানুষের ভাল করার জন্য। একটা কথা বলতে চাই, অনেকে ভাবেন, বাঁকুড়া জেলার কে অবজার্ভার, পুরুলিয়ার কে, মেদিনীপুর কে দেখবে, আসানসোল কে দেখবে? আগে দল কি মেসেজ দিই, সারা বাংলায় আমি একজন কর্মী হিসাবে আমিই এখন অবজার্ভার। কারণ প্রত্যেকটা ব্লক থেকে ব্লকে কে কী করছে, কে কে কনট্যাক্ট করছে, কার সঙ্গে কে যোগাযোগ রাখছে, এ টু জেড আমি খবর রাখি।

Related Articles

Back to top button
Close