fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশব্লগহেডলাইন

হাথরাস নিয়ে হৈচৈ করছে কারা

আর কে সিনহা: উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে তরুণীকে গণ-ধর্ষণ ও মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে সমগ্র দেশ। এটাই স্বাভাবিক। নির্ভয়ার দোষীরা যেমন শাস্তি পেয়েছে, হাথরাসের ধৃত অপরাধীদেরও যাতে একই ধরনের শাস্তি দেওয়া যায়, উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে এটাই প্রত্যাশিত। এই জঘন্য কুকর্মের মধ্যেও কিছু মানুষ জাত খুঁজে বেড়াচ্ছে। এটা সত্যি দুর্ভাগ্যজনক। তাঁরা নিজেদের দলিতদের শুভাকাক্ষী মনে করেন। তাঁদের মধ্যে কিছু রাজনৈতিক দল এবং বেশ কিছু সরকারিবাবুও রয়েছেন। কয়েক বছর আগেই একটি দলিত ছাত্রী ইউপিএসসি পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিল, এই বিষয়গুলি কখনই তাঁরা প্রকাশ্যে আনে না। যুবরাজ বাল্মীকির মতো দলিত ভারতের হকি টিমের হয়ে খেলেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দলিত চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার রয়েছেন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলও হচ্ছেন দলিতরা। দেশের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দও দলিত সমাজের অন্তর্গত। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতের অধ্যাপক ডা. কৌশল পওয়ার গর্বের সঙ্গে বলেন দেশের সংবিধান আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে। সংরক্ষণের দলিতদের অনেকটাই উপকার হয়েছে। অধ্যাপক ডা. কৌশল পওয়ার আরও বলেন, হাথরাসের মতো ঘটনা যেভাবেই হোক রুখতে হবে। তাঁর এই মতামত কেউ অস্বীকার তো করতে পারবে না।

কিন্তু, দুঃখের বিষয় হল-কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, রাষ্ট্রীয় লোক দল এবং অবসরপ্রাপ্ত কিছু সরকারিবাবু হাথরাসের ঘটনার অজুহাতে রাজনীতি করে চলেছেন। প্রথমেই জানতে চাই, ক্ষমতায় থাকাকালীন দলিতদের জন্য তাঁরা কী করেছেন? দলিত অথবা সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের স্বার্থে কথা বলা মোটেও ভুল নয়। তাঁদের সামাজিক, রাজনৈতিক, আর্থিক উত্থানের দাবি জানানো উচিত। কিন্তু, ওই সমস্ত দলের কাছে জানতে হবে, ক্ষমতায় থাকাকালীন দলিত, পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য তাঁরা কী করেছে? প্রকৃত সত্য হল, দলিতদের সর্বদা তাঁরা প্রতারিত করেছেন। ভোট ব্যাঙ্ক ছাড়া কিছুই মনে করেননি।

উত্তরপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের দলিতদের মধ্যে পার্থক্য

উত্তরপ্রদেশের দলিতদের সঙ্গে একবার মহারাষ্ট্রের দলিতদের তুলনা করে তো দেখুন। বর্তমানে মহারাষ্ট্রে হাজার হাজার দলিত যুবক সফল উদ্যমী হয়ে উঠেছেন। সেখানকার দলিতদের জীবনে দ্রুত পরিবর্তন আসছে। চাকরি থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কোথাও নিজেদের জন্য সংরক্ষণের আকাঙ্খা রাখেন না তাঁরা। বিজনেসের দুনিয়ায় নিজেদের সম্মানজনক স্থান তৈরি করে নিচ্ছেন তাঁরা। সফল উদ্যোগপতি হয়ে উঠছেন। সমানে সাফল্য পাচ্ছেন তাঁরা। মহারাষ্ট্রের দলিতরা তো ফিক্কি, অ্যাসোচেম, সিআইএ-এর ভিত্তিতে নিজেদের মজবুত সংগঠনও তৈরি করে ফেলেছে। ওই সংগঠনের নাম ‘দলিত ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’। এই সংগঠনে অধিকাংশই মহারাষ্ট্রের দলিত উদ্যোগপতি রয়েছেন।

আরও পড়ুন:“আমি অরূপ বিশ্বাসের ‘ভাইপো’,তোমার সঙ্গেও ‘এনজয়’ করতে পারি” মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে উঠতি মডেলদের কুপ্রস্তাব, গ্রেফতার যুবক

