fbpx
একনজরে আজকের যুগশঙ্খকলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

কোথায় করোনা বিধি? লোকাল ট্রেনে ঠাসা ভিড়, প্রমাদ গুনছেন চিকিৎসকরা

নিজস্ব প্রতিনিধি: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা অনুযায়ী রবিবার থেকে রাজ্যে চালু হল লোকাল ট্রেন পরিষেবা। করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের শঙ্কার মধ্যেই রবিবার চাকা গড়াল লোকালের। রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা ছিল ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে লোকাল চলবে। বাস্তব ছবিটা বলছে নির্দেশিকা মানা যায় নি, যদিও রেল কর্তৃপক্ষের চেষ্টার কমতি ছিল না। এমনকী অনেক স্টেশনে রেল পুলিশ দরজায় ভিড় করা যাত্রীদের নামিয়েও দিয়েছে। তবে সব স্টেশনে লোকাল ট্রেন চললেও, আদ্রা ডিভিশনের ছবিটা একেবারেই অন্যরকম। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, এখনও পর্যন্ত রাজ্যের তরফে আদ্রা ডিভিশনের ডিআরএমের কাছে কোনও নির্দেশিকা না এসে পৌঁছনোয় লোকাল ট্রেন চালানো হয়নি। তার ফলে ক্ষুব্ধ বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার  মানুষ।

রবিবার লোকাল ট্রেন চালু হওয়ার পরই একেক জায়গায় ধরা পড়ল একেক রকমের ছবি। ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে লোকাল ট্রেন পরিষেবা চালু হওয়ার প্রথম দিনই সোনারপুর স্টেশনে বাদুড়ঝোলা ভিড় চোখে পড়ল। কেউ কেউ দূরত্ববিধি না মেনেই বসে পড়লেন ক্রস চিহ্ন দেওয়া আসনে। তাঁদের সাফাই, নির্দেশ যথাযথভাবে মানতে হলে সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে সমস্যা হবে। বারাসতে দেখা গেল সেই পুরনো ছবি। বনগাঁ লোকালে রবিবারও তিল ধারণের জায়গা নেই। একই ছবি হাসনাবাদ লোকালেও। কামরার ভেতর থিকথিকে ভিড়। হাওড়া স্টেশনেও ধরা পড়ে ভিড়ের ছবি। চলন্ত ব্যান্ডেল লোকালে উঠতে গিয়ে পড়ে যান এক প্রৌঢ়। কাটোয়া স্টেশনে আবার ভিড় কম। লোকাল ট্রেন চালু হওযায় খুশি শিয়ালদা দক্ষিণ শাখার যাত্রীরা। এর আগে যাতায়াত করার ক্ষেত্রে ট্রেনের জন্য দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হত তাঁদের। লোকাল ট্রেন চালু হতেই টিকিট কাউন্টারগুলিতে বাড়ছে ভিড়। এমনই ছবি দেখা গেল গড়িয়া ষ্টেশনে।

রবিবার বেশিরভাগ অফিস বন্ধ। তার ফলে যাত্রীসংখ্যা কিছুটা কম। সোমবার সপ্তাহের প্রথম কর্মব্যস্ত দিন। সেদিন লোকাল ট্রেনে যাত্রীসংখ্যা আরও বেশ অনেকটাই বাড়বে। সেক্ষেত্রে কর্মব্যস্ত দিনগুলিতে কীভাবে রাজ্যের নির্দেশিকা মানা হবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রায় সকলেই। ভিড়ের ছবি কিছুটা হলেও আতঙ্ক বাড়াচ্ছে বিশেষজ্ঞদের। তাঁদের দাবি, এভাবে লোকাল ট্রেনে ঠাসা ভিড়ে যাতায়াত করলে সংক্রমণ বিরাট আকার ধারণ করতে পারে। সেক্ষেত্রে সংক্রমণ এড়াতে খুব প্রয়োজন ছাড়া লোকাল ট্রেনে যাতায়াত না করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। ট্রেনে চড়লে মাস্ক ব্যবহারের উপরেও জোর দিচ্ছেন তাঁরা। যদিও এদিন অনেক যাত্রীর মুখেই মাস্ক দেখা যায়নি।

পূর্ব রেল ও দক্ষিণ পূর্ব রেল চেষ্টার কসুর করেনি। কারশেডে ট্রেনের কামরা, হ্যাণ্ডেল, রড স্যানিটাইজ করা হয়েছে। বসার আসনে দূরত্ব রাখার জন্য ক্রস চিহ্ন আঁকা হয়েছে। যদিও বহু যাত্রীই নিয়ম মানেননি। তাঁদের সাফাই, ‘অত নিয়ম মানতে গেলে লোকালে চাপা যায় না।’ যেমন স্টেশনে অপেক্ষারত যাত্রীদের সাফাই, ‘সামনে দিয়ে ট্রেন চলে যাবে, দাঁড়িয়ে দেখব নাকি?’ রেলের তরফ থেকে অবশ্য মাইকিং করা হচ্ছে, খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ট্রেনে চড়বেন না। মানুষের শুভবুদ্ধির উপর ভরসা করছেন রেল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সাধারণ মানুষ আছেন নিজের তালেই। অনিয়মকেই নিয়ম বলে ধরে নিয়েছেন তাঁরা।

Related Articles

Back to top button
Close