fbpx
একনজরে আজকের যুগশঙ্খকলকাতাহেডলাইন

তৃণমূলের রাডারে আর কারা, চিন্তায় বঙ্গ বিজেপি

রক্তিম দাশ, কলকাতা: একুশের নির্বাচনে ভরাডুবির পর গেরুয়া শিবিরে এখন কালো মেঘের ছায়া। একের পর এক নেতা-কর্মী থেকে বিধায়ক,সাংসদরা বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে আশ্রয় নিচ্ছেন। দলত্যাগের এই খেলায় চিন্তিত মুরলিধর সেন লেনের কর্তারা। তাঁদের কপালের চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হয়েছে। প্রকাশ্যে এই চলে যাওয়ার বিষয়টিকে আমল না দিলেও, তৃণমূলের রাডারে আর কতজন পদ্মশিবিরের টার্গেটে রয়েছেন এখন সেই চিন্তাই ভাবাচ্ছে বঙ্গ বিজেপিকে।

দল ভাঙানোর এই খেলার কারিগর বাংলার রাজনীতিতে চাণক্য বলে পরিচিতি মুকুল রায় বর্তমানে অসুস্থতার কারণে ‘সাইড লাইনে’ রয়েছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে যেভাবে বিজেপি ছেড়ে নেতা-কর্মী-বিধায়ক-সাংসদরা তৃণমূলে ভিড়ছেন, তাতে মনে করা হচ্ছে ‘ঘর ওয়াপসির’ এই খেলার নেপথ্যে মুকুলের ভূমিকা থাকলেও থাকতে পারে। বঙ্গ বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ যতই বলুন কেন, যাঁরা এসেছিলেন অন্যদল থেকে তাঁরা ফিরে গেলেও গেরুয়া শিবিরের পুরোনো নেতা-কর্মীর ঠিকই দলে থেকে যাবেন। তা কিন্তু বাস্তবে হচ্ছে না। একুশের এই ভরাডুবির মধ্যেও উত্তরবঙ্গে ভাল ফল করলেও দল ছেড়েছেন খোদ আরএসএস থেকে দলে আসা দীর্ঘদিনের স্বংয়সেবক আলিপুরদুয়ার জেলার সভাপতি গঙ্গপ্রসাদ শর্মা।

দলত্যাগের ক্ষেত্রে বিজেপির মধ্যে একটা অদ্ভুত ট্রেন্ড লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাবুল সুপ্রিয়র মতো অনেকেই গেরুয়া শিবির ত্যাগ করার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত কট্টর তৃণমূল বিরোধিতা করে পরের দিনই তৃণমূলে চলে গিয়েছেন। আর ঠিক এই জায়গাটাতেই সমস্যায় পড়েছে বঙ্গ বিজেপি। কে দলে ওপর ওপর থেকেও, গোপনে তৃণমূল শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশায় মুরুলিধর সেন লেনের কর্তারা। কাউকেই আর বিশ্বাস করা যাচ্ছে না। এমনটাই বললেন বঙ্গ বিজেপির এক শীর্ষ নেতা। তাঁর মতে, এভাবে চলতে থাকলে অবস্থা এমনও হতে পারে বিজেপি বিধানসভায় বিরোধী দলের তকমা হারিয়ে ফেলতে পারে। আর তা যদি সত্যিই হয়, তাহলে চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের আগে গেরুয়া শিবিরের কাছে তা হবে সবচেয়ে বড়ো ধাক্কা।

বঙ্গ বিজেপির এই চিন্তার পিছনে যথেষ্ট কারণও আছে। একুশের ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের একাধিক শীর্ষনেতা দাবি করে আসছেন, প্রায় ৫০ জন বিজেপি বিধায়ক তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। ঠিক এরকম কথাই উনিশের লোকসভা ভোটের আগে তৎকালীন তৃণমূল ত্যাগ করে বিজেপিতে আসা মুকুল রায়ও বলা শুরু করেছিলেন। তাঁর কথার ভিত্তিতেই বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতারাও একই কথা বলতেন। কিন্তু একুশের ভোটে পাশার দান উলটে গিয়ে খোদ মুকুল রায়ই এখন তৃণমূল শিবিরে চলে গিয়েছেন। বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতা রাজকমল পাঠক বলেন,‘দলবদলের এই পাশা খেলায় আমি কোনও দিনই ছিলাম না। কিন্তু দলে থাকলেই ভাল, আর চলে গেলেই খারাপ, এই মতামত আমার বোধগম্য হয় না। তাই এ নিয়ে কী আর বলব?’

এদিকে দলবদুলদের তালিকায় কারা কারা রয়েছেন তা নিয়ে তৃণমূল প্রকাশ না করলেও বিজেপির আর এক শীর্ষ নেতা বলেন,‘ মুকুল রায়ের সঙ্গে যাঁরা বিজেপিতে এসেছিলেন তাঁরা সহজে তৃণমূলে যেতে পারলেও শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আসা তৃণমূলত্যাগীদের ঘর ওয়াপসি কঠিন। কারণ খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন শুভেন্দু। আর আমাদের পুরোনো নেতা যাঁরা গিয়েছেন,আমার মনে হয় দলের মধ্যে একটা দমবন্ধকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেছেন। তাই তৃণমূলে গিয়েছেন। এক্ষেত্রে তৃণমূলত্যাগী বিজেপির থেকে বিজেপি পুরোনোদের নেওয়ার ক্ষেত্রে মমতার দল বেশি আগ্রহী বলেই মনে হচ্ছে।’ এদিকে দলবদল নিয়ে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবেরওয়াল বাবুল সুপ্রিয়র অনুগামী। তিনি বাবুলের পথে কবে হাঁটবেন? সেটা শুধু সময়ের অপেক্ষা।’ এরই মধ্যে সংঘ ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক দীপন মজুমদারে দাবি,‘চমকে যাবেন না, সৌমিত্র খাঁ, অর্জুন সিং, লকেট চট্টোপাধ্যায়, রায়গঞ্জের কৃষ্ণ কল্যাণী, খড়গপুরের হিরণও লাইনে আছেন।’

Related Articles

Back to top button
Close