fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণব্লগহেডলাইন

যা সন্দেহ ছিল, তাই হয়েছে…..

আর কে সিনহা: জাপানের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ তাসকু হঞ্জো একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন। সংবাদমাধ্যমগুলিকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে করোনার ভাইরাস প্রাকৃতিক বা স্বাভাবিক ভাবে ছড়িয়ে পড়া কোনও ভাইরাস নয়। এটি সম্পূর্ণ ভাবে একটি মনুষ্যনির্মিত ভাইরাস। চিনের বুহানের পরীক্ষাগারে তৈরি করা হয়েছে। ডাঃ তাসকু হঞ্জো হলেন, জাপানের কিটো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিউনোলজি এবং জেনোমিক মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক।
২০১৮ সালে ইমিউনোলজির উপর নোবেল পুরষ্কার পেয়েছিলেন। অধ্যাপক ডাঃ হঞ্জো জানিয়েছেন, “আমি হলফ করে বলতে পারি যে এই ভাইরাসটি পরিপূর্ণ ভাবে মনুষ্যসৃষ্ট। বাদুড়ের সঙ্গে এর কোনও যোগসূত্র নেই। বাদুড়ের প্রসঙ্গ টেনে মিথ্যা ছড়ানো হয়েছে।”

ডাঃ তাসকু হঞ্জো জানিয়েছেন,” আমি নিজে চার বছর ধরে চিনের বুহানে ভাইরোলজির পরীক্ষাগারে কাজ করেছিলাম এবং সেখানকার বিজ্ঞানী ও টেকনিশিয়ানরা প্রত্যেকেই আমার পরিচিত। ভাইরাসটি যখন ছড়িয়ে পড়ে তখন আমি নিজে বুহানে ভাইরোলজির পরীক্ষাগারে কর্মরত আমার সমস্ত বৈজ্ঞানিক বন্ধুকে একে একে ফোন করেছিলাম। কিন্তু কাউকে ফোন পাওয়া যায়নি। প্রত্যেকের ফোন হয় বন্ধ ছিল বা সম্পূর্ণ ডেড হয়ে পড়েছিল। তিন মাস চেষ্টার পরে এখন জানতে পেরেছি যে ওই পরীক্ষাগারে কর্মরত সমস্ত বিজ্ঞানী এবং প্রযুক্তিবিদরা এই পৃথিবীতে নেই। এটি একটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।

ডাঃ তাসকু হঞ্জো জানিয়েছেন, “আমি গত ৪০ বছর ধরে কেবল ভাইরাস এবং ইমিউনোলজি নিয়ে গবেষণা কাজ করে যাচ্ছি। তবে, চল্লিশ বছরের গবেষণায় কখনও দেখিনি যে একটি ভাইরাস সমস্ত ধরণের পরিবেশ এবং সমস্ত ধরণের তাপমাত্রায় টিকে থাকতে পারে। এটি এমন প্রথম ভাইরাস যা চিনের তাপমাত্রায়, সুইৎজারল্যান্ডের তুষারময় অঞ্চল এবং মধ্য এশিয়ার মরুভূমিতে সমান ভাবে সক্রিয়। এটা সম্ভব হতে পারে না। কারণ প্রাকৃতিক ভাইরাসকে বেঁচে থাকতে হলে কয়েকটি বিশেষ শর্ত মেনে চলতে হয়। তার মধ্যে প্রথম হচ্ছে তাপমাত্রা।

ভাইরাসের বেঁচে থাকার জন্য সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় জানা এবং স্থির। তবে করোনা নামের এই ভাইরাসটি চিনের বুহান পরীক্ষাগার থেকে ছড়িয়ে পড়েছে তা সব ধরণের তাপমাত্রায় টিকে রয়েছে। এটি চিন, সুইৎজারল্যান্ড, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, আফ্রিকা, রাশিয়া, আমেরিকা এবং ভারতেও ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাকৃতিক ভাইরাসের ক্ষেত্রে যা মোটেই সম্ভব নয়। এটি কেবল তখন সম্ভব হতে পারে যদি পরীক্ষাগারে কোনও কৃত্রিম ভাইরাস তৈরি হয়, যা সমাজ ধ্বংসের জন্য পরিকল্পিতভাবে পরিকল্পনা করা হয়।” তিনি এমনও দাবি করেছেন যে তিনি ভুল হলে তার নোবেল পুরস্কার ছিনিয়ে নেওয়া হোক। নোবেল বিজয়ীদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হোক তার নাম। তার এই জোরদার দাবি লক্ষণীয়। তিনি পরীক্ষা করেই এমন সিদ্ধান্তে আসেন। তার মতো এক ফরাসী বিজ্ঞানী একই কথা বলছে্ন।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও তদন্ত চেয়েছেন।

আপনি যদি এই বৈজ্ঞানিকের জীবনী দেখেন তবে দেখবেন তিনি লক্ষাধিক গবেষণায় জড়িত ছিলেন। প্রায় এক ডজন পুরস্কার পান। জাপানের লোকেরা অনেক কম কথা বলে। করোনাকে দেখে তিনি বিচলিত হন।

