fbpx
গুরুত্বপূর্ণব্লগহেডলাইন

পাক বিরোধীদের সঙ্গে ভারতের কী সম্পর্ক

আর কে সিনহা: পাকিস্তান-বিরোধীদের ভারতের সঙ্গে কী কোনও সম্পর্ক রয়েছে? যদিও অন্য কোনও দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারত কখনও হস্তক্ষেপ করে না। তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মন্ত্রিসভার সদস্য শিরিন মজারি অন্য কিছু মনে করেন। গত ২৬ অক্টোবর তিনি পাকিস্তানের সংসদে অভিযোগ এনেছিলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের। আসলে পাকিস্তানের প্রধান বিরোধী দলগুলি মিলিত হয়ে পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের (পিডিএম) গঠন করেছে। এই পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট ইমরান খান সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে এবং ইমরানের ইস্তফার দাবি জানাচ্ছে। পাকিস্তানের মানবাধিকার মন্ত্রী শিরিন মজারি বলেছেন, যখন (অজিত দোভাল) দোভাল হুমকি দিচ্ছেন, তখন পিডিএম-এর কিছু নেতা বালুচিস্তানের স্বাধীনতার দাবি জানাচ্ছে এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ চাইছেন, পাকিস্তানি জানাতেই বিদ্রোহ হোক। এই ধরনের কথা দিবাস্বপ্ন ছাড়া আর কী হতে পারে?

শিরিন মজারি টুইট করে লেখেন, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পিডিএম-এর একই ধরনের কথা বলা কী কাকতালীয়? শিরিনের এই মন্তব্য এটাই জানান দিচ্ছে যে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গিয়েছে এবং এই পরিস্থিতি ইমরান খান সরকারের বিরুদ্ধে। সমগ্র পাকিস্তানে ইমরান খান সরকারের তীব্র বিরোধিতা করছে পিডিএম। এই পরিস্থিতির মধ্যে ভারতকে নিয়ে আসার নেপথ্যে মজারির উদ্দেশ্য হল, পাকিস্তান বিরোধীদের পাশাপাশি ভারতকেও বদনাম করা। আসলে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের একটি বয়ানে, শত্রু দেশের ঘুম চলে গিয়েছে। উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে একটি কার্যক্রমে দোভাল বলেছিলেন, কারও ইচ্ছায় নয়, নিজ প্রয়োজনে ও বিপদ বুঝে যুদ্ধ করবে ভারত। বিজয়া দশমীতে অজিত দোভাল বলেছেন, ‘যেখান থেকে আমাদের ঝুঁকি রয়েছে, সেখানেই আমরা লড়ব। আমরা যুদ্ধ তো করব, আমাদের ভূখণ্ডেও করতে পারি এবং বাইরেও করব।’ দোভালের এই মন্তব্য পাকিস্তানি শাসকদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। এরই মধ্যে মঙ্গলবার পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়েছে। বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রচুর মানুষ আহত হয়েছেন। রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বিস্ফোরণ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল এবং বিস্ফোরক দেশীয় ছিল বলে জানা যাচ্ছে। ওই হামলায় পাক পুলিশকে নিশানা করা হয়েছিল।

অর্থাৎ এটা স্পষ্ট, অত্যন্ত খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। একদিকে কোভিড-১৯ এবং অপরদিকে পিডিএম-এর আন্দোলন। পিডিএম-এর একজন বড় নেতার বালুচিস্তানে স্বাধীনতার দাবি জানানো কোনও ভাবেই সামান্য বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। বালুচিস্তান প্রদেশে বিদ্রোহ হয়তো বুঝতে পারেননি ইমরান খান অথবা দেখেও চোখ বন্ধ করে রেখেছেন। বালুচিস্তানে বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি নামক একটি সংগঠন যেনতেন প্রকারেণ পাকিস্তান থেকে বালুচিস্তানকে পৃথক করতে চাইছে। সেখানকার জনগণও তাঁদের পাশে রয়েছেন। তাঁরা এখন হিংসাত্মক পথ বেঁচে নিয়েছে। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মিই কয়েক সপ্তাহ আগে করাচি স্টক এক্সচেঞ্জ বিল্ডিংয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছিল। ওই হামলায় প্রায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেখানে গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছিল হামলাকারীরা। তখন থেকেই নির্লজ্জতার সঙ্গে ইমরান খান দাবি করছেন, করাচি হামলায় ভারতের হাত রয়েছে। এখন তাঁর একজন মন্ত্রীও নিজেদের দেশের বিরোধী এবং ভারতের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইছেন। ইমরান খান তো বিরোধী দলগুলির সংহতিকে হামলা করে তাঁদের “ডাকাতদের ঐক্য” হিসাবে অভিহিত করছেন। ইমরান খান সরকার যথেচ্ছ হুমকি দিচ্ছে বিরোধীদের। কিন্তু, সরকারের হুমকি সত্বেও মোটেও ভয় পাচ্ছে না বিরোধীরা, বরং সরকারের উপর হামলা দিন দিন ক্রমশই বাড়ছে।

ইমরান খান সবথেকে বেশি আক্রমণ করছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে। নওয়াজ শরিফকে পাকিস্তানের পুতুলরা ভারতের প্রিয় আখ্যা দিয়ে থাকে। এর অন্যতম কারণ হল, ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার জন্য পারভেজ মুশারফকে দায়ী করেছিলেন নওয়াজ। ইমরান খান এটাও বলেছিলেন, ২০০৮ সালের হামলা নাকি ভারত নিজেই করিয়েছিল। ইমরান কতটা নির্লজ্জ বুঝে নিন। মুম্বইয়ে ভয়াবহ ওই সন্ত্রাসী হামলার পর ১২ বছরের বেশি হয়ে গিয়েছে, কিন্তু পাকিস্তান এখনও পর্যন্ত হামলাকারীদের সাজা পর্যন্ত দিতে পারেনি। তবে সেখানে হামলায় অভিযুক্তদের নামমাত্র মামলা চলছে। ইমরান খানকে প্রশ্ন করা উচিত, যদি মুম্বই হামলা ভারত করিয়ে থাকে, তাহলে পাকিস্তানে কেন মামলা চলছে? ইমরান খান যেহেতু সত্যের পাশে দাঁড়ান না, তাই হয়তো বালুচিস্তানের পরিস্থিতি তিনি বুঝতে পারছেন না। সেখানে বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি খুঁজে খুঁজে পাকিস্তানি পাঞ্জাবিদের হত্যা করছে। এখন প্রশ্ন হল, বালুচিস্তানকেই কেন নিশানা করা হচ্ছে? এটাও কী ভারত করেছে? পাকিস্তানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির নিরিখে মনে করা হচ্ছে, খুব শীঘ্রই পাক সেনা ইমরান খান সরকারকে উৎখাত করবে। পাকিস্তানে এখনও সেনার আধিপত্য কায়েম রয়েছে। জনগণকে বোকা বানানোর জন্য ইমরান খানকে পুতুল প্রধানমন্ত্রী করেছিল সেখানকার সেনা। আপাতত একটি বিষয় মানতেই হবে, পাকিস্তানের পরিস্থিতি দিন দিন যত খারাপ হবে, মজারি অথবা সরকারের অন্য কেউ ভারতকেই দোষারোপ করবে।

মতামত নিজস্ব

(লেখক রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ)

 

Related Articles

Back to top button
Close