fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশব্লগহেডলাইন

বেঙ্গালুরুকে কে জ্বালালো!

রবীন্দ্র কিশোর সিনহা: ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি শহর বেঙ্গালুরুর কিছু এলাকায় গত মঙ্গলবার সামান্য বিষয়ে যেভাবে সাম্প্রদায়িক হিংসায় উস্কানি দেওয়া হয়েছে, ওই হিংসাত্মক ঘটনার দোষীরা যাতে বাঁচতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত যাতে ভবিষ্যতে কেউ এই ধরনের হিংসা করার কথা ভাবতেও না পারে। বেঙ্গালুরু হিংসায় কিছু নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, নির্দোষ মানুষ আহত হয়েছেন, সরকারি সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সমগ্র বিশ্বে এই হিংসা সম্পর্কে ভুল বার্তা গিয়েছে। বেঙ্গালুরুতে লক্ষ লক্ষ বিদেশি পেশাদার থাকেন। একটু ভেবে দেখুন, বেঙ্গালুরুতে এই হিংসার কারণে তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের মনে কেমন ধারণা তৈরি হয়েছে। বেঙ্গালুরুর মতো আধুনিক শহরে দুষ্কৃতীরা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে, এমনকী এটিএম-এ ভাঙচুর চালিয়েছে। কংগ্রেস বিধায়কের বাড়িতেও তারা হামলা চালিয়েছে। আসলে কংগ্রেসের বিধায়ক অখণ্ড শ্রীনিবাস মূর্তির একজন আত্মীয় নবী মহম্মদ সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিজনক মন্তব্য পোস্ট করেছিলেন, এরপরই পরিকল্পনামাফিক হিংসা শুরু হয়।

আরও পড়ুন:বাবার মৃত্যু…মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার নিয়ে একগুচ্ছ প্রশ্ন তুললেন শ্যামল চক্রবর্তীর কন্যা ঊষশী

প্রশ্ন হল, তাহলে কী ভারতে কোনও বিষয়ে বিরোধিতার জন্য হিংসার পথই বেছে নেওয়া হবে? বিতর্কিত পোস্টের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া যেতেই পারত। আইন নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। বেঙ্গালুরুর সাম্প্রতিক ঘটনা এটাই জানান দিচ্ছে যে, ভারয়ে ধর্মীয় ভাবাবেগ ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। নিজেদের কট্টর মুসলমান দাবি করা মানুষজন কথায় কথায় রাস্তায় নেমে পড়েছেন। ধর্মের নামে হিংসা ছড়াচ্ছেন তারা। ইসলামিক কট্টরপন্থীদের আচরণ সম্পর্কে ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা নীরব, যা আরও ভীতিজনক। তাঁরা আচমকাই লুকিয়ে পড়েছেন। কট্টরপন্থীরা যেভাবে হিংসা ছড়িয়েছেন, তা কী নিন্দা করা উচিত নয়?

বেঙ্গালুরুতে কট্টরপন্থীরা নিন্দার নামে গরিব বস্তিতে বসবাসকারী সাধারণ মুসলমানদের উস্কানি দিয়েছে। ফলে ক্ষুব্ধ জনতা ব্যাপক ভাঙচুর করেছে। পুলিশ মধ্যস্থতা করলে পুলিশ কর্মীদের উপরও হামলা চালানো হয়। হিংসাত্মক ঘটনায় আহত হয়েছেন ৬০ জন পুলিশ কর্মী। এটা সত্যিই উদ্বেগের বিষয়। ধর্মনিরপেক্ষ মানুষজন এবার বলুন আপনারা কেন চুপ করে আছেন? এই তথাকথিত বামপন্থীদের কারণে, এই সমস্ত মানুষজনকে লজ্জিত হতে হয়, যাঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু চিন্তাভাবনা নিয়ে লড়াই করেন। এরা সত্যিই নির্লজ্জ।

মনে রাখুন তোষণের রাজনীতি খুব শীঘ্রই শেষ হবে না, কারণ কিছু স্বার্থপর রাজনীতিবিদরা এটিকে কাজে লাগান। যতক্ষণ না পর্যন্ত কঠোর আইন আসবে এবং তোষনের বিরুদ্ধে সমস্ত বিরোধী দলগুলি মুখ খুলবে, ততক্ষণ বেঙ্গালুরুর মতো হিংসা হতেই থাকবে। দেশের মুসলমানদের একটি অংশও এখান তালিবানি চিন্তাভাবনা নিয়ে ভাবছে। সম্প্রতি রাম মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময় তারা প্রকাশ্যেই বলেছিল, সময় আসলে আমরা সেখানে ফের মসজিদ তৈরি করব। একটু ভাবুন রাম মন্দির এখনও তৈরি হয়নি, এরই মধ্যে মন্দির ভেঙে ফেলার এবং বোমা দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এটা কী গণতন্ত্র? তথাকথিত লুটিয়েন গ্যাং এখন কেন নীরব? লেখকরা এখন কেন নিজেদের পুরস্কার ফিরিয়ে দিচ্ছেন না অথবা মোমবাতি মিছিল করছেন না? নির্লজ্জ বুদ্ধিজীবীরা শুধুমাত্র কী দেশকে অপমানিত করার কাজ করে চলেছে? কিন্তু কতদিন?

আরও পড়ুন:স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চে দাঁড়িয়েই চিন-পাকিস্তানকে কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

মনে রাখবেন নিজেদের আরাধ্য দেবতার অপমান কেউ সহ্য করতে পারে না। কিন্তু কেন এমনটা করেন? এটা তাঁদের সমস্যা। নিজেদের রসুলের স্বার্থে কোনও কিছু তারা বরদাস্ত করেন না। এজন্য তারা নিজেদের জীবন দেবেন অথবা অন্যদের প্রাণও কেড়ে নেবেন। সরকার ও আইনের পরোয়া করেন না তারা। নিজেদের রসুলকে ভগবানের থেকেও বেশি ভালোবাসেন তারা। কাউকে ভালোবেসে তারা যদি ফুলও দেয়, তাহলে বলবে আমি আল্লাহ ও রসুলের পর আপনাকে ভালোবাসি। কারও পরোয়া করে না তারা। ভালো আলোচনা তারা বরদাস্ত করতে পারে না। শিক্ষা, কর্মসংস্থানের দাবিতে তারা কখনও রাস্তায় নামে না। কিন্তু, ধর্মের নামে আগুন ধরিয়ে দিতে প্রস্তুত।

যাইহোক, বেঙ্গালুরুতে যারা দাঙ্গায় উস্কানি দিয়েছে তাদের কোনও পরিস্থিতিতে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। তাদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত। দাঙ্গা ও হিংসার কারণে দেশের স্বচ্ছ ভাবমূর্তিতে দাগ লেগে গিয়েছে।

প্রমাণ মিলছে যে, বেঙ্গালুরুতে পরিকল্পনামাফিক হিংসা চালানো হয়েছে। তা নাহলে এত দ্রুত কীভাবে দাঙ্গা বড় আকার ধারণ করতে পারে। বেঙ্গালুরুতে সমস্ত ধর্মের মানুষ একসঙ্গে থাকেন। আচমকা এই সুখের বাতাবরণে কে নজর দিল? বেঙ্গালুরু পুলিশকে অবশ্যই প্রশংসা করতে হবে, অন্যত্র হিংসা ছড়িয়ে যেতে দেননি তাঁরা। এটা পুলিশের বড় সাফল্য। দাঙ্গাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করতে হবে এবং উচিত শিক্ষা দিতে হবে।

Related Articles

Back to top button
Close