fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সিএএ লাগু কবে! একুশ আসন্ন, নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন মতুয়াদের

রক্তিম দাশ, কলকাতা: সিএএ কবে কার্যকর হবে? একুশের ভোটের আগে এই প্রশ্নে সরব হল বাংলার মতুয়া সম্প্রদায়। বাংলাদেশ থেকে আসা শরনার্থীদের জন্য মোদি সরকারের সংসদে পাশ করা রক্ষাকবচ সিএএ কবে থেকে বাংলা সহ দেশজুড়ে প্রয়োগ করা শুরু হবে তা নিয়ে এবার প্রশ্ন তুলেছেন মতুয়ারা।

এদিকে সামনে একুশের ভোট। তার আগে নাগরিকত্ব ইস্যুকে সামনে রেখেই গেরুয়া শিবির বাংলার মতুয়া এবং উদ্বাস্তু ভোট নিজেদের দিকে টেনে এনে তৃণমূলের ভোট ব্যাঙ্কে ধস নামিয়েছিল গত লোকসভা ভোটে।

এখন একুশের নির্বাচনের আগে এই আইন বাস্তবায়ন না হলে তা কতটা ধরে রাখা সম্ভব হবে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমানসে।

নাগরিকত্ব ইস্যুকে সামনে রেখে উত্তর ২৪ পরগণার বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সাংসদ হয়েছিলেন অলইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপাতি শান্তুনু ঠাকুর। সেই শান্তনু ঠাকুরের গলায়ও হতাশার সুর। তিনি বলেন, ‘সিএএ সংসদেও পাশ হওয়ার পর এখন এটা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। কেন্দ্র যদি এটা বাস্তবায়ন করে তাহলেই এটা হবে না হলে হবে না। এমতঅবস্থায় আমি কোনও জায়গা থেকে আশ্বস্ত হতে পারছি না। আমি সমস্ত মতুয়া এবং উদ্বাস্তু মানুষদেরও কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম। আমার রাজনীতি করার মূল উদ্দেশ্য ছিল. এই সিএএ বিল। যেটা কেন্দ্রীয় সরকার পাশ করল। এটা প্রয়োগের লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি না। আমি সংসদে ১০ টা বক্তৃতা দিলে তার মধ্যে ৮টা দিয়েছি এই ইস্যুতে।’

শান্তনু বলেন,‘ এরকম যদি চলতে থাকে তবে আমি যাদেও কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম। তাঁদের আমি কি বলব? কিছুতো তাঁদের বলতে হবে। আমি নির্বাক। আমার কোনও বক্তব্য নেই। সেদিন যাঁরা আমাকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছিলেন। তাঁরা আমায় যে নির্দেশনা দেবে তা নিয়েই আগামী দিনে চলব এটাই আমি ঠিক করেছি। আশা দিয়ে আশাভঙ্গ হলে মানুষ আমায় কি বলবে? আমার নিজেকে অপরাধী বলে মনে হবে না? ’

সিএএ যদি না হয় একুশের ভোটে তার প্রভাব পড়বে বলেই মনে করেন শান্তনু ঠাকুর। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই পড়বে। তবে আমি এটা বলব না কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষে যাবে। সেটা মতুয়াদের পকেটেই ঢুকবে।’

উদ্বাস্তু আন্দোলনের নেতা তথা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অম্বিকা রায় বলেন,‘ বিল পাশের পর ৬ মাসের মধ্যে তাকে আইনী রূপ দিয়ে প্রয়োগে যেতে হয়। এক্ষেত্রে কোভিটজনিত কারণে তা হয়নি বলেই মনে হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এরজন্য অতিরিক্ত তিনমাস সময় নিয়েছেন। তা এখনও শেষ হয়নি। কেন্দ্র সরকার এই বিল পাশ করতে গিয়ে যে ধরণের বাধার মুখে পড়ে শক্ত হাতে তা মোকাবিলা করে সিএএ-কে সংসদে পাশ করেছেন তাতে আমি এখনও আশাবাদী।’

আরও পড়ুন:আজ হাথরস কাণ্ডের শুনানি, কড়া নিরাপত্তায় এলাহাবাদ আদালত চত্বর

তিনি বললেন,‘ যদি এই বিল আইনে রূপায়িত না হয়,তবে উদ্বাস্তুরা আশাহত হবেন। মনে রাখতে, বাংলায় বিজেপি ১৮ লোকসভা আসনে জেতবার পিছনে সিএএ বড় ফ্যাক্টর হিসাবে কাজ করেছিল। এখন পিছিয়ে আসলে বিজেপির পক্ষে তা মঙ্গলজনক হবে না। এটাকে গুরুত্ব দিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এর সিএএ-ও প্রয়োগের কাজ শুরু করতে হবে। আর তা না হলে, যতদিন যাবে মতুয়া এবং উদ্বাস্তুরা হতাশ হয়ে বিজেপির প্রতি আস্থা হারাতে শুরু করবেন। যাঁর সুযোগ বিরোধীরা নেবেন। আর একটা বড় বিষয় হচ্ছে, দেরি করলে একুশে বিধানসভা ভোটের দিন ঘোষণা হয়ে গেলে নির্বাচনী বিধি চালু হয়ে গেলে এই আইন প্রয়োগ করা বিশ বাও পিছিয়ে যাবে।’

 

Related Articles

Back to top button
Close