fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রাজ্য, কেন্দ্রের টাকা খরচ করার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলা, সতর্ক করে সময় বেঁধে দিলেন জেলাশাসক

শুভেন্দু বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের পাশাপাশি বিশ্ব ব্যাংকের দেওয়া টাকা খরচ ঠিকভাবে হচ্ছে না। বলতে গেলে এই টাকা খরচের ক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে পশ্চিম বর্ধমান জেলা। বুধবার আসানসোলের রবীন্দ্রভবনে জেলার সবকটি গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়নমুলক প্রকল্প নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকেই এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলাশাসক পূর্ণেন্দু কুমার মাজি।

জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুভদ্রা বাউরি, জেলা পরিষদের অন্যান্য সদস্য, ৬২ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, সদস্য, আসানসোল ও দূর্গাপুরের দুই মহকুমাশাসক ও জেলার সব ব্লকের বিডিওরা এদিনের বৈঠকে ছিলেন। এছাড়াও বৈঠকে ছিলেন জেলা পঞ্চায়েত গ্রাম উন্নয়ন আধিকারিক তমজিৎ চক্রবর্তী। জেলাশাসক বৈঠকে বলেন, তিন মাস সময় দেওয়া হলো পড়ে থাকা এই টাকা খরচ করার জন্য। এর মধ্যে যারা টাকা সঠিকভাবে খাতে খরচ করতে পারবেন তাদের পুরস্কৃত করা হবে। যারা তা করতে পারবেন না তাদের বিরুদ্ধে কি ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা অবশ্য তিনি এদিন বলেন নি। তবে জেলাশাসক যে বিষয়টি ভালোভাবে নিচ্ছেন না তা বুঝিয়ে দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ফের রাজনৈতিক সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ভগবানপুর, আহত ৬ বিজেপি কর্মী

জেলাশাসক বৈঠকে বলেন, বাংলা আবাস যোজনা ও শৌচালয় তৈরীর ক্ষেত্রে গত আর্থিক বছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্ধেক হওয়া তো দুরের কথা, তার কাছাকাছিও জেলা পৌঁছায়নি। বাংলা আবাস যোজনায় মাত্র ২০ শতাংশ কাজ করা হয়েছে গত আর্থিক বছরে। পশ্চিম বর্ধমান জেলা নির্মল জেলা ঘোষিত হলেও, এই জেলায় শৌচালয় নির্মাণ মাত্র ৩৯ শতাংশ শেষ হয়েছে। সমব্যথী প্রকল্পে ( যেখানে কোন মানুষ মারা গেলে তার পরিবার শ্মশানে শবদাহ করার জন্য দু হাজার টাকা করে পায়) তিনটি ব্লক কাঁকসা,অন্ডাল ও সালানপুরে গত তিন মাস হতে চললো একটি টাকাও খরচ হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে তাহলে কি এইসব ব্লকে গত তিন মাসে একজনও মারা যায়নি। এটা যে হতেই পারে না তা জেলাশাসক ঐ ব্লকের কর্তাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫০ কোটি এখনো পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েতে হাতে পড়ে আছে। যা খরচ করা হয়নি। যেমন ১ কোটি টাকার বেশি খরচ হয়নি এমন গ্রাম পঞ্চায়েতের সংখ্যা প্রায় ২০টি। যার মধ্যে আছে রানিগঞ্জের এগরা , জেমারি, দক্ষিণখন্ড ,বহুলা। এইসব গ্রাম পঞ্চায়েত রাস্তা নির্মাণ থেকে শুরু করে অন্যান্য কাজেও পিছিয়ে আছে বলে তমোজিৎ চক্রবর্তী জানান । জেলাশাসক এদিনের বৈঠকে পরিষ্কার করে বলে দেন, তিন মাসের মধ্যেই পড়ে টাকা খরচ করতে হবে সমস্ত নিয়ম মেনে ও দুর্নীতিমুক্ত হয়ে। প্রত্যেক গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানকে বলা হয়েছে, মাটির সৃষ্টি প্রকল্পের জন্য পাঁচ একর জমি অবিলম্বে খুঁজে বার করতে হবে।

পরে জেলাশাসক বলেন, জেলায় ৩৮ হাজারট শৌচালয় তৈরী করার কথা থাকলেও ৩৯% শৌচালয় হয়েছে। টাকা খরচ না করার একটা অন্যতম কারণ হলো লকডাউন। এই সময় গ্রাম পঞ্চায়েত ও প্রশাসন টাকা খরচ করতে পারেনি। তিনি আরো বলেন, জেলার ধস ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পুনর্বাসনের বিষয়টিতে জোর দেওয়া হয়েছে। বিপজ্জনক এলাকা থেকে মানুষদের সরে যাওয়ার জন্য আবারও বোঝাতে হবে ।

Related Articles

Back to top button
Close