fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

একুশে ক্ষমতায় এলেই এইমস গড়ব উত্তরবঙ্গে: দিলীপ ঘোষ

ইন্দ্রাণী দাশগুপ্ত: উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের চাহিদা এইমস হাসপাতাল। ২০২১-এ ক্ষমতায় এলে বিজেপি সরকারের প্রথম কাজ হবে উত্তরবঙ্গে এইমস হাসপাতাল নির্মাণ বলে জানালেন উত্তরবঙ্গ সফররত বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি আরও বলেন, সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের মতোই উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ, বলা যায় তলানিতে ঠেকেছে। আমারা ক্ষমতায় এলে হাসপাতাল প্রতি ব্লকে স্বাস্থ্য ক্লিনিক নির্মাণ থেকে শুরু করে নার্সিং কলেজ স্থাপনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজাব বলে বুধবার উত্তরবঙ্গবাসীকে প্রতিশ্রুতি দেন দিলীপ ঘোষ।

প্রসঙ্গত, উল্লেখযোগ্য সাত দিনের উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সাংসদ দীলিপ ঘোষ। সেখানে তিনি বুথস্তর শুরু করে জেলা নেতৃত্ব পর্যন্ত সকলের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক বৈঠক করছেন। সারাদিন একাধিক সভায় দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বুঝে নিতে চাইছেন উত্তরবঙ্গে বিজেপি ঠিক কোন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। কারণ ২০২১ -এর বিধানসভা নির্বাচনে যে ২০০টি আসনের লক্ষ্যমাত্রা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্ধারণ করে দিয়েছে সেই দিকে বিজেপিকে বেশ খানিকটা এগিয়ে দিতেই পারে উত্তরবঙ্গের বিপুল জয়।

যুগশঙ্খকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে দিলীপবাবুর কথায় উত্তরবঙ্গের মানুষ বরাবরই বিজেপিকে ভালোবাসেন। তারা মোদিজীর উপর আস্থা রেখে ২০১৯ -এ লোকসভায় নির্বাচনে দুই হাত তুলে আশীর্বাদ করেছেন আমাদের। তাই উত্তরবঙ্গের মানুষের সর্বক্ষেত্রে উন্নয়ন আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য। দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরবঙ্গের মানুষের দাবি ছিল এইমস হাসপাতালের নির্মাণ। কেন্দ্রীয় সরকার এই দাবি মেনে হাসপাতাল নির্মাণের জন্য সব কিছু ধার্য করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এসে সেটিকে কল্যাণীতে স্থানান্তরিত করেন। তার বদলে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল নামে বেশ কতগুলি লাল নীল সাদা বিল্ডিং দাঁড় করিয়ে দেন। আর আছে কয়েকটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। যেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া আর কিছু হয় না বলে অভিযোগ এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের।

আরও পড়ুন:#BREAKING: হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু কংগ্রেস মুখপাত্র রাজীব ত্যাগীর

আপনারা জেনে অবাক হবেন পুরো উত্তরবঙ্গে একটাও নিউরোলজির ডাক্তার নেই। কারো যদি ব্রেন হ্যামারেজ হয় বা অন্য কোন নিউরোলজি সংক্রান্ত সমস্যা হয় তাহলে তাদের অপেক্ষা করতে হয় কলকাতার জন্য। যতক্ষণে সেই রোগীরা কলকাতায় পৌঁছান সেই সময়ের মধ্যেই অধিকাংশ রোগী হয় মারা যান, না হলে গুরুতর অবস্থায় পৌঁছে যান ।

সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালগুলোতে সিজারিয়ান, অ্যাপেনডিক্স, হার্ণিয়ার মতো ছোট ছোট অপারেশন হয়। যেগুলো মূলত যে কোনও পৌর হাসপাতালে করার কথা।ক্যানসার বা কিডনি রোগের বা হার্টের রোগের চিকিৎসার জন্য আজও সমগ্র উত্তরবঙ্গের মানুষকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজর উপরে নির্ভর করে থাকতে হয়। সেখানেও উন্নত যন্ত্রপাতির বড় অভাব ।
মালদা থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত সমগ্র উত্তরবঙ্গে একটা মাত্র বড় মেডিক্যাল কলেজ থাকার জন্য রোগীর ভিড় এত বেশি, যেকোনও দিন গেলে এমারজেন্সির সামনেই উন্মুক্ত জায়গায় ট্রলিতে একাধিক মারাত্মক রোগীর দেখা আপনারা পাবেন। তার ফলে রমরম করে চলছে প্রাইভেট নার্সিং হোমগুলোর ব্যবসা। কারণ উত্তরবঙ্গ থেকে কলকাতার বড় হাসপাতালগুলোতে রোগীদের নিয়ে আসতে যে পরিমাণ সময় ব্যয় হয় তাতে রোগের জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে অত্যন্ত বেশি। আর তার জন্য অসহায় উত্তরবঙ্গবাসীকে ঘটি বাটি বিক্রি করে প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা করাতে হয়।

এছাড়াও আজও উত্তরবঙ্গের সরকারি হাসপাতালগুলিতে ডাক্তার এবং নার্সের অভাব। খুব তাড়াতাড়ি যদি এই অঞ্চলে নার্সিং ট্রেনিং কলেজ প্রতিষ্ঠা করা না যায় তাহলে উত্তরবঙ্গে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো একেবারেই ভেঙে পড়বে। কারণ ডাক্তার এবং নার্স না থাকলে চিকিৎসা করবে কে ? তাই আমরা সরকারে এলে যেমন এইমস হাসপাতাল নির্মাণ করব তেমনই প্রতিটা ব্লকে ব্লকে চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে সুচিকিৎসক এবং নার্সের বন্দোবস্ত করব।

আরও পড়ুন:স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে জন্মাষ্টমী পালন বাংলাদেশের হিন্দু মহাজোটের 

আর নীল সাদা হাসপাতালগুলিতে তখন হার্টের রোগ থেকে শুরু করে কেমোথেরাপি ডায়ালিসিস সবই উন্নত যন্ত্রপাতির মাধ্যমে দেওয়া হবে। আমাদের বিজেপি শাসিত সকল রাজ্যের প্রত্যেকটা প্রান্তে সুচিকিৎসা ব্যবস্থা পরিষেবা দেওয়া হয় নাগরিকদের। যার জন্য এই করোনা মহামারীর মারাত্মক সময় উত্তরপ্রদেশ, বিহার, গুজরাটের মত বড় বড় রাজ্যগুলিতে করোনা মহামারী বিধ্বংসী আকার নিতে পারেনি। কারণ প্রত্যন্ত থেকে প্রত্যন্ত গ্রামেও চিকিৎসা ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিষেবা দেওয়ার কাজ করছে করেছে বিজেপি সরকার। তাই তৃণমূলের মত ভাঁওতাবাজি আর মিডিয়াতে বড় বড় সারবত্তাহীন বক্তব্য না দিয়ে আমরা মাথা উঁচু করে আজ বলতেই পারি আমরা শুধু কথা দিই না কাজও করে দেখাই। তার সেটা বারে বারে প্রমাণ করে দিয়েছে কেন্দ্রের মোদি সরকার।

Related Articles

Back to top button
Close