সরকারকে কেন আক্রমণ করছেন সরকারি বাবুরা

দেখা যাচ্ছে বেশ কিছু অবসরপ্রাপ্ত সরকারিবাবুরাও সরকারকে আক্রমণ করছেন। হাথরাস গণ-ধর্ষণ মামলায় ৯২ জন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস এবং আইপিএস অফিসাররা মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে চিঠি লিখেছেন। সরকারের বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ এনেছেন তাঁরা। হাথরাস নির্যাতিতাকে যেনতেন প্রকারেণ সুবিচার দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁরা। ওই চিঠি যাঁরা পাঠিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অশোক বাজপেয়ী, বজাহত হাবীবুল্লাহ, হর্ষ মন্দর, জুলিও রিবেইরো, এন সি সাক্সেনা, শিবশঙ্কর মেনন, নজীব জং, অমিতাভ পান্ডে প্রমুখ। আপনারা একটু খেয়াল করুন, এই সমস্ত অফিসাররা দিল্লি হিংসায় কথিত ‘গড়বড়’ থেকে হাথরাসের ঘটনাতেও দ্রুত চিঠি লিখে ফেলেন।

দিল্লি, নয়ডা, অথবা দেশের প্রধান শহরে বসবাসকারী এই সমস্ত অবসরপ্রাপ্ত অফিসারদের মধ্যে জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনের প্রাক্তন সভাপতি বজাহত হাবীবুল্লাহ, দিল্লির প্রাক্তন উপ-রাজ্যপাল নাজিব জং, সর্বদা মোদী সরকারের নিন্দা করা হর্ষ মন্দর, মহারাষ্ট্র ও পঞ্জাব পুলিশের প্রাক্তন ডিরেক্টর জেনারেল জুলিও রিবেইরো, প্রাক্তন বিদেশ সচিব শ্যাম সরন, পুরস্কার ফিরিয়ে দেওয়া গ্যাংয়ের প্রধান অশোক বাজপেয়ী, অমিতাভ পান্ডে এবং প্রসার ভারতীর প্রাক্তন সিইও জওহর সরকার প্রমুখ রয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকেরই বামপন্থী এবং ইসলামাবাদের ইতিহাস সবার জানা।

মন্দর সাহেবকে তো গোটা দেশ ভালো করেই জানে। শাহিনবাগের আন্দোলনকারীদের সম্বোধিত করে তিনি বলেছিলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট অথবা সংসদ থেকে আমাদের আর কোনও আশা নেই। আমাদের এবার রাস্তায় নামতে হবে।’ মন্দরের বিতর্কিত এই ভাষণ বহু মানুষ শুনেছিলেন। টিভি চ্যানেলেও সম্প্রচারিত হয়েছিল। সংসদ অথবা সুপ্রিম কোর্টের কাছে যখন তাঁর কোনও ভরসা নেই, তাহলে তিনি ঝটপট সরকারকে কেন চিঠি লিখে ফেলেন? পুরস্কার ফিরিয়ে দেওয়া গ্যাংয়ের প্রধান হলেন অশোক বাজপেয়ী। তাঁকেও একটি প্রশ্ন করতে চাই, সাধারণ পাঠক কী তাঁর লেখনি সম্পর্কে অবগত? মোটেও না। এটাই তাঁর সব থেকে বড় অসফলতা।

আরও পড়ুন:ফের উত্তপ্ত উপত্যকা, টপ কমান্ডার সহ খতম তিন জঙ্গি

মনে রাখবেন, মহারাষ্ট্রে সাধুদের নির্মমভাবে যখন হত্যা করা হয়েছিল, তখন এঁরা মোটেও দুঃখিত হয়নি। মহারাষ্ট্র সরকারকে তখন একটা প্রশ্নও তাঁরা করেননি। জুলিও রিবেইরোও কোনও প্রশ্ন করেননি। তাঁর রাজ্যেই তো সাধুদের নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। নিজেকে মানবাধিকারবাদী দাবি করা হর্ষমন্দরও মুখে কুলুপ এঁটেছেন। সাধুদের হত্যা নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি তিনি। প্রশ্ন হল, আপনারা কী সত্যের পাশে রয়েছেন? যদি এমনটাই হত তাহলে এই সমস্ত সরকারি বাবুদের চিঠিতে কারও অসুবিধা কেন হত? দেশে হাথরাসের মতো ঘটনা ফের ঘটুক তা কে চাইছে? এই ধরনের ভয়াবহ ও নক্ক্যরজনক ঘটনাকে কোনও সরকারই সমর্থন করবে না। প্রতি সরকার নিজেদের কাজ ও নিয়ম অনুযায়ী চলে। সর্বদা সরকারকে আক্রমণ করা ঠিক নয়। সরকারি প্রকল্প অথবা কাজ নিয়ে যদি কোনও ত্রুটি থাকে তাহলে অবশ্যই সরকারকে আক্রমণ করুন। কিন্তু, বিনা তথ্যে সরকারকে আক্রমণ করার অর্থ, আপনাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠে যায়। যেহেতু রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে, তাই মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ হাথরাস মামলার তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

(লেখক প্রবীণ সম্পাদক, কলামিস্ট এবং প্রাক্তন সাংসদ)

(মতামত নিজস্ব)

Related Articles

Back to top button
Close