fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

নৃশংসতা কী নেশা! ‘৫২৩০’ জনকে খুন… দোষী সাব্যস্ত ৯৩ বছরের বৃদ্ধ

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: একটা না, দুটো না সংখ্যাটা ‘৫২৩০’। আর এই সংখ্যার পিছনে কাজ করছে মর্মান্তিক কতগুলো ঘটনা। আর যিনি এই ঘটনাগুলি একের পর এক নৃশংসতার সঙ্গে ঘটিয়ে গেছেন তিনি হলেন ৯৩ বছরের এক বৃদ্ধ!
‘৫২৩০’ এই সংখ্যা আর  বৃদ্ধের বয়স এই দুটো নিয়ে ভাবতে বসলে সত্যি আশ্চর্য হতে হয়!  ‘৫২৩০’ জন মানুষকে নির্লিপ্তভাবে একের পর খুন করে গেছেন এই বৃদ্ধ।

ইতিমধ্যেই জার্মানির এক আদালত ৯৩ বছরের এই নাৎসি গার্ডকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। এই প্রহরীর নাম ব্রুনো ডে। ৭৫ বছর আগে সে স্ট্যাথফ কনসেন্টেশন ক্যাম্পে প্রহরী ছিলেন। তখন তিনি এখানেও নৃশংস হত্যায় সাহায্য করেছিলেন। সেই নৃশংসতা পরবর্তী জীবনেও ছাড়তে পারেননি তিনি।

ব্রুনো ১৯৪৪ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত ডানস্কের পূর্বে স্টাথফ কনসেন্টেশন ক্যাম্পে প্রহরীর কাজে কর্মরত ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পরেও ব্রুনোর নামে কেস চলছিল। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৭ বছর।কিন্তু সেই সময় নাবালক হওয়ার জন্য দু বছরের কারাদণ্ড মিলেছিল তার। কিন্তু মৃতদের আত্মীয় পরিজনেরা এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে। তাদের বক্তব্য ছিল এটা অবিচার।
এরপর বহু বছর ধরে এই মামলা চলে। নিহতদের পক্ষে আইনজীবীর বক্তব্য ছিল এই প্রহরীর বয়স তার অপরাধের মাত্রা কোনও ক্ষেত্রেই কম করে না।

আরও পড়ুন:যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ২ হাজার ৬ শো জন করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে!

অবশেষে ব্রুনো ডে’কে হামবুর্গ স্টেট কোর্টে পেশ করা হয়। তিনি একটি নীল সার্জিক্যাল মাস্ক পরেছিলেন। ব্রুনোকে হুইলচেয়ারে আনা হয়েছিল। আদালতে বিচারক যখন তাঁর বিরুদ্ধে রায় দিচ্ছিলেন, তখনও সে ছিল আশ্চর্যজনক ভাবে নির্লিপ্ত।
বিচারক অ্যানি মিয়ের গোরিং বলেন, “আপনি যে অপরাধটি করেছেন তা নির্মম। কিন্তু যা করেছেন তার জন্য এখন আপনি শাস্তি পাবেন।”

ব্রুনো নিজে পরে বলেছেন, তিনি গ্যাসের চেম্বারে লোকদের চিৎকার শুনেছিলেন। পরে মৃতদেহগুলিও বের হতে সে দেখেছে। রাতে ঘুম হত না’।

তাহলে উঠছে প্রশ্ন। কিভাবে কেন এই এই নৃশংসতা তার মস্তিষ্কে বাসা বেধেছিল! বর্বরতা কি একসময় নেশা হয়ে গিয়েছিল ব্রুনোর জীবনে। তাই একের পর এক অপরাধ ঘটানোর সময় হাত কাঁপেনি তার!

Related Articles

Back to top button
Close