fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আমফানে বিধ্বস্ত নন্দীগ্রাম স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে কবে, প্রতীক্ষায় সাধারণ মানুষ

রাজকুমার আচার্য, নন্দীগ্রাম (পূর্ব মেদিনীপুর ): আমফান সুপার সাইক্লোন বিধ্বস্ত করে গেছে নন্দীগ্রামকেও। হলদি নদীর তীরবর্তী এই জনপথ বাসিন্দারা হারিয়ে ফেলেছে তাদের স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ। ঝড়ের তান্ডবের পর এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও বিধ্বস্ত জন জীবন। জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরবে করে সেই প্রতীক্ষায় সাধারণ মানুষ।

এই ঝড়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অগণিত সবুজ গাছগাছালি। বড় বড় অনেক গাছ লোপাট হয়ে গেছে। বিদ্যুতের খুঁটির কোনও অস্তিত্ব নেই। মাঠে এখনও জমে আছে জল। এক সঙ্গে এত সংখ্যক গাছ পড়ে যাওয়ার সব গাছ কেটে পরিস্কার করা সম্ভব হয়নি এখনও। পুকুরে, খালে, মাঠের জলে পড়ে থাকা গাছের পাতা পচে গেছে। বাতাসে পচা পাতার গন্ধ। বহু রাস্তায় এখনও বিপদজনকভাবে গাছের অংশ ঝুলে আছে। ঝুলে আছে বিদ্যুতের খুঁটি ও তার।

যেভাবে সবুজ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে তা আগামী ২৫ বছরেও পূরণ করা সম্ভব হবে না বলে এলাকার মানুষদের আশঙ্কা। পঞ্চায়েতের উদ্যোগে লাগানো রোড সাইড ট্রি নন্দীগ্রামে প্রচুর পরিমাণে ছিল। এক কথায় সবুজে মোড়া ছিল নন্দীগ্রাম। ঝড়ে বিধ্বস্ত সেইসব গাছ বেশ কিছু এলাকায় চুরি হয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ।

করোনার দাপটে সবাই আতঙ্কিত তার উপর ঝড়ের দাপটে এখনও অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে থাকায় চরম বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষ। এক সপ্তাহ কেটে গেছে, প্রশাসনের পক্ষে জানানো হচ্ছে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সব গ্রামে যথাযথভাবে বিদ্যুত পৌঁছে যাবে। কিন্তু আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে সব জায়গায় বিদ্যুৎ পৌঁছান প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন এলাকার মানুষ। কারণ ভেতরের গ্রামগুলোতে অধিকাংশ বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে। মাঠে মধ্যে ভেঙে পড়ে আছে খুঁটি। মাঠে জমে আছে জল।

বিদ্যুৎ সরবরাহ না-থাকার কারণে চরম সংকট পাণীয় জলের। গ্রামে এখন সাবমার্সেবলের মাধ্যমে মাটির নীচ থেকে জল তুলে রিজার্ভ করে রাখা হয়। সেখান থেকে জল সংগ্রহ করেন গ্রামের লোকজন। বিদ্যুৎ না থাকায় এই জল তোলা ব্যাহত হচ্ছে। গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে জল তোলার কথা বলা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অনেক কম বলে অভিযোগ। কোথাও কোথাও এলাকার মানুষরা চাঁদা তুলে জল তোলার ব্যবস্থা করছেন। সব মিলিয়ে বিপর্যস্ত নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষ। তাঁরা প্রতীক্ষায় কবে ফিরবে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ।

Related Articles

Back to top button
Close