তার এই বক্তব্যকে জোরদার করেছেন আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান ইত্যাদির মতো দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি রিপোর্টে। যারা এই ভাইরাসটির কৃত্রিমতা খোঁজে জন্য নিজেদের মতো করে অনুসন্ধান চালিয়েছে। এটি সত্য। এর মধ্যে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য লুকিয়ে রয়েছে।

সর্বোপরি চিন কেন এমন করল? কিছু লোক বলেছেন যে চিন নিজেই তার জনসংখ্যা হ্রাস করতে চেয়েছিল। তবে, বেশিরভাগ লোক বলেছেন আমেরিকা বিশ্বের এক নম্বর অর্থনৈতিক শক্তিধর দেশ হিসেবে থেকে যাক তা চিন সহ্য করতে পারেনি। চিন চায় যে কোনওভাবে নিজেই বিশ্বের প্রথম শক্তিধর হয়ে উঠুক। এর জন্য, চিন কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন ধরণের প্রচেষ্টাও করেছে।

উদাহরণস্বরূপ, শতাধিক চিনা সংস্থা নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে নিজেদের নিবন্ধিত করেছে এবং তারপরে চিনা সরকার সুকৌশলে এই সংস্থাগুলির শেয়ারের দাম বাড়িয়েছে। যখন চিনা সংস্থাগুলির শেয়ারের দাম বেড়েছে তখন আমেরিকা এবং ইউরোপের বিনিয়োগকারীরা এর মধ্যে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ শুরু করে, ফলে এই অর্থ চিন যেতে থাকে এবং চিন এই সংস্থাগুলির মাধ্যমে উন্নতি লাভ করতে থাকে।

এর সঙ্গে চিনও যথেষ্ট অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে, এখন আমেরিকা এ জাতীয় অনেক সংস্থার জালিয়াতি ধরা পড়ে এবং তাদের বিশেষজ্ঞদের চিন পাঠাতে চেয়েছিল সেই সংস্থাগুলির কাজ পরীক্ষা করার জন্য, তবে, চিন রাজি নয়। তারা বলেছিল যে কোনও বিদেশী সংস্থা তদন্ত আমাদের দেশের সংস্থাগুলিকে করতে পারে না। এটি একটি আশ্চর্যজনক। বিদেশের স্টক এক্সচেঞ্জের নাম নথিভুক্ত করাব। শেয়ারের উল্টো পাল্টা দাম নির্ধারণ করব। টাকা রোজগার করব। কিন্তু তদন্ত করতে দেব না। এটি চিনে একটি বড় কৌশল।

চিন এ জাতীয় অনেক উল্টোপাল্টা কাজ করে চলেছে এবং যখন অর্থনৈতিক বিশ্বে এটি ঘটনা ধরা পড়ে তখন মনোযোগ সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিভ্রান্তিমূলক কাজ করে চিন। যেমন এখন নেপালকে উস্কে দিয়ে কালী নদীর উৎপত্তিস্থলটি পরিবর্তন করতে চাইছে চিন কীভাবে আপনি নদীর উৎস পরিবর্তন করতে পারেন?  কালী নদী, যা প্রাচীন কালী মন্দিরের নীচে সুড়ঙ্গ থেকে উৎপন্ন হয়েছিল কালী মন্দিরটি এখনও কোথায় আছে তা সকলেই জানেন।

আপনি যদি মন্দিরের মাটির নীচের দিকে লক্ষ্য করেন তবে দেখতে পাবেন যে নদী প্রবাহমান এবং একই প্রবাহটি পরে বিকাশ করে পুরো কালী নদীতে পরিণত হয়। তবে এখন নেপালের শাসকরা চিনের দ্বারা প্রভাবিত হয় এই উৎপত্তি স্থল মানতে চাইছে না তারা কুমায়ূন থেকে এর উৎস দেখাতে চাইছে। সেখান থেকে একটি ছোট নদী বেরিয়ে এসে মূল কালী নদীর স্রোতের সঙ্গে এসে মিলেছে। তবে চিন এখনও লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি চেষ্টা করছে।

ভিয়েতনামের সঙ্গে সে একই আচরণ করছে। একই জিনিস তাইওয়ানের সঙ্গে চলছে। এর অর্থ হল চিন নিজেকে এককভাবে বা অন্যভাবে বিশ্বের এক নম্বর দেশ করার চেষ্টা করছে। এটা কি সম্ভব হবে। সময়ই তা বলে দেবে। তবে একটি বিষয় আছে যে ডাঃ তাসকু হঞ্জো’র বক্তব্য বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং করোনা ভাইরাসটি একটি মনুষ্যসৃষ্ট কৃত্রিম ভাইরাসের তদন্তের স্বপক্ষে দাবিও জোরালো হল।

(লেখকের মতামত নিজস্ব)

Related Articles

Back to top button
Close